দলীয় সরকারের নির্বাচন হলে আবারও তা বর্জন, বিএনপি শীর্ষ নেতাদের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৭ | আপডেট: ১০:১৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৭
দলীয় সরকারের নির্বাচন হলে আবারও তা বর্জন, বিএনপি শীর্ষ নেতাদের

দলীয় সরকারের নির্বাচন হলে আবারও তা বর্জনের সিদ্ধান্ত কথা হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে। দাবি পূরণ না হলে আবারও ২০১২-১৩ সালের মতো আন্দোলনে যেতে পারে দলটি। তবে এই বার্তা এখনও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পৌঁছেনি।
অবশ্য আওয়ামী লীগ মনে করে, নিজেদের বৈঠকে জোট নেতারা যাই বলুন না কেন, নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে যাওয়ার অবস্থা বিএনপির নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন এর আগেও এক দফা ব্যর্থ হয়েছে। সরকার কেন তবে এই দাবি মেনে নেবে, সে প্রশ্নের জবাব নেই জোট নেতাদের কাছে। আবার দাবি আদায়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট ধারণা নেই তাদের কাছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একাধিক নেতা ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন, গত বুধবার জোটের বৈঠকে তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শরিক দলের নেতাদেরকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে শরিক দলের নেতারাও একই কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে আসছি দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। এখনও সেই অবস্থানে আছি।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির আগ্রহী নেতারা গত কয়েক মাস ধরেই এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। আবার বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে সহায়ক সরকারের দাবি সামনে নিয়ে আসা, নির্বাচনকে সামনে নিয়ে নানা দাবি তোলা দলটির আগামী নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ একাধিক আলোচনায় নেতা-কর্মীদেরকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন, বলেছেন যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা ভোটে যাবেন।

তবে এর মধ্যে জোটের নেতাদের বৈঠক পরিস্থিতি পাল্টে দেয় অনেকটাই। ওই বৈঠকে ২০১৪ সালের মতোই আবারও কঠোর অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোট নেতারা।

এ বিষয়ে আহমদ আযম খান বলেন, ‘এটাকে কঠোর অবস্থান বা নরম অবস্থান বলা যাবে না। চেয়ারপারসন আমাদের অবস্থান জানিয়েছেন। এখন সময় আছেম এর মধ্যে সরকার দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দেখার আছে। আর সেটা না করলে বিকল্প হলো আন্দোলন।

কিন্তু দুই দফা আন্দোলন করে খালি হাতে ঘরে ফেরা বিএনপির পক্ষে সরকারকে কি টলানো সম্ভব হবে? আহমদ আযম খান বলছেন, ‘অতীতে বিএনপির আন্দোলন সরকার ব্যর্থ দাবি করলেও আমরা মনে করি সফল হয়েছি। কারণ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল দলীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই আমাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নেই এমন দাবি করার সুযোগ কোথায়?’।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও তার শরিকরা। কিন্তু তাদের সহিংস আন্দোলনের মুখেও ওই বছরের ৫ জানুয়ারি দেশের ১৫৭ নির্বাচনী এলাকায় ভোট নেয়া হয়। আর তার আগেই ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান। আর ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশে বিরোধীদের বর্জনের মুখে এর আগেও নির্বাচন হয়েছে তিন বার। প্রথমবার ১৯৮৮ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলোর বর্জনের মুখে নির্বাচন হয়। কিন্তু ভোটের পর জাতীয় পার্টির সরকার টিকতে পারেনি দুই বছরও।

১৯৯৬ সালের ১৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে নির্বাচন করে বিএনপি। তাদের সরকারও টিকতে পারেনি, দুই সপ্তাহের আগেই আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগও বেশিদিন টিকতে পারবে না বলে আশা ছিল বিএনপির।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সরকার দেশ পরিচালনা করতে থাকে স্বাভাবিকভাবেই। আর নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনের ডাক দেন বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী।

এবারও সহিংস আন্দোলনের মুখে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশল নেয়া হয়। কিন্তু আগেরবারের মতোই ব্যর্থ হয় এই আন্দোলন। আর বিএনপি অনেকটাই নমনীয় অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়।

এর মধ্যে ২০১৬ সালের শেষের দিকে খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে একটি রূপরেখা নিয়ে হাজির হন। সেদিন তিনি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়ার কথা জানান।