২০ নম্বরকে মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তিত করবেন, এসএম জাকির

এইচ. এম ইমরান এইচ. এম ইমরান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১১:অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৮

আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থিদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করলেও জটিল সমিকরণ রয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে মিশে থাকায় কাউন্সিলরদের সাথে যেমন ভোটারদের আবদারের অন্ত নেই তেমনি রাজনৈতিকভাবেও আশ্রয়ের কেন্দ্রস্থল কাউন্সিলররা। ফলে বিসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলরদের নিয়ে আলাদা হিসেব নিকেশ কষতে শুরু করেছেন নগরবাসী।

শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় না পাশাপাশি কৃতকর্মও অধিক গুরুত্ব পায় কাউন্সিলরদের জন্য। আর সে কারণে কাজ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে প্রার্থীকে এগিয়ে যেতে হয়। তেমনি অবস্থা নগরীর মডেল ওয়ার্ড খ্যাত ২০ নং ওয়ার্ডে।এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এসএম জাকির হোসেন।

স্থানীয়দের বিবেচনায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন উঠে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।ক্ষমতার গত ৫ বছরে তিনি ওয়ার্ডটিতে আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়েছেন। এসএম জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দের বাইরেও নিজস্ব অর্থায়নে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে ২০ নম্বরকে মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তিত করেন।

জানা গেছ, ওয়ার্ডটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এনেছেন জাকির। কলেজ এভিনিউ রোড ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজে ফ্রি-ওয়াই-ফাই সুবিধা দিয়েছেন। এই সুবিধা দিয়ে তিনি ওয়ার্ডে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাছাড়াও ওই ওয়ার্ডের খ্রিস্টান কলোনীর ৪০ বছর ধরে ঝুলতে থাকা ড্রেনেজ সমস্যা দূর করেছেন। সেই সাথে ওয়ার্ডটি আলোকিত করেছেন এলইডি বাতি দিয়ে।

যদিও বাতিগুলো শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই জ্বলার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বিশেষ অর্থায়ন ও বুদ্ধিমত্তায় তিনি সকলের আগে তার ওয়ার্ডে জ্বালিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের অন্তত ১০ টি ছোটবড় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করেছেন।

জলবদ্ধতা রোধে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটি তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। যে কারণে এবারের সিটি নির্বাচনেও তাকে নিয়ে ভাবছে ওয়ার্ডবাসী।

একাধিক ভোটাররা জানিয়েছেন, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অবস্থান ২০ নম্বর ওয়ার্ডে হওয়ায় এখানের অধিকাংশ নাগরিক বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। ফলে এখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। সেই সমস্যা রোধে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সভা করে পাল্টে দিয়েছেন অপরাধপ্রবণ এলাকাটি।যে কারণে তার জনপ্রিয়তা বেশি বলে অনুমেয়।

ওয়ার্ডের ভোটার সুমন হোসেন জানান, ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজসহ মাদক ব্যবসা নির্মূল করার লক্ষে এসএম জাকির এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে দীর্ঘ দিন যাবত নিরলসভাবে কাজও করছেন তিনি। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তিনিই যোগ্য কাউন্সিলর বলে মনে করেন ওই এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাই তিনি পুণঃরায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার সাথে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন এই ব্যক্তি।

স্থানীয় অনেক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনের চেয়ে এস এম জাকির কাউন্সিলর হওয়ার পরে ওয়ার্ডে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। রাস্তা-ঘাটের অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। ওয়ার্ডবাসীর সুবিধার্থে তিনি রাস্তায় উন্নত ধরনের রোড লাইটের ব্যবস্থা করেছেন। ওয়ার্ড থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসা নির্মূল করেছেন।

এক্ষেত্রে এসএম জাকির হোসেনের ভাষ্য হচ্ছে, তিনি এলাকার রাস্তা-ঘাট, রোড লাইট, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নিমূলসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সিটি করপোরেশন থেকে ওয়ার্ডের জন্য যত উন্নয়নমূলক কাজ পেয়েছেন তা সঠিক ভাবেই ওয়ার্ডবসীকে দিয়েছেন। পূণঃরায় কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করবেন। জনগণ তাকে ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এবারও তাকে নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় বলে আশাবাদী। যে কারণে তিনি ওয়ার্ডবাসীর কথা চিন্তা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।’