লামায় মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ

মো: ফরিদ উদ্দিন মো: ফরিদ উদ্দিন

বান্দরবন জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মামলা দিয়ে সাত নিরহ গ্রামবাসীকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজ ভাই আবদুল মালেক কর্তৃক সংঘটিত চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে আবদুল খালেক বাদী হয়ে থানায় মামলা দিয়ে এ হয়রানী করার অভিযোগ করেন ভোক্তভোগীরা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্বশীলেরতুয়া এলাকায়। আবদুল খালেক কর্তৃক দায়েরকৃত মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তসহ হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

 

এদিকে আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবী করে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই আবদুল খালেক বলেন, মামলার বিবাদীরা আমার ভাইকে রাতের অন্ধকারে মারধর করায় মামলা করেছি। কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়।

 

অভিযোগে জানা যায়, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্বশীলেরতুয়াস্থ আশ্রয় প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা মৃত আমির হোসেনের ছেলে আবদুল মালেক (৩৮)সহ ২-৩ জন সংঘবদ্ধ হয়ে গত ১০ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নয়াপাড়াস্থ বেলালের বসতঘরে ঢুকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও এক জোড়া স্বর্ণের দুল নিয়ে যায়। এ সময় ঘরের লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকাজন এগিয়ে গিয়ে আবদুল মালেককে হাতে-নাতে আটক করেন। পরে উপস্থিত উত্তেজীত জনতা আবদুল মালেককে উত্তম মাধ্যম দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মৃত আজু মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৮), নুরুল কবিরের ছেলে মো. নুর নবী (৩৫) ও আহামদ নবী (৩৩), ছিদ্দিক কারবারীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), ফজু মিয়ার ছেলে নুরুল হুদা (৫৫), আক্কাছ মিয়ার ছেলে মো.নজরুল ইসলাম স্থানীয়দের কবল থেকে আবদুল মালেককে উদ্ধার করে উপাজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে আবদুল মালেকের ভাই আবদুল খালেক (২৫) বাদী হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উল্টো উদ্ধারকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ সাজিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা ন-০৭, তারিখ- ১৩/০৭/১৮ইং)।

বুধবার সরজমিন পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় মতিউর রহমান (৫৫), ছমির উদ্দিন (২৬)সহ ১০-১৫ জন গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানায়, আবদুল মালেক শুধু বেলালের ঘর নয়, গত এক বছরে স্থানীয় মুসলিম ডাক্তারের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, ওবায়দুলের ঘরে ঢুকে মোবাইল সেট, কুদ্দুছের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, হুমায়রা বেগমের বসত ঘরে ঢুকে নগদ টাকা চুরি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব চুরির ঘটনায় ভোক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরীসহ মামলাও করেন। জামিনে গিয়ে পূণরায় এলাকায় চুরির কাজে নেমে পড়েন আবদুল মালেক।

স্থানীয়রা দাবী করে আরও জানান, গত এক বছরে আবদুল মালেক কমপক্ষে এলাকায় ১২-১৩টি চুরির ঘটনা ঘিিটয়েছে। এহেন চুরির কারণে এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না লোকজন। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই গভীর রাতে নয়াপাড়ার বাসিন্দা বেলালের বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে আবদুল মালেক। পরবর্তীতে চুরির ঘটনা ঠেকাতে উল্টো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেন বলেও দাবী করেন তারা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবু তাহের বলেন, আবদুল মালেক অতীতে জনপ্রতিনিধিদের ঘর থেকে শুরু করে অনেকের বসতঘরে ঢুকে টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার চুরি করেছে। বর্তমানেও চুরি অব্যাহত রেখেছে সে। তার চুরির কারণে এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছেনা। এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস বলেন, আবদুল মালেককে মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কাজ চলছে।