লামায় উপজেলা পরিষদের পুকুরের বিষক্রিয়ায় মৃত মাছ পানিতে ভাসছে

মো: ফরিদ উদ্দিন মো: ফরিদ উদ্দিন

বান্দরবন জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

লামা উপজেলা পরিষদ পুকুরের পানি দূষিত হয়ে মাছ মরছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের নিত্যদিন ব্যবহার হয়ে আসা এই পুকুরে মৎস্য চাষের নামে রাসায়নিক খাদ্য ও সার প্রয়োগের ফলে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ব্যাবহারকারীদেরকে সতর্ক করছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুকুর ব্যবস্থাপনায় আশ পাশের জনগনের পানি চাহিদার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন।

৮০’র দশক থেকে স্থানীয় উপজাতি ও বাজারের অনেক পরিবার পানির উৎস হিসেবে উপজেলা পরিষদের পুকুর ব্যবহার করছে। এই পুকুরের পানি দিয়ে রান্না-বান্না, কাপড় ধোয়া ও অজু-গোসল সারছেন লোকজন। উপজেলা প্রশানের পেছনে মৎস্য অফিসের সম্মুখে অবস্থিত পুকুরটিতে ২১ জুলাই সকাল থেকে মাছ মরে পঁচন ধরেছে। চারদিকের গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। জুন মাসে দু’বার করে বন্যার পানি প্রবেশ ও পুকুরে ডেকোরেশনের মালামাল ধুত করায় হয়তো পানি দূষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা মৎস্য অফিসার রাশেদ পারভেজ
লামা উপজেলা পরিষদের ভাউন্ডারীর মধ্যে ২টি পুকুর রয়েছে।

 

এর মধ্যে ১টির পানি; ব্যবহার ও অজু-গোসল করছেন আশপাশের শ্ খানেক পরিবারসহ বাজার ব্যবসায়ীদের একাংশ। অপরটির দু’দিক ভাউন্ডারী, অন্য দু’দিকে নির্বাহী অফিসারের বাসভবন ও জোড়াবাড়ি হেতু ব্যবহার না হয়ে পরিত্যক্তবস্থায় আছে। পুকুরটির পশ্চিম দিকের ভাউন্ডারির কিছু অংশ ভেঙ্গে সিঁড়ি করে দেয়া হলে; এর পানি ব্যবহার করে অনেকগুলো পরিবার উপকৃত হতে পারে। অপর পাড়ে নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য ভাউন্ডারি ওয়াল করে দেয়া যেতে পারে। প্রশাসনের যে পুকুরের পানি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে স্থানীয়রা ব্যবহার ও মসুল্লিরা অজু করে আসছে; তাতে মাছের খাদ্য-রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগের ফলে পানি দূষিত-দুর্গন্ধ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুকুরটি মৎস্যজীবিদের কাছে ইজারা দেয়ার ফলে,বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের কারণে এর পানি দূষিত হয়ে পড়ার পরেও নিরোপায় প্রতিবেশিরা সে পানি ব্যবহার করছেন। এই পুকুরের পানি ব্যবহারে সাংঘাতিক ঝুঁকি রয়েছে; এমনটি হয়তো জানেন না ব্যবহারকারীরা।

 

শনিবার সকাল থেকে পুকুরে মাছ পঁচা দুর্গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত পঁচা মাছগুলো তুলে ফেলে পানি বিশুদ্ধ করণ পর্যন্ত এর ব্যাহারে স্থানীয়দেরকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি।
উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরীও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, একজন মৎস্যজীবিকে ইজারা দেয়া হয়েছে, কিন্তু রাসায়নিক খাদ্য ব্যাবহার নিষেধ করা হয়েছে। পানিতে বিষক্রিয়া কেন ছড়িয়ে পড়লো তার পরীক্ষা করা হবে। আশপাশের শতাধিক মানুষ ও কোর্ট মসজিদের মুসল্লিদের ওজু করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করণে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী জানান লোকজন। ##