স্ত্রীর মামলায় প্রেমিকাসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

এস এম জহিরুল ইসলাম এস এম জহিরুল ইসলাম

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৮

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদকে পরকীয়া প্রেমিকাসহ গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (১৮ জুলাই) রাতে গাজীপুরের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাদের গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার আদালতে তুললে বিচারক দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেফতার মাসুদ রানা এরশাদ (৩৪) গাজীপুর শহরের রথখোলা এলাকার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তার সঙ্গী মনিষা ভাদুরী মেরী (২০) দক্ষিণ ছায়াবীথির বাসিন্দা জুয়েল ভাদুরির মেয়ে। মেরী ২০১৪ সালের ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’ শিল্পীদের একজন।

মামলার বাদী মাসুদ রানা এরশাদের স্ত্রী নাজমুন নাহার রুনি (২৭)। তিনি বুধবার (১৮ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আশ্রয় নিয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মনিষা ভাদুরী মেরীর ভাই জয় ভাদুরী (২৮), তার মা রিনা আচার্য (৫০) ও গাজীপুর সদরের বাড়িয়া এলাকার কামরুল ইসলাম (৩৮)।

এজাহার ঘেঁটে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদী নাজমুন নাহার রুনির সঙ্গে পারিবারিকভাবে এরশাদের বিয়ে হয়। তখন যৌতুক হিসেবে তাকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রিমিও গাড়ি দেওয়া হয়। এই দম্পত্তির একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই এরশাদ কারণে-অকারণে রুনিকে অত্যাচার করতে থাকে। বিষয়টি এরশাদের ভাইরা সমাধানেরও চেষ্টা করেন। একসময় বাদী জানতে পারেন মনিষা ভাদুরী মেরীর সঙ্গে এরশাদের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এতে বাধা দিয়েও মারধরসহ স্বামীর নানা নির্যাতন সইতে হয় রুনির। এছাড়া তাকে তালাকের হুমকি দিয়ে মেরীকে বিয়ে করবে বলে জানায় এরশাদ। আর জয় ভাদুরী ফোন করে বাদী ও তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এরশাদকে ছেড়ে দিতে বলেন। অন্যদিকে মেরীর মা রিনা আচার্য ফোন করে সর্বক্ষণ বাদীকে গালিগালাজ ও সরাসরি প্রাণ নাশের হুমকি দিতে থাকেন।

গত ৮ জুলাই এরশাদ আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক চাইলে রুনি দিতে অস্বীকার করায় তাকে ফের শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এসময় স্বামীর লাথির আঘাতে বাদীর ৭ মাস আগের সিজারিয়ান অপারেশনের সেলাই খুলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তখন তাকে হাসপাতালে না নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে বাদীর বোন রুমা তাকে চিকিৎসকের কাছে নেন। পরে এরশাদের বন্ধু কামরুল ও মেরীর ভাই জয় বাদীকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য চাপ দিয়ে জানায় এরশাদের সঙ্গে মেরীর বিয়ে হবে। এরপর গত ১১ জুলাই পরকীয়ার জেরে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যান রুনি।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি আমির হোসেনের ভাষ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে মাসুদ রানা এরশাদ ও মনিষা ভাদুরী মেরীকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।