কাষ্টম হাউসে বিল অব এট্রি দাখিল করা বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা: দ্বিতীয় দিনের মত আমদানি-রফতানি বন্ধ

বেনাপোল বন্দরে আমদানীকৃত পণ্যের ওয়েভিং স্কেলে বিজিবি‘র তদারকি!

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮
কাষ্টম হাউসে বিল অব এট্রি দাখিল করা বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা: দ্বিতীয় দিনের মত আমদানি-রফতানি বন্ধ
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপেল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য মাপার ওয়েভিং স্কেলে বিজিবি’র দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে রোবরার দুপুর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।
আমদানি- রফতানি বন্ধ থাকায় দু‘দেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক। বৈধ রুটে আমদানিকৃত পণ্যচালানে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমের বাইরে বিজিবি‘র কাষ্টমস আইন বহির্ভূত হস্তক্ষেপের ফলে বেনাপোলের সামগ্রিক বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সোমবার বিকালে বেনাপোল চেকপোষ্ট ও রফতানি টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায় দু‘দেশের বন্দর এলাকায় শত শত আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে।
বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট  এসোসিয়েশনের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মহসিন মিলন জানান, মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের রায় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসআরও এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনা বিজিবি কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করে বন্দর এবং কাস্টমস ওয়েং স্কেলে বসে আমদানি পণ্যচালানের ওজন পরিমাপ করা শুরু করেছেন। শনিবার থেকে বিজিবির কয়েকজন সদস্য বন্দরের ওয়েভিং স্কেল এবং কাস্টমস ওয়েভিং স্কেলে বসে আমদানিকৃত পণ্যচালানের মালামাল ওজন করছেন। বিজিবি বন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে রাজস্ব আদায়ে ধ্বস নামবে বেনাপোল কাষ্টম হাউসে। এরই প্রতিবাদে রবিবার দুপুর থেকে বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখলেও সোমবার সকাল থেকে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ, আমদানি পণ্য খালাসের  বিল অব এট্রি দাখিল না তরা ও বন্দর থেকে পণ্য খালাস না করায় বেনাপোল বন্দর এলাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় কার্গো শাখা অফিস, বন্দর ও কাস্টম ওয়েভিং স্কেলের সামনে বিজিবি চেয়ার বসিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি শুরু করে। বন্দর এলাকায় তাদের টহল দিতেও দেখা যায়।
পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, হঠাৎ করে আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়ায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন। বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল বন্দরে পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সন্তোষজনক সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত বাণিজ্য সচল হবে এমনটি আশা করছেন তিনি।
এদিকে বিজিবি বলছেন, তারা জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০ তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে শুল্ক, বন্দর ও চেকপোস্ট সমূহে মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত  রাখা হয়েছে।
তবে কাষ্টমস আইনে বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদনে উল্লিখিত আইন, প্রজ্ঞাপন ও বিধি বিধান উপেক্ষা করে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে বিজিবির এহেন কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে আইন বহির্ভূত।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায়  বলা হয়েছে  (পত্র নথি নং-০৮.০১.০০০০.০৬৩.০১.০০৬.১৫/৭৬, তারিখ : ০২/০৮/২০১৫) বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানিকৃত নয় এমন পণ্য পরিবহন তথা চোরাচালান রোধকল্পে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে টাস্কফোর্সের আওতায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত পত্রে বিল অব এন্ট্রির পণ্য টাস্কফোর্সের আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে।
এদিকে যশোর ৪৯ বিজিবি‘র  কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০ তম সভার কার্যবিবরণীর গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপেক্ষিতে দেশের সব বন্দরে পণ্য পরিমাপের স্কেলে কাস্টমস সদ্যস্যদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের যৌথভাবে কাজের সিদ্ধান্ত হয়। ওই আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনাররা ছিলেন। তারা সবাই সম্মতি দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি সদস্যরা বন্দরে কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, কাস্টমসের কাজ কাস্টমস করবে। সে ক্ষেত্রে বিজিবি বন্দরে আমদানি পণ্যের ওজনের ব্যাপারে নজরদারি করতে পারে না। তাছাড়া আমদানি-রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে বন্দর এলাকায় বিজিবির নজরদারির এখতিয়ার নেই। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। সিদ্ধান্ত এলে ব্যবসায়ীদের সাথে বসে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে তিনি জানান। #