নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ফসলি জমি ও বসতভিটা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ১:৪৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮
নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ফসলি জমি ও বসতভিটা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

অব্যাহত নদীভাঙ্গনে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ফসলি জমি, গাছপালা এবং বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীতে। ভাঙ্গন মোকাবেলায় বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা নদীভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ী পদক্ষেপের দাবি করেছেন সরকারের কাছে।

 

মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের গোঘাট, গিদারী ইউনিয়নের ধুতিচোরা, বাগুড়িয়া, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কালী মাদারিপাড়া, চর মাদারিপাড়া, রাঘব, চর চরিতাবাড়ী, লক্ষ্মীপাড়া, চন্ডিপুর ইউনিয়নের লালচামার, কামারের ভিটা, উজান বোচাগাড়ী, হরিপুর খেয়াঘাট, কাপাসিয়া ইউনিয়নের আদর্শপাড়া, লালচামাড়, ভাটি কাপাসিয়া খেয়াঘাট, পোড়ারচর, খানাবাড়ী, চরাঞ্চলের কালাইচোতা ও ভাটি বোচাগাড়ী, শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদীভাঙ্গন।

 

এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া, গুচ্ছগ্রাম, মধ্য উড়িয়া, চরাঞ্চলে চরকাবিলপুর ও রতনপুর, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উল্লা, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া, গোবিন্দি ও নলছিয়াসহ সাঘাটা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে নদীভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা।

 

সম্প্রতী সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে নদীভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি, বসতভিটা। মানুষ ঘরবাড়ী ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট ও উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া গ্রামেও নদীভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। এই দুই এলাকায় নদীর ভাঙ্গনের কাছে রয়েছে শতাধীক বসতবাড়ী। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এক মাসের মধ্যেই শতাধীক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এরমধ্যে প্রায় ১৫টি বাড়ী রয়েছে একেবারেই ভাঙ্গনের মুখে।

 

উত্তর উড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক রনজিৎ চন্দ্র বর্মন (৫৫) বলেন, নদীভাঙ্গনের কারণে এর আগে দুইবার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জায়গায় ঘর তুলে আছি। অব্যাহত নদীভাঙ্গনের ফলে আবারও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছি। খুব তাড়াতাড়ি ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা না নিলে আবারও ঘরবাড়ী সরিয়ে নিতে হবে। কোথায় থাকবো, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গন মোকাবেলায় উত্তর উড়িয়া, গোঘাট, উত্তর হলদিয়া, লালচামাড়, গোবিন্দী, বড়মতাইড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গনরোধে চেষ্টা চলছে।