শিরোপা যুদ্ধে নেমেছে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১২:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮
শিরোপা যুদ্ধে নেমেছে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির, নয়তো নতুন ইতিহাস রচনার। প্রতিষ্ঠিত ফুটবলশক্তি ফ্রান্স নাকি নতুন শক্তি ক্রোয়েশিয়া- কার ঘরে ওঠছে রাশিয়া বিশ্বকাপ শিরোপা; সেই বিষয়ে ফয়সালার জন্য লড়াই শুরু করেছে দু’দল। মস্কোর লুঝনিকিতে বাংলাদেশ সময় আজ রবিবার রাত ৯টায় শুরু হয়েছে মাঠের লড়াই।
প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের দুই দশকপূর্তির বছরে ফ্রান্স যেমন দ্বিতীয় শিরোপার জন্য ব্যাকুল, তেমনি অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপযাত্রার পূর্ণতা দিয়ে প্রথম শিরোপার আকুলতা কম নয় ক্রোয়েশিয়ারও।
গ্রুপ পর্বে ফরাসিরা ছিল ‘সি’ গ্রুপে, ক্রোয়াটরা ‘ডি’ গ্রুপে। বিশ্বকাপ শুরুর আগের যে বাস্তবতা, সে অনুসারে ফ্রান্স গ্রুপসেরা আর ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে দুই দলের দেখা হয়ে যেত দ্বিতীয় রাউন্ডেই। কিন্তু ‘ডি’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ আর ক্রোয়েশিয়া চ্যাম্পিয়ন হলে সব উলটপালট হয়ে যায়। যে লড়াই হওয়ার কথা শেষ ষোলোয়, শেষ পর্যন্ত তা এখন শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনটি পেয়ে গেছে লুকা মডরিচের দল। তাই লড়াকু মনোভাব নিয়েই আজকের ফাইনাল খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জল্গাটতো দালিচ। তিনি বলেন, ফাইনালে জিতি বা হারি, ক্রোয়েশিয়ায় ভূকম্পনের মতো আলোড়ন উঠবে। একজন খেলোয়াড় বা কোচের জীবনে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো দিন তো আর হতে পারে না। যাই ঘটুক, আমরা খুশি থাকব। গর্বিত হবো।’
ক্রোয়েশিয়া হয়তো রানার্সআপ হলেও খুশি, কিন্তু ফ্রান্সের ব্যাপারটা আলাদা। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল সেবারের স্বাগতিকরা। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওঠে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। কিন্তু জিদানের ঢুঁশ-কাণ্ডের বহুল আলোচিত সেই ফাইনালে টাইব্রেকারে গিয়ে হারতে হয় ইতালির কাছে। তাই এবার প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, বিশ্বকাপটা তারা ঘরে নিয়েই ফিরতে চান ফরাসিরা।
এদিকে অনন্য এক অর্জন হাতছানি দিচ্ছে কোচ ফরাসি কোচ দেশমকেও। ‘৯৮-এ শিরোপা হাতে তোলার সময় তিনি ছিলেন অধিনায়ক। এবার সুযোগ কোচ হয়ে হাতে তোলার। ফুটবল ইতিহাসে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব আছে কেবল মারিও জাগালো আর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের। তবে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম জানিয়ে দিয়েছেন, তার তৃতীয় ব্যক্তি হওয়া নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই। মনোযোগ তার ফ্রান্সের দ্বিতীয় শিরোপায়।
এদিকে ফাইনালে দু’দলই অপরিবরর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে।
ফ্রান্স একাদশ : হুগো লরিস, স্যামুয়েল উমতিতি, রাফায়েল ভারানে, লুকাস হার্নান্দেজ, বেনজামিন পাভার্দ, আন্তোনিও গ্রিজম্যান, এনগোলা কন্তে, পল পগবা, অলিভিয়ের জিরাউড, মাতুইদি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ক্রোয়েশিয়া একাদশ : ড্যানিয়েল সুবাসিচ, সিমে ভ্রাসালকো, ইভান স্ট্রিনিচ, ডেজান লভরেন, ডোমাগজ ভিদা, ইভান রাকিটিচ, লুকা মডরিচ, ইভান পেরেসিচ, ব্রোজোভিচ, মারিও মানজুকিচ ও আনতে রেবিচ।