আমতলীতে জোয়ারের পানিতে ১৮ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮
আমতলীতে জোয়ারের পানিতে ১৮ গ্রাম প্লাবিত
  • ঘড়বাড়ি ধান ক্ষেত ৩ ফুট পানির নীচে
  • ৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে

আমতলীর আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে দু’দফা জেয়ারের পানি প্রবেশ করে ৫টি গ্রামসহ আমতলী ও তালতলী উজেলার নদী তীরবর্তী ১৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

এর মধ্যে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের ঘড়বাড়ি ধান ক্ষেত পুকুর ঘের এখন ৩ফুট পানির নীচে রয়েছে। পানির তোরে ভেসে গেছে ৩শ’ পুকুরের প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আমাবশ্যার জোয়ারের প্রভাবে আমতলীর পায়রা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বালিয়াতলীর ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে শনিবার রাত ও রবিবার সকালে দু’দফা জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বালিয়াতলী, পশুর বুনিয়া, মধ্যঘোপখালী, দক্ষিণ ঘোপখালী, উত্তর ঘোপখালীসহ ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওই সকল গ্রামে বোরো ক্ষেত আমন বীজ তলা এবং ঘড়বাড়ি প্রায় ৩ ফুট পানির নীচে রয়েছে। পানির তোরে ভেসে গেছে প্রায় ৩ শতাধিক পুকুরের প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ। ঘোপখালী গ্রামের তৈয়ব গাজী জানান, তার ২টি ঘেরের প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

 

একই গ্রামের খালেক মোল্লা জানান, তার ২টি পুকুরের প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানির তোরে আরপাঙ্গাশিয়া- সোমবাড়িয়া হাট সড়কের ৩ জায়গার কার্পেটিং সড়কের ১শফুট এবং একই সড়কের ইটের সলিং ধসে দেড়শ ফুটসহ প্রায় আড়াইশ ফুট সড়ক ধসে পড়েছে। পায়রা নদীর পানি মাপার দায়িত্বে নিয়োজিত মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, পায়রা নদীর পানি রবিবার জোয়ারের সময় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া পায়রা নদীতে পানি বৃদ্দি পাওয়ায় আমতলী ও তালতলী উপজেলার নদী তীরবর্তী আরো ১৩ টি গ্রাম পলাবিত হয়েছে।

 

গ্রামগুলো হল লোছা, বৈঠাকাটা, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী, জেলে পাড়া, হরিদ্রাবাড়িয়া তালতলী উপজেলার খোট্টার চর, আশার চর, আমখোলা, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, চর পাড়া। আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান একেএম নুরুল হক তালুকদার বলেন, আইলার সময় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ি বাধ দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে। শনিবার রাতে ও রবিবার দু’দফা জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পুরো এলাকা এখন পানির নীচে রয়েছে।

 

এ অবস্থায় বাঁধটি দ্রুতভাবে মেরামত করা প্রয়োজন। বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মশিউর রহমান জানান, ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বালিয়া তলীর বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে খুব শিঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।