বাউফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলছে স্কুলের বারান্দায়

মুজিবুর রহমান মুজিবুর রহমান

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:০৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮
বাউফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলছে স্কুলের বারান্দায়
পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ন ও ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে এবং ব্যবহার ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী  নিয়ে ক্লাশ চলছে স্কুল বারান্দায়।  উপজেলার সুলতানাবাদ ও উত্তর নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার  (১৪ জুলাই)  বেলা  সাড়ে ১২ টায়  সরেজমিন  গিয়ে এ চিত্র  দেখা যায়। শিশু  থেকে ৫ম  শ্রেনী পর্যন্ত ৬ টি ক্লাশ শতাধিক শিক্ষার্থী  নিয়ে বাইরে পাঠদান চলছে। এ সময়  শিক্ষার্থী  আকলিমা  ভয়ে প্রকম্পিত কন্ঠে জানান,  স্কুলে আইতে আমার ভয় লাগে।  পড়ার  সময় উপর  থেকে খোয়া ও  পানি পড়ে। বেঞ্চে  বসতে পারি না। বৃষ্টির  পানি পড়ে বই ভিজে যায়। একই  কথা বলেন, জামাল  মোল্লা।  বাউফলে যাওয়ার সময়  দেখছি স্কুল খুব সুন্দর । দ্বী তলা। আমাগো স্কুল ভালো  না। তাই এই স্কুলে পড়তে ইচ্ছে করেনা।
 বিদ্যালয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি আলাপচারিতায় জানা যায়, ১৯৭৩ সালে স্থাপিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার কক্ষ বিশিস্ট একটি ভবন। বাইরে চাকচিক্য সাদা রং দেখা গেলে বিদ্যালয় জানালা, দরজা ভাঙ্গা। ছাদ চুইয়ে পানি পড়েছে। প্রতিটি ক্লাশের পলেস্টার খসে পড়েছে। বিদ্যালয় নতুন ভবনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকটে আবেদন করলেও  নির্মানের  কোনো উদ্যোগ নেই।
 বিদ্যালয় পরিদর্শন বহি  প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, ২০১৭ সালে ২৪  মে বাউফল উপজেলা শিক্ষা অফিসার  মো: রিয়াজুল ইসলাম এ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি ওই সময় বিদ্যালয় ব্যবহার অনুপযোগী এবং ঝুকির্পর্ণ ঘোষনা করেন।  সংশ্লিস্ট শিক্ষকদের  স্থানীয় ভাবে টিনসেড ঘর করে ক্লাশ করার পরামর্শ  দেন। ২০১৭ সালে ১৬ জুলাই সহকারি শিক্ষা অফিসার সুনীল হাওলাদার সরেজমিন পরিদর্শন করে ঝুকির্পর্ণ ভবন ঘোষনার মাধ্যমে  বাইরে  ক্লাশ করার পরামমশ  দেন।
 বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম জানান, বিদ্যালয় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি ঝুকিপূর্ন থাকায় ক্লাশে শিক্ষার্থী  সংখ্যা কমে গেছে। পাশাপাশি ৫সদস্য পদে মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়মিত রয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদ শূণ্য। শিক্ষার্থীর  গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যালয় অতিদ্রুত ভবন নির্মান ও শূণ্যপদে শিক্ষক নিয়োগ  দেওয়ার জন্য  এলাকাবাসী দাবী জানান