বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে : অবদান রাখতে পারে পর্যটন খাত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৮
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে : অবদান রাখতে পারে পর্যটন খাত

।। মো.ফরিদ উদ্দিন, সাংবাদিক কলাম লেখক।।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র একটি দেশ বাংলাদেশ। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের আমাদের এই মাতৃভূমিতে রয়েছে অপার সৌন্দর্যের লীলা ভূমি। অনেক আগে থেকেই দেশের রূপ বৈচিত্র্য বিমোহিত করেছে দেশি বিদেশী বহু পর্যটককে।এজন্যই বাংলাদেশকে রূপের রানী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কর্মকান্ড হিসেবে পর্যটন শিল্প আজ বেশ জনপ্রিয় পর্যটন খাত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিরাট অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

 

সরকার সাসটেইনবেল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়নে পর্যটনকে অন্যতম সেক্টর হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে ২০১৬ কে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করে ২০১৮ পর্যন্ত এ বর্ষের কর্মসূচিসমূহ অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রতি বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টিভঙ্গি: বিদেশি পর্যটকদের ওপর পরিচালিত গবেষণা’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে যৌথভাবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সিটিটিউট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এমনভাবে সাজাতে চায়, যেন বিশ্ববাসী এক নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বের চেইন হোটেলগুলো বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। যা দেশে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির স্মারক। সরকার ইকো ট্যুরিজম, হেলথ ট্যুরিজম ও আর্কিওলোজিক্যাল ট্যুরিজমের প্রসারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

 

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে গার্মেন্টস সেক্টরের পরে পর্যটন শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে। ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে পর্যটন বাংলাদেশের জন্য একটি অপার সম্ভাবনাময় খাত। জল, স্থল এবং অন্তরীক্ষে আজ সমানভাবে নিজেদের পদচারণা রেখে যাচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ। জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে স্বমহিমায় নিজের নামাঙ্কিত করছে দুর্বার উন্নয়নের ধাবিত এই দেশ ।

 

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বা¯তবায়নের মাধ্যমে ১৭ হাজার ১৬০ একর জমি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই অর্জনের মাধ্যমে ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের অধীনে চলে আসে। নতুন জীবন, নিজের দেশের নাগরিকত্ব পান ছিটমহলে বসবাসকারী ৩৭ হাজার ৩৩৪ জন মানুষ। মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু -১’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ৫৭ তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য বাংলাদেশ। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা চুক্তিতে আজ বিশাল সমুদ্র সীমার মালিক এই দেশ। আজ দেশে এবং দেশের বাহিরের প্রতিটি কোণায় বাংলাদেশের জয়োগান।

 

ভারতের সঙ্গে সমুদ্র জয়ে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভিতরে বাংলাদেশের ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এবং ভারতের ৬,১৩৫ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা রয়েছে ২০০ নটিক্যাল মাইল। ভারত এবং মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র জয়ের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সামুদ্রিক এলাকার মালিক বাংলাদেশ এবং প্রাণীজ ও অপ্রাণীজ সম্পদের ও মালিক। সমুদ্র বিজয়ের এই বিপুল সম্ভাবনা বাংলদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও সমুদ্রের নিচে অনেক সামুদ্রিক প্রাণী যেমন মাছ,শৈবাল ইত্যাদি। সামুদ্রিক মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানীকরণের প্রক্রিয়া সচল হলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বিশ্বে অনেক দেশে সামুদ্রিক শৈবালের চাহিদা ব্যাপক। জাপান, চীন, কোরিয়া, ফিলিপাইন বিভিন্ন দেশে শৈবাল এক অনন্য অর্থকরী সবজি। আমাদের দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী শৈবাল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। নানারকম পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন, খনিজ ও আয়োডিনের বিশাল আধার এই সামুদ্রিক শৈবাল। টোকিও সর্বপ্রথম ১৬৭০ সালে শৈবাল চাষ শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তা অর্থকরী সবজি হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

আমাদের দেশের সমুদ্র সীমায় রয়েছে এরকম অনেক শৈবাল এবং মাছ যার মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। দেশে পূরণ হবে পুষ্টির চাহিদা। গড়ে উঠতে পারে চাষকৃত একটি শৈবাল শিল্প। অপ্রাণিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমানের গ্যাস ক্ষেত্র।

নীল অর্থনীতিকে ঘিরে গড়ে উঠছে বিভিন্ন অবকাঠামো যেমন: জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কোস্টাল শিপিং, পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙ্গা শিল্প, সামুদ্রিক জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার, সামুদ্রিক লবন উৎপাদন, সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, সামুদ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন খাত, সমুদ্র অর্থনীতিকেন্দ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা প্রণয়নসহ বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়, দূরদর্শী নেতৃত্বর ফলে দেশ আগাচ্ছে অদম্য এক সাফল্যের দিকে। দেশ আজ সকল স্তরে উন্নত হয়েছে, লাভ করেছে সফলতা। বিশ্ব এক সময় যে দেশকে দরিদ্র ও ক্ষুধায় জর্জরিত দেশ হিসেবে চিনত, সেই দেশ আজ নিজ অর্থায়নে করছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। দেশের দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সহ আজ পুরো দেশের মানুষ আনন্দিত ,গর্বিত।উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রেখে সরকার দেশকে নিয়ে যাবে অভাবনীয় এক সাফল্যের দিকে এই প্রত্যাশা দেশের সকল মানুষের। পার্বত্য তিন জেলায় পর্যটন জোন হিসাবে ইতিমধ্যে পরিচিত লাভ করেছে।বান্দরবান রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় দেশী বিদেশীয় পযটকরা ভীড় জমায় প্রতিবছর। পাশাপাশি কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যটন স্থান গুলো পর্যটকদের আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত এগিয়ে যাবে।বর্তমান সরকার পর্যটন বান্ধব সরকার ,উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড কে এগিয়ে নিতে হলে আওয়ামীলীগ সরকার কে পুনরায় বিজয় করতে হবে, দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে, অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিকে বেগমান রাখতে এ সরকারকে দরকার বাংলাদেশের জনগনের।

আমরা যদি পিছনের অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করি, ১৯৭২-৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেটের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮০০ কোটি টাকা। চল্লিশ বছর পরে বাজেট এখন তিন লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে আর জাতীয় অর্থনীতির আয়তন পাঁচ হাজার কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় লক্ষ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারেই শুধু নয়, তার ধারাবাহিকতাতেও আশ্চয্র্ সারা পৃথিবী। জিডিপি-র নিরিখে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪৪তম স্থানে, যা বিশ্ব ব্যাংক এবং আই এম এফ-এর মত সংস্থাগুলিকে এবং সেই সঙ্গে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারেই শুধু নয়, তার ধারাবাহিকতাতেও আশ্চয্র্ সারা পৃথিবী। জিডিপি-র নিরিখে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪৪তম স্থানে, যা বিশ্ব ব্যাংক এবং আই এম এফ-এর মত সংস্থাগুলিকে এবং সেই সঙ্গে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। দ্য ইকনমিস্ট পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর কোনও অর্থনৈতিক বনিয়াদ না থাকা বাংলাদেশের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতির পুনর্গঠন করা। সেখানে প্রথম বাজেট চিহ্নিত হয়ে থাকবে উন্নয়ন, পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনের উপর গুরুত্ব দেবার জন্য। বাংলাদেশে দ্রারিদ্যের হার সেই সময় থেকে ৯০ শতাংশ থেকে নেমে ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত ছ’বছরে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ধারাবাহিক ভাবে ছ’ শতাংশের বেশি থেকেছে, যা পৃথিবীতে আর মাত্র চারটি দেশে সম্ভব হয়েছে, এবং তা হয়েছে বিশ্ব জুড়ে টানা অর্থনৈতিক মন্দা চলা সত্ত্বেও।

ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডিকেটর ডাটাবেস এবং আই এম এফ ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের স্থান ছিল ৫৮তম। ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি পৌঁছোয় ৪৪ তম স্থানে, পিপিপি-ভিত্তিক হিসেবে যার স্থান ৩৩তম। ব্রিটেন পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড ডিফেন্স ডিভিশন “পলিটিকাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ” শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শক্তিশালী রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে যে অগ্রগতি বাংলাদেশ লাভ করেছে, তা সর্বত্র প্রশংসিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু যে অর্থনীতিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তাই নয়, আইনশৃংখলা, সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেপ্তার করে তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মের ছক বানচাল করা, প্রভৃতি ব্যাপারেও সাফল্য লাভ করছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা দু’টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তার একটি পরিবেশ রক্ষার জন্য রাষ্ট্র সংঘের দেওয়া “চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ” এবং অন্যটি ক্ষুধা ও অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের দেওয়া “অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।”শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে বাংলাদেশ যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে চলে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে সে পশ্চিমী দেশগুলিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে।

পিতা এবং বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সমস্ত সদস্যদের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর যখন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর একমাত্র পরিচয় ছিল তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের কন্যা। কিন্তু এখন তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ‘উন্নয়নের জননী’ এবং স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির এক জন শক্তিশালী নেত্রী হিসেবে। শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে বাংলাদেশ যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে চলে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে সে পশ্চিমী দেশগুলিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে।

অর্থের অভাবে উন্নয়ন কাজটি করতে পারছি না- এমন কথা গত কয়েক বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিংবা তার সরকারের কোনো মন্ত্রীর মুখে শোনা যায়নি বললেই চলে। তাহলে সরকারের আর্থিক সংস্থান কি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে? হ্যাঁ সূচক উত্তরটা খুবই দুর্বল হবে। কারণ এ দশকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১০ কি ১১ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। অন্যদিকে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বন্ধ হয়েছে। তবে কি সরকার দেশীয় অর্থে পদ্মা সেতুসহ উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে অনেক বড় বড় উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান করতে পেরেছে? এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রেখে তথ্যপ্রযুক্তির ডিজিটালাইজেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনছে। ২০১০ সালে যেখানে সঞ্চয়ের চেয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির অংশে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম ছিল, সেখানে ২০১৫ সালে প্রায় সম্পূর্ণ সঞ্চয়ই বিনিয়োগ হয়েছে। আর ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ গত বছর বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ প্রবাহ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এদিকে সরকার দীর্ঘকাল নিম্ন-আয়ের ফাঁদ থেকে সবে নিম্ন-মধ্যম আয়ে উন্নীত এ অর্থনীতিকে আগামী তিন দশকে উচ্চ আয়ে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি ও অনন্য অর্থনৈতিক নীতিগুলোকে হাসিনা-অর্থনীতিরূপে বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এমডিজির প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশ অনেক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির চেয়ে এগিয়ে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ পত্রিকা ইকোনমিস্ট ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে এদেশের তলাবিহীন ঝুড়ি অবস্থা থেকে উত্তরণ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। মজার ব্যাপার হলো, এ পদবি প্রদানকারী হেনরি কিসিঞ্জারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এককালে এমন বলেছিলেন কি-না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। মোট কথা, দেশের মানুষ না খেয়ে নেই। জামা-কাপড় দেখলেও বোঝা যায়, অর্থিক দৈন্যদশায় নেই। এখন যে ২২ দশমিক ৪ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদের প্রকৃত আয় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে প্রায় সবাই দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হবে। আমরা ২০১৫ সালের এলডিসি নিয়ে জাতিসংঘের পর্যালোচনায় আর্থিক ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণ সক্ষমতা অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় ও মানবসম্পদ সূচকদ্বয়ে উত্তরণ পর্যায়ের কাছাকাছি ছিলাম। এখানে এলডিসি থেকে বের হতে যে কোনো দুটি সূচকে উত্তরণ দরকার। আমরা তিনটি সূচকেই উত্তরণ সক্ষমতা অর্জন করে ২০১৮ সালে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করার আশা করছি। পরবর্তী পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়ে যাব। আর বার্ষিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৬শ’ ডলারে নিয়ে সরকার ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার রূপকল্প তৈরি করছে।

প্রতি বছর নতুনভাবে যুক্ত প্রায় ২০ লাখ কমক্ষম মানুষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের উন্নয়ন করতে হবে। পৃথিবীর উন্নয়ন ইতিহাসে গুণমানসম্মত শিক্ষিত মানবসম্পদ ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। জাতীয় আয়ের অংশে তারা ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে মানবসম্পদে বেশি বিনিয়োগ করেছিল। সেখানে মানবসম্পদের মর্যাদা এত বেশি যে, প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে রাখা হয়। আমরা গুণগত শিক্ষা প্রদান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কি মধ্যম মানব উন্নয়ন পর্যায় থেকে উঁচুমানের মানবসম্পদ তৈরি করতে পারব না? আমাদের শিক্ষার প্রসার ব্যাপক হলেও গুণমান প্রশ্নবিদ্ধ। বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ আসছে নতুন শিক্ষা আইনে গুণমান রক্ষার পদক্ষেপ রাখা জরুরি বলে মনে হয়।পরিতাপের বিষয়, আমাদের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদানকারী কলেজেও গবেষণাকর্ম প্রায় নেই বললেই চলে। আর কলেজ গ্র্যাজুয়েট ও শিক্ষকরা ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এতে গবেষণা সুবিধার অভাবের পাশাপাশি গবেষণা প্রণোদনাকারী অভিভাবকের অভাব দেখা যাচ্ছে। এরূপ নিয়োগ বন্ধ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বড়ই প্রয়োজন।

উন্নয়নের তত্ত্বমতে, প্রথম সহজলভ্য উপকরণনির্ভর শিল্প হিসেবে এদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উত্থান হয়েছে। দেশে ছোটখাটো একটা শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। এ খাত থেকে জিডিপির ৩০ ভাগ এলেও অসীম শ্রম জোগানের বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তা অপ্রতুল। তবে উন্নয়নের দ্বিতীয় ধাপে মানব-মূলধননির্ভর প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনা নিবিড় উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার জরুরি। এ সময় হয়তো বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর ভারী শিল্প গড়ে উঠবে। পরে দেশীয় সহায়ক শিল্প গড়ে উঠলেও ভারী শিল্প বিদেশনির্ভর থেকে যেতে পারে। প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে না পেরে ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকা পড়েছে। আমাদের এ স্বল্পোন্নত দেশটি এখনও উপকরণ-চালিত অর্থনীতি। বিশ্ব প্রতিযোগিতাসূচক অনুসারে এর পর প্রযুক্তিচালিত ও উদ্ভাবনচালিত অর্থনীতির ধাপ দুটি পেরিয়ে উন্নত দেশে পৌঁছাতে হবে। আমাদের উন্নয়ন চাহিদা মেটাতেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, রাজমিস্ত্রি দোতলা ভবন তৈরিতে দক্ষ হলেও যেখানে উন্নয়ন চাহিদা ৭১ তলা, সেখানে রীতিশুদ্ধ জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ লোক ছাড়া চলবে কি? তাই সক্ষমতা সৃষ্টি করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে যোগ্যতরদের প্রণোদনা প্রদানে সরকারি কৌশল দরকার। এ ক্ষেত্রে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল ও কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ অবশ্যই সময়োপযোগী। প্রাধান্য খাত চিহ্নিত করে দক্ষতা উন্নয়নে সচেষ্ট না হলে হয়তো মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকা পড়ে যাব।

আর দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যটন স্থান বৃদ্ধি করতে হবে ।আর এ জন্য অগ্রনি ভুমকা পালন করতে হবে সরকারকে, যেন বাস্তবায়ন হয় । বাংলাদেশ একটি পর্যটন জোন হিসাবে পরিচিত লাভ করতে পারলে। আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে। অবদান রাখতে পারে পর্যটন খাত।২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার রূপকল্প তৈরি করছে, আমাদের জাতীর পিতা বঙ্গ বন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বাস্তব রুপ দিতেই এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এবং উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করতে সবাইকে এক সাথে কাজ করার আহবান করেছেন।