চুলের আগা ফাটা সমস্যা দূর করতে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮
চুলের আগা ফাটা সমস্যা দূর করতে

মেয়েদের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুল। চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়লে চেহারাও মলিন হয়ে পড়ে। চুলের আগা ফেটে গেলে, চুল তার স্বাভাবিক জৌলুস হারিয়ে আরও বেশি রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই চুলের রুক্ষতা ও আগা ফাটা সমস্যা রোধ করা জরুরি।

ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক ফারনাজ আলম বলেন, ‘চুলের ধরন শুষ্ক হলে কিংবা অযতেœ-অবহেলায় চুল অতিরিক্ত রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে গেলে চুলের আগা ফাটে। চুলের আগা ফাটার পর চুল আরও বেশি রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যায়। চুলের আগা ফেটে গেলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। চুলের আগা একবার ফেটে গেলে তা স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই চুলের আগা ফেটে গেলে প্রথমেই চুলের যে অংশটুকু ফেটে গেছে সেই অংশটুকু কেটে ফেলুন। এরপর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন।’

তিনি আরও বলেন, চুলের শুষ্কতা ও আগা ফাটা রোধ করতে নিয়মিত চুলে তেল দিতে হবে। কারণ তেল চুলে পুষ্টির জোগান দেয়। প্রতিদিন শ্যাম্পু করা বাদ দিতে হবে। শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদান চুলের ক্ষতি করে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু করুন। সেই সঙ্গে সপ্তাহে দুদিন ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করুন।

তেল দিন

চুলের আগা ফাটা রোধ করতে ও রুক্ষ চুলকে কোমল, প্রাণবন্ত করতে নিয়মিত তেল দেওয়ার বিকল্প নেই। সপ্তাহে তিন দিন মাথার ত্বকে এবং পুরো চুলে তেল ব্যবহার করুন। ভালো ফল পেতে তেলের মধ্যে একটি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপস্যুল ভেঙে দিন। এরপর তেলটুকু হালকা গরম করে মাথার ত্বকে ভালোমতো ম্যাসাজ করুন এবং পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত তেল ব্যবহারে চুলের আগা ফাটা যেমন রোধ হবে, তেমনি চুল শুষ্কতাও দূর হবে।

ডিপ কন্ডিশনিং

খুব বেশি শুষ্ক চুল সাধারণভাবে কন্ডিশনিং করলেই যথেষ্ট নয়। এ ধরনের চুল সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনিং করুন। একটি ডিম, দুই চা-চামচ লেবুর রস, দুই চা-চামচ মধু, দুই চা-চামচ গ্লিসারিন খুব ভালো করে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। টকদইও রুক্ষ চুলের জন্য উপকারী।

আগা ছাঁটা

চুল ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমরা অনেকেই চুলের আগা ছাঁটতে চাই না। অথচ আমরা অনেকেই জানি না যে, নিয়মিত চুল ছাঁটলেই বরং চুল দ্রুত বাড়ে এবং সেই সঙ্গে চুলের আগা ফাটাও রোধ হয়। তবে চুলের আগা ছাঁটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। এ ধরনের হেয়ার কাটকে ‘স্পিটেন্ট কাট’ বলে। এ হেয়ারকাটে চুল ছোট হবে না, বরং চুলের পুরনো উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর একজন দক্ষ হেয়ার এক্সপার্টের হাতে এ পদ্ধতিতে চুল ছাঁটুন।

ভিনেগার ব্যবহার

ভিনেগার চুলের রুক্ষতা দূর করতে ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি চুল ক্লিনিংয়ের কাজও করে। চুল ধোয়ার পর পানিতে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এরপর ভিনেগার মিশ্রিত এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

রুক্ষতা দূর করতে ঘরোয়া প্যাক

নারকেল তেল, ক্যাস্টার অয়েল, গ্লিসারিন, ভিনেগার, মধু সবগুলো উপাদান এক চা-চামচ করে একসঙ্গে মিশিয়ে তার সঙ্গে একটি পাকা কলা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এবার মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের রুক্ষতা দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে।

চুলের আগা ফাটা রোধে ঘরোয়া প্যাক

একটি ডিমের কুসুম, তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

খাবারদাবার

চুল কোমল ও প্রাণবন্ত রাখতে নিয়মিত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

জেনে নিন

প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকালে চুল রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। গোসলের পর চুল ঝাড়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে চুলের আগা ফাটে। গরম পানি চুলে দেওয়া উচিত নয়। গরম পানিতে চুলের তন্তুগুলো আস্তে আস্তে আদ্রতা হারিয়ে চুল ফাটা শুরু হয়।

  • আমাদের সময়