ছাত্রীর শাশুড়িকে বুঝাতে গিয়ে শিক্ষক অজ্ঞান, ফিরলেন ৩ দিন পর!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১২:অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৮

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের আরবি বিষয়ের প্রভাষক মাসউদ রেজা (৪৩) নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফিরেছেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর উপজেলায় হলেও চাকরির সুবাধে থাকেন বনপাড়া পৌরশহরের হালদারপাড়া এলাকায়।

গত বুধবার দুপুর ১টার পর থেকে মাসউদ রেজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজ হওয়ার চার ঘণ্টা পর ওই প্রভাষকের স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রভাষক মাসউদ রেজা সাংবাদিকদের জানান, গত বুধবার দুপুরে কলেজে থাকাকালীন অবস্থায় অপরিচিত এক যুবক তাকে এসে জানান, তার স্ত্রী কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী। কিন্তু মা এতে আপত্তি জানাচ্ছেন। ওই যুবক তার মাকে এ বিষয়ে একটু বোঝাতে তার সঙ্গে বনপাড়া পৌরশহরের কালিকাপুরে তাদের বাড়িতে যেতে বলেন।

মাসউদ রেজা আরও জানান, ওই যুবকের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওই যুবকেরই মোটরসাইকেলে করে কলেজ থেকে বের হয়ে কালিকাপুর বাইপাস মোড়ে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আরও দুই-তিনজন যুবক তাকে ঠেলে-ধাক্কিয়ে রাজশাহীগামী একটি বাসে ওঠান। এর তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। মাঝে-মধ্যে তার জ্ঞান কিছুটা ফিরলেও বুঝতে পারেননি কোথায় আছেন। এরপর গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকায় বাসের সিটে বসে আছেন। বাসটি ছিল ঢাকাগামী লোকাল বাস। পরে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে সংবাদ দিলে দুইজন নিকটআত্মীয় রাত ১২টার দিকে কালিকাপুর বাইপাস মোড় থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

কেন এবং কী কারণে তাকে অপরহণ করা হয়েছিল-জানতে চাইলে প্রভাষক মাসউদ বলেন, ‘আমিও ঠিক বুঝলাম না কেন আমাকে কিডন্যাপ করল এবং পরে ছেড়ে দিল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস জানান, শিক্ষক মাসউদ রেজাকে কেউ অপহরণ করেছিলেন-এমন প্রমাণ মেলেনি। তিনি নিজ ইচ্ছাতে কোনো বিশেষ কারণে আত্মগোপন করেছিলেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ওসি আরও জানান, শিক্ষক মাসউদ রেজার নিখোঁজ হওয়া ও ফিরে আসার বিষয়ে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে আসল রহস্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।