উপকূল জুড়ে ইলিশ শিকারের জেলেদের আগাম প্রস্তুতি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৭:০৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৮
উপকূল জুড়ে ইলিশ শিকারের জেলেদের আগাম প্রস্তুতি

উপকূল জুড়ে ইলিশ শিকারের আগাম প্রস্তুতি চলছে। কেউ নতুন ট্রলার তৈরি করছে। কেউ কেউ পুরনো ট্রলার মেরামত করছে। আবার কেউবা জাল সেলাই কিংবা নতুন জাল ক্রয় করছেন। ইলিশের মৌসুমকে ঘিরে জেলেরা এখন সাগর যাত্রার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।

গেল বছর সাগরবক্ষে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এ বছরেও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে উপকূলের কয়েক হাজার জেলেরা। বৃহৎ ইলিশের মোকাম মৎস্যবন্দর মহিপুর-আলীপুরের আশপাশে জেলেদের এখন গভীর সাগরে যাওয়ার পুর্ব প্রস্ততি চলছে। বসে নেই মহাজনসহ ট্রলার মালিকরাও। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সবক’টি জেলে পল্লীতে এমন প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে ছিটেফোটা ইলিশ এখনই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। তবে আর কিছুদিন গেলেই শুরু হবে ইলিশ শিকারের ভরা মৌসুম এমনটাই জেলেরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য বন্দর আলীপুর, মহিপুর, খালগোড়া, খাজুরা, গঙ্গামতি, ঢোস, বুরোজালিয়া, মুন্সিপাড়া, চারিপাড়া, পশরবুনিয়া, নিশানবাড়িায়া, দেবপুর ও পাটুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলেরা অন্তত শতাধিক নতুন ট্রলার তৈরি করছে। এরা সবাই গভীর সাগরে এ বছর ইলিশ শিকারের যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জেলে ফারুক শিকদার জানান, অন্যের সঙ্গে জীবনভর কাজ করেছেন। এবছর নিজেই সাগরে বোট নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। বোট তৈরির কাজ এখন শেষের দিকে। জালসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। আপর জেলে হালিম হাওলাদ জানান, আট লাখ টাকা ব্যয়ে করে তিনি একটি নতুন ট্রলার তৈরী করেছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে সাগরে যাওয়ার প্রস্তিতি নিচ্ছি। জেলে মুনছুর হালাদার জানান, বাপ-দাদার মাছের পেশা এখনও ধরে রেখেছি। পেটের তাগিদে সাগরে নামতেই হবে।

মৎস্য বন্দর আলীপুর আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো.আনসার উদ্দিন মোল্লা  জানান, সাগরে মাছ পরা শুরু করেছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারনে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেনা। তবে আর কিছুদিন গেলেই জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পরবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মসৎজীবী জেলে সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি আঃ সালাম বিশ্বাস জানান, জেলেরা সাগরে যাওয়ার প্রস্তিতি নিয়েছে। কয়েক বছর পূর্বে জেলেরা এক পর্যায় মাছ না পাওয়ায় নিশ্ব:হয়ে যায়। ইলিশ রক্ষায় বর্তমান সরাকারে দুই তিন বছর ধরে মা ইলিশ ও জাটকা অভিযানের ফলে সাগর ও নদীতে ইলিশের বংশবৃদ্ধি বেড়েছে। এর ফলে জেলেদের জালে ব্যাপক ইলিশ ধরা পরছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, আগষ্ট, সেপ্টম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই সাগরে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পরবে এমনটাই আশা করেছেন তিনি।