ফিল্ম সংকটে অচল ডিজিটাল এক্স-রে

নওগাঁ সদর হাসপাতাল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০১:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮
ফিল্ম সংকটে অচল ডিজিটাল এক্স-রে

রওশন আরাপারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর হাসপাতালে ফ্লিমের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে পড়ে আছে মূল্যবান ডিজিটাল এক্সে। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারন।

ফ্লিমের অভাবে হাসপাতালে ডিজিটাল এক্সে না হওয়ায় রোগীদের বাহিরের যেতে হচ্ছে। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছে কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অনীহা থাকায় ডিজিটাল এক্সেটি আর কাজে আসছে না।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর অ্যান্ড ডিপো (সিএমএসডি) থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি থেকে গত ২১/১২/২০১৬ ইং তারিখে ‘৫০০ এমএ-সিআর-চাইনা মডেলের এক্সেটি সরবরাহ করা হয়। এরসাথে তিন সাইজের ৩শ’টি ফ্লিমও দেয়া হয়।

এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে এক্সেটি চালু করা হয়। এক্সে চালুর কিছু দিনের মধ্যে ফ্লিমগুলো শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে মুল্যবান এ যন্ত্রটি পড়ে আছে। হাসপাতালে সাদাকালো এক্সে বড় ফ্লিমের মূল্য ৭০ টাকা এবং ছোট ৫৫ টাকা। ডিজিটাল এক্সে বড় ফ্লিমের মূল্য ২৫০ টাকা এবং ছোট ১৫০ টাকা। প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে ৯০-১০০ জনকে এক্সে সেবা দেয়া হয়। এছাড়া ডিজিটাল এক্সের জন্য প্রায় ৪০-৫০ জন রোগী ফেরত যায়।

জেলার ১১টি উপজেলার প্রায় ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসা নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতাল। এটি ২৫০ শয্যা বিশিস্ট হাসপাতাল। তবে নতুন করে ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনের কাজ চলমান। এ বছরের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ হাসপাতালে পাশ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ও জয়পুরহাট জেলা থেকেও মানুষ সেবা নিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের জন্য হাসপাতালে গত ২১/১২/২০১৬ ইং তারিখে ডিজিটাল এক্সে দেয়া হয়। জরুরি ভিত্তিত্বে এবং খুব অল্প সময়ে উন্নত মানের রিপোর্ট দেয়া সম্ভব। এছাড়া পরীক্ষা নিরীপক্ষার জন্য খুব ভাল মানের ফলাফল দেয়া সম্ভব। চিকিৎসার সুবিধার জন্য রোগীদের ডাক্তাররা ডিজিটাল এক্সের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে মূল্যমান এ যন্ত্রটির ফ্লিম না পাওয়ায় নওগাঁবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে ডিজিটাল এক্সের সুবিধা না পাওয়ায় বাহিরে ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে তা করে নিতে হচ্ছে। সরকারি সাদাকালো ফ্লিমের মূল্য বড়টা ৭০ টাকা এবং ছোট ৫৫ টাকা হলেও বাহিরের ক্লিনিকে ১৫০ টাকা দিয়ে এক্সে করে নিতে হচ্ছে।

এছাড়া ডিজিটাল এক্সে বড় ফ্লিমের মূল্য ২৫০ টাকা এবং ছোট ১৫০ টাকা হলেও বাহিরের ক্লিনিকে ৩৫০ টাকা ও ৪৫০ টাকা। এতে লাভবান হচ্ছে ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টার।

অপরদিকে সাদাকলো এক্সে পানিতে ধোয়া মুছা ও পরিস্কার করায় অনেকটা অস্পষ্টতা দেখা দেয়। এতে রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রেও ডাক্তারদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধিতে ডিজিটাল এক্সেটি চালু করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার চক-আতিতা গ্রামের বয়জ্যেষ্ঠ নাদিরা বলেন, গত ছয় মাস আগে ডান হাতের কব্জি সরে গেছে। জ্বালা যন্ত্রনা ও ব্যথা করে। ডাক্তার ডিজিটাল এক্সে করতে বলেছেন। কিন্তু বাহিরের ক্লিনিকে বেশি টাকা দিয়ে এক্সে করার সামর্থ নাই। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে সাদাকালো এক্সে করতে হলো। ডিজিটাল এক্সে চাল হলে আমাদের মতো নিন্ম আয়ের মানুষদের জন্য সুবিধা হয়।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা বলেন, জনস্বার্থে এক্সে টা কাজে আসছে না। ফ্লিম পাওয়া যাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল ফ্লিম নেয়ার বিষয়ে। এছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবেও ফ্লিমের বিষয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বলেন, এক্সে মেশিনটির কোন সমস্যা যেন না হয় জন্যই প্রতিমাসে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেটি চালু করা হয়। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ফ্লিম আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফ্লিম কিনার বিষয়ে অবগত করা হয়েছিল। সেখান থেকে কোন সদুত্বর পাওয়া যায়নি।