শেবাচিমে বেতন-ভাতার দাবিতে চলছে আমরণ অনশন

প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৫৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮
শেবাচিমে বেতন-ভাতার দাবিতে চলছে আমরণ অনশন

বেতন-ভাতা প্রদানের দাবীতে আমরণ অনশন পালন করছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা।

সোমবার টানা ২য় দিনের মতো এ কর্মসূচী পালন করছেন তারা। এ পর্যন্ত ৫ অনশনকারী অসুস্থ্য হয়ে পরার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ’র ব্যানারে তারা এ কর্মসূচী পালন করে আসছেন। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ২১২ কর্মচারীর এই কর্মসূচীর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে আমরণ অনাশন করছেন হাসপাতালের পুরাতন কর্মচারী ও বাংলাদেশ সরকারি ৪র্থ কর্মচারী সমিতির বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

এদিকে কর্মচারীদের কর্মবিরতী ও আমরণ অনাশনের জরুরী রোগী ব্যথিত সাধারণ রোগী সেবা ব্যবহ হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলনরত পরিছন্ন কর্মিরা কাজ না করায় হাসপাতালের সর্বত্র দুগন্ধ ছড়িয়ে পরেছে।

কর্মবিরতী ও অনাশন কর্মসূচী চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর বিভিন্ন পদে ২১২ জন কর্মচারী যোগদান করেন। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্মচারীদের কার্যক্রম স্থাগীত রাখার নির্দেশ প্রদান করলে কর্মচারীরা উচ্চাদালতের রীট মামলা দাখিল করে।

ওই বছরের ২২ আগষ্ট উচ্চাদালত কর্মচারীদের পক্ষে রায় প্রদান করলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রীম কোর্টে আপীল করে এবং আদালত আপীলটি খারিজ করে দেয়। চলতি বছেরর ৬ ফেব্রুয়ারী ওই রায়টি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালকে নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের ডিজি। আদেশটি পেয়ে পরিচালক ২৪ ফেব্রুয়ারী কর্মচারীদের বিভিন্ন দপ্তরে কার্যাদেশ প্রদান করেন।

পরবর্তিতে পরিচালককে গত ৪ এপ্রিল যোগদানকৃত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি।

কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও অদৃশ্য ও রহস্য জনক কারনে পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বেতন-ভাত প্রদান করছেন না। এদিকে গত চার মাস পূর্ব থেকে কাজে যোগদানের পরও বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় ২১২ কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতরে জীবন-যাপন করছেন।

এ ব্যপারে পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে কর্মচারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বেতন ভাতা প্রদান করা হয় নি। সর্বশেষ কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য মতামত চেয়ে ফের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।