সিডরের এক দশক পূর্তিতে বরিশালে স্মরণসভা

উপকূল ও চরাঞ্চল উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | আপডেট: ৯:৩২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৭
সিডরের এক দশক পূর্তিতে বরিশালে স্মরণসভা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার এক দশক পূতি উপলক্ষে মতবিনিময়ের আয়োজন করে নিহত ও আক্রান্ত মানুষদের স্মরণ করেছে বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটি ও ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হেনেছিল এই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। প্রাণ গিয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। আহত হয়েছিল প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। বহু বাড়িঘর, গাছপালা ধ্বংস হয়েছিল। উপকূলীয় ৩০টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল, মাছের ঘের ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

বুধবার বেলা ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠনটির সভাপতি নজরুল বিশ^াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের আঞ্চলিক প্রধান এ এইচ তৌফিক আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী মজুমদার। ‘সিডরের এক দশক : কেমন আছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের প্রধান সমন্নয়ক সোহানুর রহমান।

সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষের সঞ্চলনায় রণাঙ্গনের দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশে’র সম্পাদক নুরুল আলম ফরিদ, বাংলাদেশ মডেল ইয়ূথ পার্লামেন্টের চেয়ারপার্সন ফিরোজ মোস্তফা, ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সংগঠক জুবায়ের ইসলাম সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও যুব সংগঠকরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করেন।

বক্তারা বলেন, এক দশকেও সিডরে বেড়িবাঁধের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেগুলোও ঠিকমতো মেরামত করা যায়নি। ১৯৯২ সালে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স উপকূল রক্ষা বাঁধ আরো উঁচু ও মজবুত করে বানানোর পরামর্শ দিলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। মানুষের ঘরবাড়ি দুর্যোগ সহনশীল না হওয়ায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও গবাদি পশু রক্ষায় উঁচু ভূমি নির্মাণের পরামর্শও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশগুলো হচ্ছে: উপকূলীয় নদীগুলোর তীর ধরে বনায়ন, বেড়িবাঁধের প্রস্থ ও উচ্চতা বাড়ানো এবং সেগুলোতে ঘন বনায়ন করতে হবে। সুন্দরবনের আয়তন, গাছপালার ঘনত্ব ও বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। সুপেয় পানির স্থায়ী উৎস বাড়ানো, উপকূলীয় এলাকায় নারী ও শিশুবান্ধব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও গবাদি পশুর জন্য টিলার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্যোগকালে সমুদ্রে জেলেদের সাথে যোগাযোগের উন্নত মাধ্যম ব্যবহার, কমিউনিটি রেডিও চালুকরণ, সচেতনতা অনুষ্ঠান জোরদারকরণ এবং শহরে জলবায়ু সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দিতে সুপারিশ জানান বক্তারা।

সিডর উপদ্রুত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ কল্পে একটি উপকূল ও চরাঞ্চল উন্নয়ন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে উপকূলীয় জনজীবন রক্ষায় সরকার আরো আন্তরিক হবে বলে বক্তারা আশাপ্রকাশ করেন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে। ক্রমেই বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। তার ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে তরুণ সমাজকে আরো বেশি প্রস্তুতি নিতেও আহবান জানানো হয়।