কেশবপুরে কুকুরের কামড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৮ জন হাসপাতালে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২২:অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় কুকুরের কামড়ে ৪ ঘন্টায় শিশুসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সকালের এঘটনায় আহতরা একের পর এক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এসময় হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শুধু জুন মাসেই ৭৭ জন কুকুরে কামড়ের রোগী এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল রেজিষ্টার সূত্রে জানা গেছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সামনে কুকুরের প্রজনন মাস হওয়ায় এখনই গোটা কেশবপুরে কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খ্যাপা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে ১২ পর্যন্ত উপজেলার বায়শা, বালিয়াডাঙ্গা, আলতাপোল ও সুজাপুর গ্রামের ১৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তারা হলেন- বায়সা গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে রওশনারা ইয়াসমিন (৭), সুফল রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় (৬), খাদের আলীর ছেলে জালাল আহম্মেদ (৫৮), মিজানুর রহমানের ছেলে বিপ্লব (৬), আজিজুর রহমানের মেয়ে স্বপ্না (২০), আলতাপোল গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে হাবিবা খাতুন (১৬), হযরত আলীর স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৫৫), পৌর এলাকার বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের কামরুজ্জামানের মেয়ে তাসফিয়া (১০), সাইদুর রহমানের ছেলে আবু মুসা (৫), আতাউর রহমানের স্ত্রী রাবেয়া (৪৫), মনিরুল ইসলামের মেয়ে রিমি (৯), সুজাপুর গ্রামের আব্দুর সাত্তারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৩৬), বারিক মোল্লার ছেলে মোফাজ্জেল হোসেন (৪০), খায়রুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন্নাহার (৩৮), ভোগতি নরেন্দ্রপুর ওয়ার্ডের খঞ্জের আলীর ছেলে মোজাম গাজী (৫০), বেগমপুর গ্রামের ইউছুপ আলীর ছেলে আবুল বাসার (৪৫), ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের নিছার আলীর ছেলে আয়ুব আলী (৫০) ও বারুইহাটি গ্রামের মাদার সরদারের ছেলে এলাই বক্স (৩৫)।

তাদের মধ্যে সন্দীপ রায় ও জালাল আহম্মেদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বারুইহাটি গ্রামের কৃষক এলাই বক্স জানান, তিনি বীজধান কিনতে কেশবপুর বাজারের মধূসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কুকুর পিছন দিক দিয়ে তার পিঠে কামড় দেয়।

বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের রাবেয়া বেগম জানান, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় পিছন থেকে কুকুর এসে ঝাপ দিয়ে হাতের বাহুতে কামড়ে ধরে।

পৌর এলাকার লোকজ শিল্পী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত সোমবার তার ১টি গরুকে কুকুরে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে। মানুষের পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য গরু ছাগল কুকুরে কামড়াচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শেখ আবু শাহিন জানান, গত ২/৩ দিন ধরে কুকুরে কামড়ানো রোগী বেশি এসেছে। শুধু জুন মাসে ৭৭ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি বছর গত ৬ মাসে ওই ৭৭ জন সহ ২৭৫ জন কুকুরে কামড়ানো রোগীকে এ হাসপাতাল থেকে সরকারিভাবে জলাতাঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। কুকুর নিধন ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কেশবপুর পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, কুকুর না মারার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার কারণে কুকুর নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি তিনি ইউএইচওর নিকট থেকে শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান বলেন, পৌরসভা কুকুর নিধন না করতে পারলে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে তো জলাতাঙ্কমুক্ত করা যায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকুরকে ও মানুষকে আলাদা আলাদা করে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য এক লাখ টাকার দু’ধরনের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ওই ভ্যাকসিন পৌঁছে যাবে। তার কিছু অংশ প্রাণী সম্পদ অফিসে এবং বাকী অংশ হাসপাতালে রেখে প্রয়োগ করা হবে।