মাহী সুপার স্টার, নাকি শুধুই অভিনেত্রী

এ আল মামুন এ আল মামুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩৬:অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮

একজন অভিনেত্রী যে সুপারস্টার হতে হোলে
যে যোগ্যতা লাগে মাহির সেই সব গুনিয় আছে
তার প্রমাণ___
প্রথমে
১.অভিনেতাদের মতোই নিজেকে সিনেমার প্রাণবিন্দুতে সচল রাখতে হবে।
২.গ্রাম্য,শহুরে সব শ্রেনীর দর্শকদের মনে যায়গা করে নিতে হবে।
৩.ইন্ডাস্ট্রির বিগ বাজেটের সিনেমা গুলোতে তাকে নিয়ে পরিচালক প্রযোজকদের আস্থা থাকতে হবে।
৪.সিনেমায় অন্যান্য আর্টিস্টদের থেকে তার প্রতি আলাদা আকর্ষন থাকতে হবে, এমনকি তারকাবহুল চলচ্চিত্রেও নিজের উপস্থিতি ঠিক রেখে প্রশংসা কুড়িয়ে নিতে হবে।
৫.নিজেকে সুপারস্টার হিসাবে প্রমাণ করতে, ইন্ডাস্ট্রিতে থাকা পরিণত সুপারস্টারের সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে।
৬. নিজ দর্শকদের প্রতি আস্থা রেখে বারবার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
৭. কখনও সম্ভব হয়নি মিডিয়ায় এমন কোন নতুন ধাপ ইন্ডাস্ট্রিকে উপহার দিতে হবে।
৮.অধিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েও নিজ দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখতে হবে।
৯. সফল সিনেমা উপহার দেবার জন্য কোন বড় উৎসবের জনপ্রিয়তা বা কোন বড়স্টারের জনপ্রিয়তায় বিশ্বাস করা যাবে না।
১০. সর্বপরি, নিজ টানে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক আনতে হবে।
এই গুনগুলো যে অভিনেত্রীর মাঝ থেকে খুঁজে পাওয়া যাবে তাকে সুপারস্টার মানতে কি আপনার কোন অসম্মতি আছে?
উপরিউক্ত প্রতিটি গুনই বর্তমান মাহির মাঝে লক্ষ্য করা যায়। তাই আপত্তিহীন ভাবেই আমি মাহীকে সুপারস্টার ভাবতে পারি। বিয়ের পর অধিকাংশ ইন্টার্ভিউতেই মাহিকে সুপারস্টার বলেছে উপস্থাপকরা,বিষয়টা আমার কাছে অবাক লাগেনি। কারন তারা সত্য কথাটিই বলেছে।
আসুন, উল্লেখিত সুপারস্টার গুনগুলো মাহির মাঝ থেকে খুঁজে নেই_________
১. অভিনেতাদের মতোই মাহী সিনেমার প্রাণবিন্দুতে নিজেকে সচল রাখে। এরপ্রমাণ বারবার বিভিন্ন সিনেমায় পেয়েছি। কখনও সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করে প্রাণবিন্দুতে থেকেছে কখনও বা ভালবাসা বিভর সিনেমার গল্প ঘীরে রেখেছে।
২. সব চরিত্রে সব স্থানের দর্শকদের হৃদয় পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছে মাহী। ভালবাসার রঙ, অন্যরকম ভালবাসা,আজকাল বা জুলিয়েট হয়ে একদিকে রোমান্টিক প্রেমীদের মন কেড়েছে।
অন্যদিকে অগ্নি,বিগ ব্রাদার বা অগ্নি২ দিয়ে উত্তেজিত দর্শকের গভিরে ঢুকেছে।
যেমন ভাবে ময়নামতির ময়না বা পোড়ামনের পরি হয়ে গ্রাম বাংলার দর্শকদের মানিয়ে নিছে তেমনভাবে কৃষ্ণপক্ষের অরু হয়ে স্তব্ধ নিথর দর্শকের হৃদয় নেড়েছে।
৩.যখন দুইবাংলার সব থেকে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্রে একমাত্র মাহির উপর আস্থা রেখে বাজি ধরেছিল পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী,দেশিও প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং ভিনদেশিপ্রডাকশন এসকে মুভিজ,তখন মাহি কিন্তু তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়নি। একেরপর রেকর্ড ভেংগে মান রেখেছেন নিজের কাজের। এখনও পরিচালকরা সম্পূর্ণ মাহিকে কেন্দ্র করে গল্প লিখে ঘুড়ছেন মাহির পিছে।
৪.তারকাবহুল সিনেমায় পর্দা উপস্থিতি বা প্রশংসা নিয়ে যদি কিছু বলতেই হয় তাহলে ঢাকা অ্যাটাক লক্ষ করুন। ৭/৮ জন আকর্ষিত তারকা থাকা সত্ত্বেও মাহির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেনা কেউ। এমনকি এতগুলা তারকার মাঝে মাহী একাই যা প্রশংসিত হয়েছে তা দৃষ্টিগোচর।
৫.নিজেকে সুপারস্টার হিসাবে প্রমাণ করতে সফলতার ক্যাটাগরিতে সুপারস্টারের মত করে দেখিয়েছে মাহী। বছরশেষে সেরা দশে সুপারস্টার শাকিব খানের ৪টি সিনেমা থাকলে মাহিও এগিয়ে এসেছে তিনটি নিয়ে,কোন নায়ক আসেনি শাকিবকে প্রতিযোগীতা করতে। কখনও বা শাকিবের সাথে পাল্লা দিয়েই একেরপর এক রেকর্ড ভেংগে গিয়েছে মাহী।
৬. তার দর্শকদের প্রতি বিশ্বাস রেখে এখনও মাহী নতুনদের সাথে কাজ করছে। নতুন নায়ক,নতুন পরিচালকদের মিডিয়ায় আসার এক সুযোগ করে দিচ্ছে, তার জনপ্রিয়তায় বারবার আলোচনায় আসছে তারা।
৭.মারমার কাটকাট টাইপের অগ্নি দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই পালটে দিয়েছেন মাহী। যুক্ত করেছেন ঢালিউডের নতুন এক ক্যাটাগরি। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারো এসেছেন সিক্যুয়েল নিয়ে।
৮.জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে বিতর্ক আর আচমকাই বিয়ে করে যে সমালোচিত হয়েছেন মাহি তার জবাব ঢাকা অ্যাটাক সিনেমাই দিয়ে দিয়েছে। বোঝা যায় কতটা বেড়েছে তার হলদর্শক।
৯.উৎসববিহীন সময় গুলোতে পোড়ামন,অগ্নি,জুলিয়েট বা ঢাকা অ্যাটাকের সফলতাই এনে দিয়েছে মাহীকে সফলতা শীর্ষে। কোন স্টারের স্টারডম ব্যবহার না করে, ফ্লপস্টার,নতুন স্টারদের সাথেই বারবার উপহার দিয়েছে তার দুই ব্লকবাস্টার অগ্নি সিক্যুয়েল।
১০. আর সর্বপরিই, মাহির নিজ টানে দর্শক টানে প্রেক্ষাগৃহে। কথাটি বিশ্বাস করেছেন,তার পরিচালক প্রযোজকরা। এমনকি মাহী নিজেও……
সুপারস্টার হতে খুব বেশি সিনেমা থাকার প্রয়োজন হয়না, এরকম উদাহরণ অনেক পাওয়া যাবে। তাই ক্যারিয়ারের ১৯ সিনেমা নিয়ে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীকে সুপারস্টার ভাবতে আমার কোন সমস্যা হয়না।
লেখকঃ @Romeo Raj