বেতন-ভাতার দাবীতে শেবাচিম হাসপাতালে কর্মচারীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪২:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮

বেতন-ভাতার দাবীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা কর্মবিরতী, বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে।

সোমবার (২৫ জুন) বেলা ১১ টায় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী কল্যান সমিতির কার্যলয়ে সভাপতি মোঃ মোদাচ্ছের কবিরের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সামাবেশ বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শেবাচিম  হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর বিভিন্ন পদে ২১৫ জন কর্মচারী যোগদান করেন। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্মচারীদের কার্যক্রম স্থাগীত রাখার নির্দেশ প্রদান করলে কর্মচারীরা উচ্চাদালতের রীট মামলা দাখিল করে। ওই বছরের ২২ আগষ্ট উচ্চাদালত কর্মচারীদের পক্ষে রায় প্রদান করলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রীম কোর্টে আপীল করে এবং আদালত আপীলটি খারিজ করে দেয়। বক্তারা বলেন, চলতি বছেরর ৬ ফেব্রুয়ারী ওই রায়টি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালকে নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের ডিজি।

আদেশটি পেয়ে পরিচালক ২৪ ফেব্রুয়ারী কর্মচারীদের বিভিন্ন দপ্তরে কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে পরিচালককে গত ৪ এপ্রিল যোগদানকৃত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। কিন্তু ইতো মধ্যে কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও অদৃশ্য ও রহস্য জনক কারনে পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বেতন-ভাত প্রদান করছেন না। কাজে যোগদানের পরও বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় ২১২ কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতরে জীবন-যাপন করছেন। সমাবেশে কর্মচারীরা হাসপাতাল পরিচালককে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ২১২ কর্মচারীকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা প্রদানের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

অন্যথায় ১ জুলাই রোববার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন কর্মচারীরা।

সমাবেশ শেষে বেলা ১২ টায় হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন কর্মচারীরা পরিচালকের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান নিলে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ ব্যপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে কর্মচারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বেতন ভাতা প্রদান করা হয় নি। সর্বশেষ কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য মতামত চেয়ে ফের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।