নওগাঁর আত্রাইয়ে ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক স্বামী জাহিদুলের বিরুদ্ধে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২১:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮
নওগাঁর আত্রাইয়ে ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক স্বামী জাহিদুলের বিরুদ্ধে

রওশন আরাপারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-

হাতের মেহেদী না মুছতেই যৌতুক লোভী স্বামী প্রতারনা করে ভ’য়া সাক্ষর ও ভ’য়াস্বাক্ষীদের জাল স্বাক্ষর দিয়ে তালাক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আত্রাই উপজেলার চকবিষ্টপুর এলাকার ওমেস আলীর মেয়ে। দরিদ্র পিতার অভাব অনাটনের মাঝেই বেড়ে উঠেছে মিনা বেগম। স্কুলের পড়াশুনা শেষ হতে না হতেই উভয় পক্ষের অভিবাকের সম্মতিক্রমে দরিদ্র পিতা পাশ^বর্তী গুড়নই গ্রামের মোমিন প্রামানিকের বাক প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদুল (কালা) সাথে ২০১৬ তে বিয়ে হয় দু’জনের। প্রখমে শুখে শান্তিতে সংসার করার পর শুরু হয় শাশুড়ী জমিলা বেগমের পরামর্শে বাক প্রতিবন্ধী স্বামী জাহিদুল (কালা) যৌতুকের জন্য চাপ দেয়া ও শাররীক নির্যাতন। মিনা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের মেহেদী না শুকাতেই যৌতুক লোভী স্বাশুড়ি ও বাক প্রতিবন্ধী স্বামী মিনার বাবার কাছে ব্যবসা করার জন্য ১ লাখ টাকা চায়। আমার বাবা গরীব টাকা দিতে অস্বীকার করায়। বিগত ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে আমার স্বাশুড়ী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগীতায় আমার উপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন করে। আমি গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় ও আত্রাই হাসপাতালে চিকিৎসা নেই।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক ভাবে দেন-দরবার পর থেকে স্বামীর সংঙ্গে সংসার করতে থাকি। হঠাৎ করে ২০-০৪-১৮ইং তারিখে আমার শ^াশুড়ী আমাকে এনজিও থেকে লোনের টাকা তোলা কথা বলে আমাকে গুড়নই গ্রামের পাঁচুপুর ইউনিয়নে কাজী সাইফুল ইসলামের স্বশুর জামাতের সাবেক আমির বর্তমানে জামাতের সক্রিয় সদস্য এবং গুরনই সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক মওলানা ইয়াকুব আলীর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং একটি কাগজে স্বাক্ষর ও একটি ছবিতে স্বাক্ষর নেয়। তারপর থেকে আমি আমার বাক প্রতিবন্ধী স্বামী জাহিদুল(কালা) নিয়ে যথারিতি ঘর সংসার করে আসছি। গত ঈদুল ফেতর (ঈদের পর দিন) আমি ও আমার স্বামী আমার বাবার বাড়ি চকবিষ্টপুর ঈদের দাওয়াত খেতে যাই। ঈদ শেষে আমার স্বামী আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে তার নিজ বাড়ি গুড়নই গ্রামে চলে আসে। গত ১৮জুন সকালে আমার শ^াশুড়ি জমিলা বেগম আমার বাবার বাড়িতে এসে আমার গর্ভধারিনী মাতার নিকট স্বামী তালাকের কাগজ দেন। যাহাতে পাঁচুপুর ইউনিয়নের কাজী মোঃ সাইফুল ইসলাম নিকাহ রেজিষ্টার স্বাক্ষর রহিয়াছে। প্রকৃত পক্ষে আমি ওই তালাকের ব্যাপারে কিছুই জানি না। স্বাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দিয়েছে তাদেরকেও চিনি না ।এ বিষয়ে স্বাক্ষীদের নিকট জানাতে চাইলে তারা বলেন তারাও এ বিষয়ে কিছুই জানে না বা তারা কোন স্বাক্ষর দেন নাই। তাদের স্বাক্ষর কাজীর শ^শুর জামাত নেতা ইয়াকুব আলী প্রচুর অর্থের বিনিময়ে ভূয়া কাজী সেজে তালাক নামা তৈরি করেছেন।

উল্ল্যেক্ষ বিয়ের পর থেকে আমার শ^াশুড়ির পরামর্শে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষঠান থেকে টাকা লোনের টাকা তুলে দিতাম। একদিন কাজীর শ^শুর (সহকারী কাজী) এনজিওর অফিসার সেজে আমার স্বামীর বাড়িতে এসে প্রতরণা মূলক ভাবে সদস্য হওয়ার জন্য সাদা কাগজে দু’টি স্বাক্ষর নেন।

আমার ধারণা ওই দুটি টিপ স্বাক্ষর জাল করে একে অপরের সাথে যোগসাজসে ভূয়া তালাক নামা বানিয়েছেন।ইতি পূর্বে আমার শ^াশুরীর প্ররোচনায় আমার স্বামী ৪টি বিয়ে করে তাহা পরবর্তীতে জানতে পারি। বিবাহীত প্রত্যেক স্ত্রীর সহিত যৌতুকের চাপ ও শাররীক নির্যাতনের কারনে তার ৪টি বিবাহীত স্ত্রী চলে যায়। এখন সে আমার শ^াশুড়ীর প্ররোচনায় আমাকে তালাক দিয়ে অন্য স্থানে আবারও বিয়ে করবে বলেই ভূয়া তালাক নামা বানিয়েছে।। আমি স্বামীর সংসারে থাকা কালিন তিন মাসের গর্ভবতী। বর্তমানে আমার গর্ভে তার সন্তান আছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

আর কোন নারী যাতে আমার মত যৌতুকের জন্য নির্যাতনের স্বীকার হতে না হয়। আর এই অপকর্মের সহযোগী কাজী জামাত নেতা ইয়াকুব আলী। মুসলিম লেবাস লাগিয়ে টাকার বিনিময়ে এই অপকর্ম গুলো করেন তিনি।
এবিষয়ে তালাক নামার স্বাক্ষী গুড়নই গ্রামের ভোলাই সরদার এর ছেলে আফছার ও বকুল প্রাং এর ছেলে আলা-আমিন বলেন,এবিষযে আমরা কিছুই জানি না বা স্বাক্ষী হিসেবে আমরা তালাক নামায় কোন স্বাক্ষর করি নাই।

আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয় সাহেবগঞ্জ বাজারে কাজী সাইফুল ইসলাম এর চেম্বারে এ বিষয়ে জানতে গেলে তিনি হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গার ভয়ে মূল বিষয়টি এরিয়ে যান। প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও মিনা বেগমের পরিবার আইন প্রশাসন ও উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা সহসুষ্ঠ বিচারের দাবী জানান।