আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে নীরবে বরিশাল ফিরলেন সাদিক

নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে সতর্কতা

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪৩:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮
আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে নীরবে বরিশাল ফিরলেন সাদিক

গুঞ্জন ছিল দলীয় মনোনয়ন জয়লাভ করে দু’ একদিনের মধ্যে রাজধানী থেকে ঘরে ফিরছেন বরিশালে সময়ের আলোচিত নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে বহুল আকাঙ্খিত নৌকার টিকিট নিয়ে সাদিকের বরিশাল ফেরাকে কেন্দ্র করে উদগ্রীব ছিল উল্লাসিত নেতা-কর্মীরা। বৃহৎ আকারের শোডাউনের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে উদ্যোগী সমর্থকদেরও কমতি ছিলনা। কখন ফিরছেন নেতা?- এমন প্রশ্ন যখন সবদিকে গুঞ্জরিত হচ্ছিল তখন অতি উৎসাহী কর্মী-সমর্থকদের আশায় জল ঢেলে দিয়ে এক রকম চুপিসারেই গতকাল দুপুরে বিমানযোগে বরিশাল ফিরেছেন মহানগর আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কৌশলী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এমনটাই তথ্য নিশ্চিত করেছে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল ফিরে সাদিক আবদুল্লাহর প্রধান কাজ হচ্ছে সবার সাথে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা। এরপর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক সবধরনের নির্বাচনী বিধি মেনে প্রচারকার্য শুরু করবেন তিনি।

বরিশালে আগমনের তথ্য নিয়ে কেন এই লুকোচুরি? জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন কাউকে আগাম তথ্য না জানিয়ে বরিশালে ফেরায় অনেক নেতা-কর্মী কিছুটা হতাশ হলেও এটা সাদিকের এক ধরনের নির্বাচনী কৌশল। বড় ধরনের জনসমাগম কিংবা সর্ম্বধনার মাধ্যমে নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘণ এড়াতেই তিনি তার সফরসূচি গোপন রেখেছেন। কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহনের বিরুদ্ধেও সাদিকের ছিল শক্ত নিষেধাজ্ঞা। একদিকে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে যেমনি সর্তক, অপরপক্ষে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে নগরের বাসিন্দাদের বিন্দুমাত্র বিড়ম্বনায় ফেলে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে নারাজ দলীয় নের্তৃবৃন্দ। দল ও নেতাকে অনাকাঙ্খিত বির্বতকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধিমালা মেনে চলতে ইউনিট পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছে বরিশাল মহানগর আ’লীগ।

সূত্র জানায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য গত শুক্রবার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সেরনিযাবাত সাদিক আবদুল্লাহকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড। সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাদিকের ওপর ভরসা করেই বরিশাল সিটি নির্বাচনে লড়তে তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা। সরকারের উন্নয়ণ কর্মকান্ড জণগনের মাঝে প্রচার করে ভোট চাইতে যেমনি বলেছেন আবার দলকে জেতাতে গিয়ে দলকে না ডোবাতেও দিয়ে রেখেছেন কড়া হুশিয়ারি।

দলীয় সভানেত্রীর এ আস্থা অর্জনে সাদিককেও কম কাঠখর পোড়াতে হয়নি। সাবেক বিসিসি মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরণের মৃত্যুর পর নিরলস পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে স্পট লাইটে চলে আসেন সাদিক। দলীয় নেতাকর্মী ও আপমর বরিশালবাসীর পাশে থাকতে তাদের সুখে দুখে ছুটিয়ে বেড়িয়েছেন নগরীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তারুণ্যের প্রতীক হয়ে ওঠা সাদিক আবদুল্লাহ যুবরত্ন হিসেবেও পান ব্যাপক পরিচিতি। দু:সময়ে হাল ধরায় মহানগর এবং জেলা আওয়ামী লীগও তাঁর পক্ষে থেকে একক প্রার্থী হিসেবে তার নাম হাইকমান্ডে প্রস্তাব করে।

অন্য দুই সিটি কর্পোরেশনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক দুই মেয়র লিটন ও কামরানের নাম প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে থাকলেও বরিশালের জন্য হেভিওয়েট প্রার্থী খুঁজছিল আ’লীগ। রাজশাহী ও সিলেটে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন দেয়া হলেও বরিশালের জন্য চলছিল এক ধরনের ঠান্ডা যুদ্ধ। মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন কর্ণেল জাহিদ ফারুক শামীম। গত সিটি নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আলতাফ হোসেন ভুলুও ফরম কিনে দলীয় সর্মথনের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছিলেন। সব ধরনের জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করে জণসর্মথনের মানদন্ডে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জিতে নিলেন হাসানাতপুত্র সাদিক আবদুল্লাহ।

২২ জুন গনভবনে তাকে মনোনয়ন ঘোষনার পর পরই দলীয় নেতা কর্মিরা আনন্দ মিছিল করে উল্লাসে ফেটে পরে। নগরী জুড়ে মসজিদে মসজিদে হযেছে দোয়া মোনাজাত ও মিষ্টি বিতরন। মনোনয়নের বিষয়টি ঘোষণা হওয়ার পরে সাদিক অনুসারী নেতাকর্মীরা বরিশালে ফিরেছেন। জাতীয় পর্যায়ে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি ও সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে সাদিকের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল কর্মী-সর্মথকরা।

সাদিকের ঘনিষ্ঠ একাধিক আ’লীগ নেতা জানিয়েছেন, রোববার দুপুর ১২ টার দিকে বিমানযোগে তিনি (সাদিক) বরিশাল রহমতপুর থেকে বরিশাল কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনের নিজ বাস ভবনে পৌছেছেন। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দের বসে রাহাতুল আশেকীন নামের এক যুব সংগঠকের সাথে  ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়ে যাওযায় তাঁর বরিশাল ফেরার বিষযটি চারদিকে চাউর হয়ে যায়। নেতার বরিশাল আসার খবরে অসংখ্য নেতাকর্মী সাক্ষাৎ করতে ছুটে যান তার বাস ভবনে। কিন্তু সাদিকের আগমনকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের আয়োজন করতে নিষেধ থাকার কারণে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে সাদিকের আজ বরিশালের আসার বিষয়টি অনেকেই জানতেন বলে দাবি তাদের।

কাউকে না জানিয়ে এইভাবে আসার কারন জানতে চাইলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের জানিয়ে ফিরলে উৎসবমুখর নেতাকর্মীদের আনন্দ-উল্লাসে জানযটে শহর অচল হয়ে যেতে পারত। নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ তৈরী হতো। জণগনের নেতা হিসেবে আমি সেটা উপলব্ধি করেছি। জণগন যাতে কোন ধরনের বিড়ম্বনায় না পরে সেই দিক বিবেচনা করেই আমি এভাবে এসেছি। তিনি আরও জানান, আমি সামনের দিনগুলোতে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই।