রৌমারী থানায় ওসি জাহাঙ্গীর আলমের যোগদানে পাল্টে গেছে গোটা থানা চিত্র

সাকিব আল হাসান সাকিব আল হাসান

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৭:অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮
রৌমারী থানায় ওসি জাহাঙ্গীর আলমের যোগদানে পাল্টে গেছে গোটা থানা চিত্র

কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার সুনামধন্য ওসি জাহাঙ্গীর আলম । তিনি রৌমারীতে আসার পরই পাল্টে যায় গোটা থানার চিত্র। পুলিশ শাসক নয়, শোষক নয়; পুলিশ জনগণের সেবক। এই মন্ত্রে উজ্জীবিত এখন পুরো রৌমারী থানার পুলিশের সকল সদস্য। তাই হ্রাস পেয়েছে পুলিশ কর্তৃক মানুষের হয়রানি।

ন্যায় বিচারের মূলে পুলিশের নিরপেক্ষতা এবং সততা। এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অন্যতম একটি বাহিনীর ভাবমুর্তি। একমাত্র এ বাহিনীটিকেই জনসাধারণের সংস্পর্শে যেতে হয়, পেশাদারিত্বের স্বার্থে। তাই অনেক সময় বিভিন্ন কারনে বা অকারনে লোভ ও লালসার বশবর্তী হয়ে পড়েন কিছু সদস্য। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সাহসী কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। সকল শক্তি অপশক্তিকে উপেক্ষা করে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কনস্টেবলদের প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেরণাদীপ্ত পারঙ্গমতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন তিনি।

ওসি জাহাঙ্গীর আলম রৌমারীতে যোগদান এর পর থেকেই তাঁর কাজের সাফল্য ধারাবাহিকতা-সাফল্য স্বাক্ষী হয়ে থাকবে রৌমারীর ইতিহাসে। ইতিমধ্যে তিনি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জয় করে নিয়েছেন অভিভাবক মহলেরও মন। গোটা রৌমারী উপজেলার সকল এলাকার  যুবসমাজ যখন মাদকের ছোবলে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে তখন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দূরদর্শিতার ফলে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য এবং আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী-পাঁচারকারী এবং মাদকসেবী, আটক ও উদ্ধারে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

রৌমারীতে গত ২০১৭ ইং সালের ৫ আগস্ট ওসি হিসেবে যোগদান করেন জাহাঙ্গীর আলম। রৌমারীতে তাঁর যোগদানের পর পাল্টে যায় গোটা উপজেলার চিত্র, পরিবর্তন আসে সকল ক্ষেত্রে। তাঁর দক্ষ তদারকিতে পেশাদারিত্ব আসে মাঠপযায়ে সদস্যদের মাঝেও। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ-অপবাদ লাঘবে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিচক্ষণতা অনেকাংশেই প্রশংসার দাবী রাখে।

অফিসার ইন-চার্জ হিসেবে যোগদানের পর ইতোমধ্যেই সঠিক নিয়মের মধ্য রৌমারীতে বেশ কিছু কনস্টেবল নিয়োগে অসাধারণ ভূমিকায় তিনি চেষ্টা সম্পন্ন করেছেন। সাম্প্রতিককালে রৌমারীর কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনই প্রশ্ন ওঠেনি। তাঁর এ সততার দরুণ যে সকল সদস্যরা নিয়োগ পেয়েছেন এবং যাঁরা এ নিয়োগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন সকলেই এ নিয়োগে গর্ববোধ করতে পারেন। এছাড়া, সাধারণ জনতার মাঝে দীর্ঘ দিনের যে সংশয় ছিল, ‘ভয়,পুলিশ সহযোগীতার কাজে টাকা লাগে’ এ সংশয়ও তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন চিরতরে।

ওসি জাহাঙ্গীর আলম  যোগদানের পর থানায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের, কমে গেছে অকারনে জিডি’র প্রবণতা। সাধারণ মানুষের ভয় কেটেছে পুলিশের প্রতি, সেবা প্রাপ্তির লক্ষে পুলিশের দ্বারস্ত হচ্ছে এখন মানুষ। ওসি জাহাঙ্গীর আলম থানার কর্মকর্তাদের নিয়ে সময়ে সময়ে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদারকিসহ অফিসারদের কাজে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। এতে করে পুলিশি হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষের অনেটাই মুক্তি মিলেছে। আর এসব কারনেই কুড়িগ্রাম জেলার সেরা ওসি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি যেমন প্রান্তিক নিপীড়িত অসহায় মানুষের কথা যেমন মন দিয়ে শোনেন, তেমনি সেবা সহযোগীতার হাতও বাড়িয়ে দেন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে। মিষ্টি হেসে মানুষের সাথে কথা বলা, সাধারন জনগণের জন্য ওসির দরজা খোলা রাখা, সেবারূপ বৃদ্ধি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

পুলিশের প্রতি নির্ভরশীলতার অভাবে অনেক মানুষেরই ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে অনিহা ছিল। অনেকে নিরবে-নিবৃত্তে প্রভাবশালীদের ছোটখাটো জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন। এতে করে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়েছিল। এসব সামাজিক সমস্যা নিরসনে ওসি জাহাঙ্গীর আলম তার অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে থাকেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে এখন।

তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে তেমনি মানুষের জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে। জানা যায় বিভিন্ন সুত্রে, জাহাঙ্গীর আলম ওসি হিসাবে যোগদান করার পর থেকে আজ পর্যান্ত এপর্যন্ত মদ,ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, হিরোইনসহ ক্রেতা-বিক্রেতা খোর গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে প্রেরণ হয়েছে ২৫০জন।

৯ মাসে মাদকের উপর মামলা হয়েছে ১২০টি । উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন প্রকার বিদেশী মদ ৯১৬ বোতল। গাঁজা ৪ মন ২২ কেজি,ফেন্সিডিল ২২৭ বোতল ও ইয়াবা জব্দ করেছেন সাড়ে ৮ হাজার পিসের ও বেশী। রক্ষা পায়নি সন্ত্রাস,ডাকাত , খুনি। কুখ্যাত খুনি আজাদ বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার। রাজিব পুরের কোদাল কাটি থেকে সট গান উদ্ধার।

এব্যাপারে ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষের সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
আমার দায়িত্ব। ওসি হিসেবে যতদিন কর্মরত আছি, ততদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিরলস ভাবে আমার দায়িত্ব পালন করবো। যাতে করে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে ও সস্তিতে থাকতে পারে। আমি মানবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
কেউ যদি কোথাও সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করে আর সে ঘটনা যদি পুলিশকে জানানো হয় তাহলে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।