ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপসাণের দাবিতে যুবলীগের বিােভ

প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৮ | আপডেট: ২:২৬:অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৮

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দে ৭টি ব্রিজ নির্মাণ কাজে দরপত্র জমাদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে সংবাদ মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান বক্তব্য দেন। এতে তিনি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নানা ষড়যন্ত্র করেছে বলে ােভে ফুসে উঠেছে ঝালকাঠি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপজেলা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিােভ মিছিল করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন রানারও শাস্তি দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
দুপুর ১টার দিকে শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিােভ মিছিল নিয়ে শহর প্রদনি করে। মিছিলটি শহরে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদণি শেষে স্থানীয় প্রেস কাবের সামনে বিােভ সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির, শহর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. ছবির হোসেন, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মো, জুবায়ের হোসেন, পৌর কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান ও পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু। বক্তারা বলেন দুর্নীতিবাজ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান ও সাবেক পৌর মেয়র আফজাল হোসেন সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের সঙ্গে লিপ্ত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ভাবমূর্তি ুন্ন করার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরণের মিথ্যাচারের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেন।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান প্রেসকাবের সামনে উপস্থিত হয়ে বিােভ কারীদের বিশৃঙ্খলা না করে শান্তিপুর্ণভাবে কর্মসূচী পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সম্পর্কে ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান হোসেন খান এর প্রচারিত ভিডিও বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঝালকাঠির সাধারণ ঠিকাদাররা।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস কাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা ঠিকাদার পরিষদের আহবায়ক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক আকন্দ।
মুজিবুল হক আকন্দ লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান সম্প্রতি ত্রান মন্ত্রনালয়ের একটি দরপত্রকে কেন্দ্র করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পুর্ন ভ্রান্ত, মনগড়া, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এ টেন্ডার কার্যক্রমের সাথে মাননীয় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর কোন সম্পর্ক নেই। ত্রানের ঐ টেন্ডার কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে আইন শৃঙ্খলা রা ব্যাতিত পুলিশের অন্যকোন ভুমিকা ছিলো না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগত ঠিকাদাররা তাদের দরপত্র বাক্সে জমা দিয়েছেন। আমরাও একত্রে ১০/১২ জন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিয়েছি আমাদের কেহ বাধা দেয়নি। কাজেই দরপত্র জমাদানে সুলতান হোসেন খানকে বাধা দেয়ার অভিযোগ তা সম্পূর্ন মিথ্যা। লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, জাতীয় নেতা এ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু’র ভাবমুর্তি ুন্ন করার উদ্দেশ্যে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসন খান মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে তা ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন।
মুজিবুল হক আকন্দ আরও বলেন, আমাদের সকলের নেতা আমির হোসেন আমু ঝালকাঠি-নলছিটি এলাকার যে উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন তা ঝালকাঠি ও নলছিটি বাসীর হৃদয়ে দৃশ্যমান। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সকল জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহব্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান, মঈনউদ্দিন পলাশ, মো. সুজন, খোকন মেম্বর, মো. আরিফুর রহমান, মো. শুভ খান, মো. লিটন তালুকদার, মো. নেয়ামত সরদার, সফিকুল ইসলাম, জামাল হাওলাদার প্রমুখ।
অপরদিকে এ জটিল সময়কে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে ৬ বার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও একবার রাস্ট্রপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া সদর উপজেলার বাদলকাঠি গ্রামের ক্বারী মো. শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ার সুযোগে শিল্পমন্ত্রীকে কটা করে ১২ জুন তারিখে একটি লিফলেট ছড়িয়ে দেয়। ৩ মাস পূর্বে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বাড়িতে শয্যাশায়ী। মঙ্গলবার ঝালকাঠি প্রেসকাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ক্বারী মো. শাহজাহানের ছেলে ডেন্টিস্ট শেখ মো. নুরুজ্জামান।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুনের দরপত্র জমা দানে বাধা দেয়ার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ১২ জুন ঝালকাঠি প্রেসকাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামীলীগ। এর পর থেকেই কখনও চাপা আবার কখনও প্রকাশ্য উত্তেজনা বিরাজ করছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে।