আমন ক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগ দিশাহারা কৃষক

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | আপডেট: ৫:৩৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭
আমন ক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগ দিশাহারা কৃষক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।। বরগুনার তালতলী উপজেলার সর্বত্রই আমন ফসলের পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমনে কৃষকরা দিশাহারা। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফসলের রোগ দমনে তারা ব্যর্থ। ফসলে পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চলছে। এ মুহুর্তে কৃষি বিভাগ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ একাধীক কৃষকের। অন্যদিকে শিডিউল অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উপজেলা কৃষি বিবাগের দাবী। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ফসলের আবাদ করা হয়েছে। আমন আবাদের শুরুতে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও কৃষকরা ভালো ফসলের আশায় আমনের ক্ষেত প্রস্তুত করে বীজ রোপন করেছেন। এ বছর আমনের বা¤পার ফলনের আশা করেছেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারনে বিগত কয়েক দিন ধরে আমন খেতে পাতা ঝলসানো রোগ ও পোকার আক্রমন শুরু হয়েছে। এতে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তারা এই পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমন থেকে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ওষুধ ব্যবহার করলেও তা কোন কাজে আসছেনা। উপজেলার নয়াপাড়া, ছাতনপাড়া, লাউপাড়া, কবিরাজপাড়া, তালুকদারপাড়া, গাবতলী, ছোটবগী, বেহালা, গেন্ডামারা, কচুপাত্রা, নলবুনিয়া, শারিকখালী, কড়ইবাড়িয়া, শানুরবাজার, হরিনখোলা ও হেলেঞ্চাবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগ
দেখা দিয়েছে। এতে আমনের ধান গাছের পাতা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কঠোর শ্রমের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে দুশ্চিন্তায় পরেছেন এলাকার অধিকাংশ কৃষক। উপজেলার ছোটভাইজোড়া এলাকার কৃষক আঃ কাদের জানান, পাতা ঝলসানো রোগে আমন ক্ষেতের চারা লালচে আকার ধারন করেছে ও আমন ধানের ক্ষেত দিনে দিনে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এ রোগে ফসল রক্ষার জন্য তারা বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগের তরফ থেকে কোনো প্রকার পরামর্শ বা সহায়তা পাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন এলাকার একাধিক কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম বদরুল আলম জানান, ঝড়ের কারণে আমন ধান গাছের পাতা ঝলসানো রোগ হয়ত দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আমন ক্ষেতকে রক্ষার জন্য ১০ লিটার পানির মধ্যে ৬০ গ্রাম এমওপি ও ৬০ গ্রাম থিওভিট মিশ্রণ করে ৫ শতাংশ জমির আমন ক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই পাতা ঝলসানো রোগের কোনো ওষুধ নেই। এ ব্যপারে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খাঁন বলেন, পাতা ঝলসানো রোগে ফসল রক্ষায় তিন-চার বার বালাইনাশক ওষুধ ছিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যেই জেলার সকল উপজেলায় কৃষকদের এই রোগের প্রতিকার স¤পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।