নওগাঁয় মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকার মাছ মারার অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৪:অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮
নওগাঁয় মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকার মাছ মারার অভিযোগ

রওশন আরাপারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধি:

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের নিমদিঘী গ্রামে সাবেক এক ইউপি মেম্বারে পুকুর থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই ইউপি মেম্বার রবিউল আলম এবং বাড়ী একই গ্রামে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিনে প্রকাশ্যে পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়। মিথ্যে মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানো হবে বলে এব্যাপারে ভূক্তভোগী ইউপি সদস্য ভয়ে থানায় মামলা করতে যেতেও সাহস পাচ্ছেনা।

জানা গেছে, উপজেলার নিমদিঘী গ্রামের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত পাওয়া দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবৎ বুড়াদিঘী নামের প্রায় ৩৪ বিঘা আয়তনের পুকুর ভোগ করে আসছিলেন ওই ইউপি সদস্য। হঠাৎ করে ১৯৯৯ সালে শামুজ্জোহা নামের জনৈক ব্যাক্তি ওই দিঘীটির ৩০৯ নম্বর হোল্ডিং ও খাজনা আদায় বন্ধে নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ওই হোল্ডিং ও খাজনা আদায় বন্ধের আদেশ দেন।

উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের ভাই এন্তাজ আলী ১৫/১০/২০০০খ্রিঃ বাদী হয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের আদালতে মামলা করা হলে উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে ৩১/০৫/২০০১খ্রিঃ জেলা প্রশাসকের আদেশ রহিত করে পুনরায় হোল্ডিং চালু করে খাজনা নেয়ার আদেশ প্রদান করেন। বিভাগীয় কমিশনারের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে বাংলাদেশ ভূমি আপীল বোর্ড শাখা-২, সেগুন বাগিচা, ঢাকায় নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বাদী হয়ে আপীল করে যাহার আপীল নম্বর ২-৯৮/২০০১ নওগাঁ দায়ের করলে ১৭/১২/২০০২খ্রিঃ উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে আপীলটি খারিজ হয়ে যায়।

পরবর্তী বিভাগীয় কমিশনারের রায়ের প্রেক্ষিতে ১৩/১১/২০০৩খ্রিঃ বাংলাদেশ ভুমি মন্ত্রনালয়ে হোল্ডি ও খাজনা চালু করার আবেদন করেন ইউপি সাবেক সদস্য রবিউল আলম। ভূমি মন্ত্রনালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে ০৬/০৬/২০০৬খ্রিঃ মন্ত্রনালয় হোল্ডিং চালু খাজনা নেয়ার জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসকের নিকট নির্দেশনা দেয়া হলেও অদ্যবধিও হোল্ডিং চালু ও খাজনা নেয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে রবিউল আলম বাদী হয়ে ০৬/০৪/২০০০খ্রিঃ সাব জজ আদালত-৩ -এ ওই দিঘীর হোল্ডিং চালু ও খাজনার আদেশ এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন রবিউল আলম। মামলা নম্বর ২৮/২০০০ অঃ প্রঃ। মামলার প্রেক্ষিতে বিবাদীগণকে নালিশি সম্পত্তির মূল মোকর্দ্দমা চলমান পর্যন্ত অন্যত্র হস্তান্তর বা লীজ প্রদান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। ওই সম্পত্তির মূল মোকদ্দমা বর্তমান চলমান রহিয়াছে।

সরকারী স্বার্থ পরিপন্থী হওয়ায় নওগাঁ ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশে তৎকালীন জিপি বাদী হয়ে নওগাঁ জেলা জজ আদালতে ১০৩২/৮০ অঃ প্রঃ রায়ের বিরুদ্ধে মিস আপীল মামলা ৯১/১২ নম্বর দায়ের করিলে গত ১৪/০৩/২০১৭খ্রিঃ তারিখে আপীল মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং রাজশাহী সাব জজ আদালতের রায় বহাল করেন।

রাষ্টপক্ষের সঙ্গে চলমান মামলার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকার দলীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক ওই পুকুরে মাছ মারার চেষ্টা করলে রবিউল আলম বাদী হয়ে গত ২৪/০৪/২০১৮খ্রিঃ তারিখে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নিয়ামতপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন যাহার মামলা নং-৩৪/২০১৮। মামলাটি শুনানি ও জবাব দাখিল পর্যন্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

পরবর্তী ১৩ মার্চ (বুধবার) ওই পুকুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হকের নির্দেশে নিয়ামতপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ বাবর আলীর নের্তৃত্বে শামসুজ্জোহা, রেজাউল, মোহাম্মদ আলী, নাঈম ও আলাউদ্দীন নামে প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নেয়। এছাড়া ১৩/০২/১৮ ইং তারিখে পার্শ্ববর্তী অন্য একটি পুকুরে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার মাছ গভীর রাতে মারা হলে বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করলেও কোন রকম প্রতিকার পায়নি বলে জানান ভূক্তভোগী রবিউল আলম।

নিমদিঘী গ্রামের প্রতক্ষদর্শী রায়হান জামিল জানান, গত দুইদিনে আওয়ামীলীগের কিছু লোকজন প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক ওই দিঘীটিতে মাছ মারছে।

নিয়ামতপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বাবর আলী বলেন, পুকুর থেকে মাছ ধরার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও সাহেবকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রবিউল আলমকে কোন রকম মাদক মামলার ভয় দেখানো হয়নি। তবে নিয়ামতপুর থানা থেকে বলেছিলো যে, তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এটিই তাকে বলেছিলাম। তবে রবিউল আলম মাদকের সাথে জড়িত কি না তা জানা নেই।

নিয়ামতপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, নিমদিঘী গ্রামের বুড়াদিঘীতে মাছ ধরার ব্যাপারে থানায় কেহ কোন রকম অভিযোগ করেনি। রবিউল আলমের বিরুদ্ধে কোন মাদক মামলা নেই। এই মামলার ভয় দেখানোর কথাটিও সঠিক নয়।

নিয়ামতপুর থানার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম বলেন, ওই দিঘীটির বিরুদ্ধে আদালতের সকল মামলার রায় রবিউল আমাদের পক্ষে আছে। তবে বর্তমানে একটি মামলা আদালতে চলমান থাকার কারনে গত বছর পুকুরটি লীজ দেয়া ছিল। পরবর্তীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারনে এই বছর সরকারীভাবে কোন প্রকার লীজ দেয়া হয়নি। যদি জোরপূর্বক কেহ মাছ ধরে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এনামুল হকের মোবাইলে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#