ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পৌছতে সীমাহীন ভোগান্তি ॥ নেই যাত্রী ছাউনি

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০০:অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮
ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পৌছতে সীমাহীন ভোগান্তি ॥ নেই যাত্রী ছাউনি

ঝালকাঠি ও বরিশালের রূপাতলী বাস মালিক সমিতির মধ্যে রুট হিস্যা নিয়ে দ্বন্দ্বে বরিশাল থেকে সরাসরি ১০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি ঝালকাঠি-বরিশাল সড়কের সীমান্ত এলাকায় নলছিটি উপজেলাধীন কালিজিরা পয়েন্টে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। এ টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, আমুয়া, নলছিটি, মোল্লারহাট ও খুলনা রুটে বাস চলাচল করছে। রূপাতলী থেকে কালিজিরা বাস টার্মিনালের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। এ ২ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। অটোরিক্সা অথবা মাহেন্দ্র গাড়িতে করে কালিজিরা টার্মিনালে পৌছতে হয় ঈদ উপলক্ষ্যে আসা ঘরমুখো যাত্রীদের। রাস্তা খারাপ হওয়ায় গাড়ির ধাক্কা অসহনীয় যন্ত্রণা, সেই সাথে ঈদ উপলক্ষে অটো-মাহেন্দ্রতে ১০ টাকা ভাড়ার স্থলে ১৫ /২০ টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। তা ছাড়া পথিমধ্যে বরিশাল বাস মালিক সমিতি চেক পোষ্ট বসিয়ে কোন থ্রি-হুইলার যান ডুকতে দিচ্ছে না বরিশালে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন করছেন বরিশাল বাস মালিক সমিতি। কালিজিরা বাস টার্মিনালে গিয়ে অপেক্ষার জন্য নেই কোন যাত্রী ছাউনী। তীব্র গরমে গাড়ির মধ্যেই বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। অপরদিকে কালিজিরা ব্রিজ থেকে ভান্ডারিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের ঝালকাঠি অংশে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধীনে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪ কিলোমিটার বর্ধিত করণের কাজ শুরু চলছে। একটি গাড়ী আরেকটি গাড়িকে সাইড দিতে গেলে খুব সতর্কতার সাথে চলতে হয়। একটু হেরফের হলেই বর্ধিকরণের স্থানে চাকা পড়লে দেবে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। বুধবার দুপুরের নলছিটির ভৈরবপাশা এবং মঙ্গলবার সকালে রাজাপুরেসহ এরপূর্বেও এ ধরণের একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে।
চট্টগ্রাম থেকে ভান্ডারিয়া উদ্দেশ্যে আসছেন সাফিয়া বেগম। সাথে তার স্বামী ও ২ সন্তান রয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ভালোভাবেই বরিশালের রূপাতলী আসছিলাম। বিপত্তি বাধে রূপাতলী থেকে কালিজিরা বাসস্ট্যান্ডে আসা পর্যন্ত। ২ কিলোমিটার সড়কে ২ শতাধিক খানাখন্দ রয়েছে। অটো গাড়িতে করে আসায় তাতে যে ঝাকুনি দিয়েছে অনেক কষ্ট হয়েছে। ঢাকা থেকে রাজাপুরের বাইপাস এলাকার নিজ বাড়িতে বাবা-মা’র সাথে ঈদ কাটাতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, রূপাতলী থেকে কালিজিরা বাসস্ট্যান্ডে যে কষ্ট হয়েছে ঢাকা থেকে বরিশালে আসতেও এতো কষ্ট হয়নি। আমি যাবো রাজাপুরের বাইপাসে। কিন্তু আমাকে ভান্ডারিয়ার গাড়িতে উঠিয়ে ৫৫ টাকার ভাড়ার স্থলে ৭৫ টাকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরণের প্রতারণার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগকালে রহিম বাদশা নামের এক বাস শ্রমিক তাকে ধমক দেয় এবং পথিমধ্যে ওই যাত্রীকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয়।
বাস শ্রমিক নেতা টিপু সুলতান জানান, বরিশালের সাথে সড়কের ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় আলাদা টার্মিনাল করা হয়েছে। ২ কিলোমিটার পথ আসতে অটোরিক্সা বা মাহিন্দ্র গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। আমরা বরিশাল থেকে কালিজিরা পর্যন্ত সার্ভিস দিতে না পারায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ টাকা করে কম রাখছি। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে কোন বাড়তি ভাড়া নেয়া হয় না। মালিক সমিতির লোক সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য আঃ সত্তার হাওলাদার (আবির -৩২৬২ গাড়ির মালিক) জানান, বরিশালের রূপাতলী ও আমাদের ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির ন্যায্য হিস্যা না পেয়ে আলাদা বাসস্ট্যান্ড করেছি। এখানে কোন বাড়তি ভাড়া রাখা হয় না। মালিক সমিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।