খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি দলটি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৩১:অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৮

ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশের পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রবিবারই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বক্তব্য আসে। কিন্তু গতকাল তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেওয়ার খবর শুনে তার বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করে বিএএনপি। তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আবার দাবি জানায় দলটি। খালেদা জিয়া নিজেও বিএসএমএমইউতে

চিকিৎসায় সন্তুষ্ট নন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমাদের সময়কে বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত হাসপাতাল হচ্ছে বিএসএমএমইউ। এখানে সবাই চিকিৎসা নিতে চায়। এখানকার ডাক্তাররা যদি বলেন, তাকে এখানে চিকিৎসা করা যাবে না, তা হলে তখন বিএনপির দাবি বিবেচনা করা হবে।’

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দেখে এসে বলেছিলেন, গত ৫ জুন বিএনপি চেয়ারপারসনের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। সে কারণে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। ৭৩ বছর বয়সী দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। রবিবার সকালেও নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সরকার ‘কনসার্ন’ জানিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আইনমন্ত্রী বলেন, তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আজ (রবিবার) তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে তাঁকে কখন নিয়ে যাওয়া হবে, তা তিনি জানেন না বলে জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা) রোজা রেখেছিলেন, রোজা রাখার পর বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে একটু হেলে পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাকে যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, ওখানে যে লোক আছে ফাতেমা, সে ধরে ফেলে এবং তাৎক্ষণিক জেলের ডাক্তাররা তাকে দেখেন। তিনি যেহেতু রোজা রেখেছিলেন, তার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল বলে তারা (চিকিৎসক) জানান এবং একটা চকোলেট খাওয়ার পরে তা রিভাইভ করে। কারাগারে কেউ অসুস্থ হলে কারাবিধি অনুযায়ী তার যে চিকিৎসা প্রয়োজন, সরকার তা নিশ্চিত করবে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।

তবে রবিবার কখন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে, সেটা আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করতে না পারায় সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে জিজ্ঞেস করেন। দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দুপুরের দিকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু ঠিক কখন খালেদা জিয়াকে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হবে, তা আইজি প্রিজন্স নির্ধারণ করবেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার সুপারিশ করলেও বিএসএমএমইউতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বড় বড় চিকিৎসক ও গবেষক রয়েছেন। আর ওনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তো রয়েছেনই। সুতরাং এখানেই চিকিৎসা হবে।’ এর পর অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার শতভাগ আন্তরিক।’

চার মাস ধরে কারাবন্দি খালেদাকে এর আগে এপ্রিলের শুরুতে এক্সরে করাতে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়েছিল। ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়। বিএনপির অভিযোগ, খালেদার জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার উদাসীন। সে কারণে তার অবস্থার অবনতি ঘটছে।

এদিকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছেÑ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শুনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিকালে নয়াপল্টনে আবারও এক সংবাদ সম্মেলনে করেন। সেখানে তিনি বলেন, বিএসএমএমইউতে তার নেত্রীর ‘যথাযথ চিকিৎসা’ হবে না। তিনি বলেন, ‘পিজিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) ওনার যে চিকিৎসা, সেই চিকিৎসার ব্যাপারে উনি (খালেদা জিয়া) সন্তুষ্ট নন। সেখানে তার যথাযথ চিকিৎসা হবে না, সেখানে তিনি চিকিৎসা করাতে চান না, সেখানে তিনি চিকিৎসা নেবেন না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আমরা আবার আহ্বান জানাচ্ছি।’

খালেদার জামিন শুনানি মুলতবি : বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানি মুলতবি করেন। আজ সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিচ্ছেন না : খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিচ্ছেন না বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের অবস্থায় কত দিন আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন? মানুষ হয়তোবা আমাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আইন নিজেরাই হাতে তুলে নেবে। সেদিনের অপেক্ষায় আমরা আছি। শুনানি মুলতবি করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সুগার লেভেল ফল হয়েছিল : খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে আদালতে দেওয়া খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক নয়। অজ্ঞান ছিলেন, এটাও ঠিক নয়। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পরে উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকোলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল। আদালতের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।