‘গরিবের আবার বাজেট কী?…আমাগো কেউ জিগাইতে আইব না।’

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৭:পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮
‘গরিবের আবার বাজেট কী?…আমাগো কেউ জিগাইতে আইব না।’

মাচাংয়ের ওপর স্তূপ করে রাখা টি-শার্ট। দাম হাঁকাতেই ব্যস্ত ছিলেন হকার আনোয়ার হোসেন। এর ফাঁকে বাজেট নিয়ে প্রশ্ন করায় কিছুটা বিরক্তই মনে হলো তাঁকে। বললেন, বাজেট নিয়ে তেমন ভাবতে চান না তিনি। আনোয়ারের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘গরিবের আবার বাজেট কী? তয় কথা হইল, সরকার হের নিজের মতোন বাজেট বানাইব। আমাগো কী লাগব না লাগব, কেউ জিগাইতে আইব না।’

তবে হার্ডওয়্যারের দোকানি মো. ইব্রাহিম ভাবছেন অন্য রকম। আগে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাজেট ঘোষণা হইছে?’ ইতিবাচক উত্তর পেয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের মাথায় নির্বাচন। হিসাব কইরাই বাজেট নিয়া আগাইব।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার সংসদে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। এ বিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়। অনেকেই বলছেন, জীবনঘনিষ্ঠ কোনো বিষয়ে প্রভাব না পড়লে বাজেট নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামান না। অর্থাৎ বাজেটের প্রভাব তাঁরা বোঝেন বাজারে কোনো কিছুর দাম বাড়লে বা কমলে। তবে নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনী বছর হওয়ায় সরকার সাবধানী হবে।

নাগরিকদের প্রতিক্রিয়ায় বাজেট নিয়ে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের ভাবনা উঠে আসে। সরকারি চাকরিজীবী সাইফুন্নাহার হাসতে হাসতেই বললেন, ‘কী করেছে এখনো দেখি নাই। তবে সরকার খুব হিসাব করেই বাজেট দেবে এবার। নির্বাচন তো সামনে।’

নির্বাচন সামনে রেখে সরকার কাউকে ‘খ্যাপাতে’ চাইবে না বলে মনে করেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢুকেছেন কাঁচাবাজারে। বাজেট ঘোষণার কথা শুনলেও বিস্তারিত তিনি জানেন না। সেলিম বলেন, ‘যেসব জিনিসের দাম বাড়তে পারে বলে শুনছি, তা বাজারে তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে না। বাজেট কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তা আবার প্রত্যাহারও হয়।’

প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। মোবাইল ও ব্যাটারি-চার্জার, ২০০০ ভোল্ট পর্যন্ত ইউপিএস ও আইপিএস এবং ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রসাধনসামগ্রী, যেমন সানস্ক্রিন, হাত-নখ-পায়ের প্রসাধনসামগ্রীর ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শেভিং সামগ্রী, শরীরের দুর্গন্ধ ও ঘাম দূরীকরণে ব্যবহৃত সামগ্রীতেও (আতর ব্যতীত) বাড়বে শুল্ক। সুতরাং এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে ও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল ফিল্ড মিল্ক পাউডার বাল্ক আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ভ্যাট প্রত্যাহার হয়েছে বল পয়েন্ট কলমের কালি আমদানিতেও।

সবজি বিক্রেতা মো. আজিজুল বাজেট বলতে বোঝেন নিত্যপণ্যের দামের ওঠা-নামা। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আগে কন চাইল-ডাইলের দাম বাড়ছেনি?’ তাঁর কথা, এ ঘোষণার পর নিজের ঘরভাড়া, ছেলেমেয়ের পড়ালেখার বা প্রতিদিনের বাজারে যদি বেশি খরচ না হয়, তবে বাজেট নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই।

গাড়িচালক জিয়াউল হকেরও বাজেট প্রশ্নে কোনো ভাবান্তর নেই। তিনি বলেন, ‘অল্প টাকার সংসারের মানুষ আমি। এই সব নিয়ে ভাবি না।’

তবে বাজেট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন একটি তৈরি পোশাকের দোকানের কর্মচারী মো. শামীম। কারণ ছেলে ঈদে মোবাইল ফোন চেয়েছে। লোকমুখে শামীম শুনেছেন, মোবাইল ফোনের দাম বাড়বে। জাতীয় বাজেট ঘোষণায় তাঁর ব্যক্তিগত বাজেট এখন পড়ে গেছে টানাটানিতে! দাম বাড়লে কোত্থেকে বাড়তি টাকা আসবে, তা-ই এখন ভাবছেন শামীম।

  • প্রথম আলো