চৌগাছা ইউএনওর বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশের গালি দেওয়ার অভিযোগ।

প্রকাশিত: ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুন ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৫১:পূর্বাহ্ণ, জুন ৫, ২০১৮
চৌগাছা ইউএনওর বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশের  গালি দেওয়ার অভিযোগ।

চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চৌকিদার-দফাদাররা একজোট হয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন আজ। থানা হাজিরা চাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারদের  সঙ্গে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে জানা যায়।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সেসময় হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌকিদার দফাদার সমিতির উপজেলা সভাপতি রেজাউল ইসলামকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ছাড়াও তাকে লাঠিপেটা করতে উদ্যত হন।

উপজেলা গ্রাম পুলিশ সমিতির সভাপতি ও ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা আমাদের থানা হাজিরা (প্যারেডের) বিলে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যাই। তিনি বলেন, ‘কথা বলার এক পর্যায়ে  তিনি আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার কর্মচারীদের বলেন, ‘এই আমার গাড়ি থেকে লাঠিটি নিয়ে আসো তো! ওকে লাঠিপেটা করে বের করে দিই।’ সেসময় ইউএনও অফিসে ছিলেন হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান। তিনি আমাদের বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমরা বাইরে চলে আসি।’’

সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপদাহ ইউপির দফাদার হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের থানা হাজিরার ১১ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। আমরা সামান্য বেতনে চাকরি করি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাই। সেখানে এক একজনের প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ২০০ করে ১১ মাসের ভাতার টাকা বাকি রয়েছে। সেই টাকা চাইতে গেলে ইউএনও আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।’

বিক্ষোভের সময় উপজেলা পরিষদে ছিলেন না চেয়াম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। তারা ঘটনা শুনে পরিষদে এলে বিকেল তিনটায় উপজেলার সকল চৌকিদার-দফাদার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা তাদের সঙ্গে ইউএনওর অসদাচরণের বিষয়ে অভিযোগ করেন। তখন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওর সাথে কথা বলে চৌকিদার-দফাদারদের নিরস্ত করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাকিমপুর ইউপি চেয়ামর্যান মাসুদুল হাসান বলেন, ইউএনও তাদের উপর রাগারাগি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ফান্ড আছে তা দিয়ে বেতন-ভাতাই পরিশোধ করা যাচ্ছে না। থানা প্যারেডের হাজিরা দেবো কীভাবে?’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন বলেন, ‘তারা ভাতার টাকা চায়। এজন্য প্রতিদিন তারা অফিসে আসে। তাদের বুঝিয়ে বলা সত্ত্বেও জোট বেঁধে অফিসে আসে।’

তবে দফাদারদের গালিগালাজ করার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইউএনও কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফান্ডে টাকা না থাকায় তাদের বকেয়া ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না বলে ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন। যে টাকা রয়েছে তা ইউপি সচিবদের জন্য জেলা পরিষদে দিতে হবে।’
তবে যা আছে সেখান থেকে ঈদের আগে যথাসম্ভব বকেয়া টাকা চৌকিদার-দফাদারদের দেওয়া হবে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।
ইউএনওর বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘ইউএনও যদি এটা করে থাকেন, তাহলে সেটা তিনি ঠিক করেননি। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এমনটি করতে পারেন না। বিষয়টি তাদেরকে বুঝিয়ে বলা যেত।’
প্রসঙ্গত চৌকিদার-দফাদাররা (গ্রাম পুলিশ) উপজেলা পরিষদের ভূমি আয়ের ১% থেকে তাদের বেতন-ভাতার একটি অংশ পেয়ে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে থানায় তাদের হাজিরা দিয়ে প্যারেডে অংশ নিতে হয়। এরজন্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয় একই উৎস থেকে।