জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:০০:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০১৮
ফাইল ছবি


বরিশালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আর নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ইফতার সামগ্রী। এ নিয়ে প্রতিদিনিই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ঘটছে বাকবিতণ্ডার ঘটনা। ক্রেতাদের অভিযোগ নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় পঁচা, বাসী ও নিম্নমানের ইফতারই বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

নগরের ক্রেতাদের অভিযোগ, গেল বছর রমজানের শুরু থেকে সিটি করপোরেশনের  ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর ইফতার বাজারে প্রতিদিন দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু এবার তেমন কোন মনিটরিং না থাকার সুযোগে নিম্নমানের ইফতার বিক্রি করে মুনাফা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাধ্য হয়ে এই ইফতারই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। যা খেয়ে পরিবারের লোকজন অসুস্থ্ হয়ে পড়ছেন। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে  না বলে অভিযোগ তাদের।

সরেজমিনে জানা যায়, নগরীর অলিগলিতে বিপুল সংখ্যক নিম্নমানের ইফতার বাজার গড়ে উঠেছে। এসব ইফতারির ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে তৈরি হচ্ছে নানা রকমের ইফতার। অসাধু ব্যবসায়ীরা ঘুষ দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ভেজাল ইফতার ব্যবসা। ইফতার নিয়ে প্রতিদিনই ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে ঘটছে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতির ঘটনাও।  বরিশাল নগরীর মূল সড়কসহ অলিগলিতে প্রায় হাজার খানেক ইফতারের দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব খাবারের গুণগত মান নিরীক্ষার জন্যেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যাতে এই ব্যবসায়ীরাও সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ব্যবসাও চলছে নির্বিঘ্নে।

অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভ্রাম্যমাণ ইফতারের দোকানগুলোতে নজরদারি থাকলেও অলিগলির দোকানগুলোতে তেমন কোনো নজরদারি নেই সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের।

বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা রাহাত হোসেন ফাহিম জানান, পঁচা ছোলা বুট বিক্রি করা নিয়ে নতুন বাজারের ডায়মন্ড রেস্তোরার কর্মচারীদের সঙ্গে বিএম কলেজ ছাত্রদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এই রেস্তোরার বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই অভিযোগ ছিল নিম্নমানের খাবার বিক্রির। নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাসিন্দা ফজলুল সিকদার জানান, শুধু অলিগলির ইফতার দোকানগুলোই নয়। ঝামেলা রয়েছে বড় বড় ইফতারের দোকানগুলোতে। তিনি বলেন, নগরীর বগুড়া রোডের নাজেমের ইফতার বাজারেও ভেজাল ইফতার বিক্রি হচ্ছে। ইফতার সামগ্রী কিনে বাসায় এসে দেখি সব খাবারই নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সদর রোডের ইফতার বাজারেও ভেজাল রয়েছে।

এই বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান জানান, সিটি করপোরেশন অভিযান চলছে। অভিযান আরও জোরদার হবে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ১ম রমজান থেকে বাসি, পঁচা, ভেজাল ইফতার সামগ্রীর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে তাদের। প্রতিদিনই ইফতারের আগ মুহুর্তে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে ইফতার বাজারের ওপর।