মধুপুরে কলেজ ছাত্রী রূপা’র পর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

হাফিজুর রহমান হাফিজুর রহমান

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩:০০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৩:০০:পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৮
মধুপুরে কলেজ ছাত্রী রূপা’র পর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে কলেজ ছাত্রী রুপা ধর্ষণের পর আবারো লিজা নামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের উত্তর পাড়ায় নিজ বাড়ীর পশ্চিম পাশের বাঁশঝাড় থেকে কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

লিজা একই গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে। সে গাছাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা ৪ ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল।

নিহতের পারিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে গোসল করতে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি লিজা। অনেক খোঁজাখুজির পর রাত ৯ টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশঝাড়ে কলাপাতায় মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের শরীরের কাপড়-চোপড় ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার মাথা ও শরীরে খড়ের আবর্জনা ছিল। মরদেহ দেখে স্থানীয়রা ধারণা করছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পরে মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। অরণখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, এ ঘটনার সাথে যে বা যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন হয়। এ বিচার দেখে আর যেন কেউ এ রকম ঘটনা আর ঘটাতে সাহস না পায়।

নিহতের ভাই রনি জানান, লিজা রোজা ছিল। ইফতারও করতে পারলনা। বলতে বলতেই কেঁদে কেঁদে মূর্ছা যান। আর বলতে থাকেন বোনরে তুই আমার কাছে বলে গেলিনা। লিজার মা ফাহিমা বেগম জানান, আমার মেয়েকে যারাই নির্যাতন করে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। বলতে বলতেই শোক কাতর হয়ে পড়েন।
গাছাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিহতের সহপাঠি রীমা ও মীম জানায়, আমরা এক সাথেই স্কুলে যেতাম ও খেলতাম। এভাবে যেই নির্যাতন করে থাক তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। আমরা তাদের ফাঁসি চাই।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারণা করছে ধর্ষনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।