শীঘ্রই এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে ॥ প্রধানমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২৫:পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৮
শীঘ্রই এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে ॥ প্রধানমন্ত্রী

শীঘ্রই এক লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের টেকনাফের শিবির থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে সরকারের সকল পদক্ষেপের প্রতি স্থানীয় জনগণ সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএন-এফপিএ) নির্বাহী পরিচালক নাতালিয়া ক্যানেম বুধবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। সাক্ষাতকালে তারা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষ করে নারী উন্নয়ন এবং মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী ইউএনএফপিএ কর্মকর্তাকে জানান, তার সরকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় প্রদান করেছে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণেরও এ ধরনের শরণার্থী হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের সবরকম সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার যদিও তাদের অবস্থানকে স্বস্তিদায়ক করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তথাপি রোহিঙ্গারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খুবই অমানবিকভাবে অবস্থান করছে। প্রতিদিন অন্তত ৬০টি শিশুর সেখানে জন্ম হচ্ছে এবং বর্ষার কারণে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার যতদিন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে না নেয়, ততদিন প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা হবে, যেখানে তারা অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আরেকটু ভাল পরিবেশ পাবেন।

সফররত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি নাতালিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করায় এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি এ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় তার সরকারের অগ্রাধিকার তৃণমূল থেকে উন্নয়নের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পথ চলছে, জাতির পিতাই স্বাধীনতার পরে নারীদের জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ও পল্লী উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখেই নির্ধারিত হয়, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র বৃত্তি সঠিকভাবে বিতরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ॥ এদিকে, বুধবার তার কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিলের ৫ম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় সরকারের গৃহীত বৃত্তি ও অন্যান্য সুবিধা গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংকালে বলেন, ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা সহায়তার সুবিধা অনলাইনে পায় সেজন্য ই-স্টাইপেন্ড ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন। বৈঠকে ট্রাস্টের কর্মকা- ও বর্তমান অবস্থা এবং ২০১৮ সালের বৃত্তি কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা হয়।

ট্রাস্টের সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান অন্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ট্রাস্টের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানান।