মাদক নির্মূলের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে: রিজভী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৩:অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮
মাদক নির্মূলের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে: রিজভী

আগামী নির্বাচনকে সমনে রেখে মাদক নির্মূলের নামে সরকার বিরোধী দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মেরে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গতরাতে নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে। আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কৃত্যে পরিণত হয়েছে। যা মানবধিকারের পরিপন্থি ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মানবধিকারের এ রক্তাক্ত মূর্তি দেশবাসীর মধ্যে ভয়ের শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। এ অনাচারের সরকারি প্রশাসনের মানবতার অধঃপতন আরো নিচের দিকে নামছে।

 

গত দুদিন আগেও আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। বেআইনিভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেই। গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। বেআইনি মৃত্যুদণ্ড অপরাধ দমনের মানদণ্ড হতে পারে না। গতরাতেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নেত্রকোনা, দিনাজপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০জনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম এর পিছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটি এখন ফুটে উঠতে শুরু করেছে। আসলে মাদক নির্মূলের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যার যে হিড়িক চলছে, এর গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিরোধী দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মেরে ফেলা।

 

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুখবর আওয়ামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেই। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প। সুদূর প্রসারী নীল নকশা। এ রমজান মাসে কর্দমাক্ত খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যে জনজীবনে নাভিশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলার করুণ পরিণতিতে দেশের বেহাল অবস্থা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই দৃষ্টি ফেরানোর কৌশলে লিপ্ত রয়েছে কি না সে প্রশ্নই জনমনে উকি দিয়েছে। আমরা মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। দেশের প্রচলিত আইনেই তো মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু তা না করে সারাদেশে বন্দুকের অপব্যবহারে মানুষ হত্যা কোন সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না।

 

আবার মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কাদেরকে ধরা হচ্ছে, মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের। বর্তমান ভোটার বিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পিছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন সরকার দলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে। গণমাধ্যমে তো ধারাবাহিকভাবে জেলা ওয়ারি রাঘব বোয়ালদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু উচ্চ পর্যায়ের লোকেরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সেগুলো গণমাধ্যমে এসেছে। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নানা চ্যানেলে মাদক এসে ঢুকছে বাংলাদেশে। এ চ্যানেল গুলোর উৎস মুখ বন্ধ করতে পারেনি কেন সরকার? মাদকের আসল গডফাদারদের ধরছেন না কেন? সেখানেই আপনাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। এখন জনগণ সব সময় আতঙ্কের শিহরণ অনুভব করছে। গুম খুনের কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী জনসমাজের চারপাশে আতঙ্ক ছড়ানো সেই সব চিহ্নিত কর্মকর্তাদের দিয়েই বেআইনিভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আমি আবারও ক্রসফায়ারের নামে বেআইনি হত্যা বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। সকল বিচার বহির্ভূত হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে দেশী-বিদেশী সকল মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজকে গুম, খুন ও বেআইনি বিচারবর্হিভূত হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজানেও পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি চলছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানী, গ্রেপ্তার কিংবা জেলগেটে গ্রেপ্তার চলছেই। গতরাতে সাহরীর কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশের তল্লাশির নামে তা-ব চালায়। জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ইলয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে। আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকে। পরে ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ইলিয়াস আলীর বাসার বাইরে অবস্থান নেয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যক্তিরা চলে যায়। বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

রাজশাহী সিটি করপোশেনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সাহেব বাজার সিটি করপোশেনের মার্কেটে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ব্যানার ঝুলিয়েছিলেন কিন্তু পুলিশ সরকারি দলের নির্দেশে বর্তমান মেয়রের শুভেচ্ছা ব্যানারটি খুলে ফেলে। এ ব্যাপারে রাজশাহীর মেয়র পুলিশকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ বরং আওয়ামী ক্যাডারের মতোই আচরণ করে এবং বেআইনিভাবে বর্তমান মেয়রের ব্যানারটি খুলে ফেলার কাজটির পক্ষে অবস্থান নেয়। বর্তমান শেখ হাসিনার শাসনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিয়াল বাহিনীর মতো কাজ করছে। এ কাজ একটি জনপ্রতিনিধির সঙ্গে চরম অবজ্ঞা বলেও দাবি করেন তিনি।