বিএনপিতে তারেকের অপ্রিয় নেতারা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০৪:পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮
বিএনপিতে তারেকের অপ্রিয় নেতারা

বিএনপিতে এখন তারেকের রাজত্ব চলছে বলে অধিকাংশ নেতা মনে করেন। ২০০১ সাল থেকে বিএনপিতে তারেক জিয়ার প্রভাব বাড়ছেই। তারেক জিয়া যাঁর প্রতি রুষ্ট হন তাঁকে হয় দল ত্যাগ করতে হয় অথবা দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতে হয়। তারেকের পছন্দ নয় এ কারণেই শমসের মোবিন চৌধুরীর মতো নামকরা কূটনীতিককে বিএনপি ছাড়তে হয়েছে। তারেকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মতো জাঁদরেল নেতারা বিএনপিতে থেকেও নেই। বিএনপির অনেকেই বলেন, তারেক জিয়ার ‘আশীর্বাদ’ ছাড়া বিএনপিতে কেউ ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন না। কিন্তু বিএনপির মধ্যে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালালে দেখা যায়, তারেক জিয়ার প্রিয়ভাজন না হওয়া সত্ত্বেও বিএনপিতে বেশ শক্ত অবস্থানেই আছেন অনেক নেতা। এরা সুযোগ পেলেই তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেন। এদের শক্ত অবস্থানের প্রধান কারণ বেগম জিয়া। দ্বিতীয় প্রধান কারণ, পরিবেশ পরিস্থিতি এমন যে তাদের চাইলেই তারেক বাদ দিতে পারেন না।

বিএনপিতে এখন বেগম জিয়া তারেক জিয়ার পরই যার অবস্থান তিনি হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের পর তিনিই দলের মধ্যমণি। কিন্তু মির্জা ফখরুল তারেকের পছন্দের ব্যক্তি নন। বিএনপির মহাসচিব হবার পর মির্জা ফখরুল একবারও তারেকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত পাননি। এমনকি গত বছর বেগম জিয়া যখর লন্ডনে গেলেন, তখনও বিএনপি মহাসচিবও লন্ডন যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারেক জিয়ার অনাগ্রহে ফখরুল লন্ডন যাত্রা বাতিল করেন। যদিও আমীর খসরু মাহমুদ, আবদুল আউয়াল  মিন্টুরা সে সময় লন্ডন যান এবং তারেক জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। ২০১৪ তে মির্জা ফখরুলের বোরখা পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গিয়ে জামিন নেওয়ার ব্যাপারে তারেক জিয়া তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এখনো দুজনের চিন্তা দুই মেরুতে। তারেকের অপছন্দের মানুষ হয়েও মির্জা ফখরুল এখন বিএনপির মহাসচিব। এটা সম্ভব হয়েছে বেগম জিয়ার পছন্দের জন্য। তাছাড়া দলের বাইরে তার আলাদা ইমেজ থাকায় তারেক চাইলেই ফখরুলকে ফেলতে পারছেন না।

বিএনপিতে তারেকের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব করে এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে আছেন বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলাম। ২০০১ সাল থেকে তিনি তারেক বিরোধী প্রধান নেতা। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, অসুস্থতার অজুহাতে তারেক তরিকুলকে দলের স্থায়ী কমিটির পদ থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়ার অনড় আপত্তির কারণে সেটা হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান তারেক জিয়ার প্রকাশ্য সমালোচক। এখনো বিএনপির এই সংস্কারপন্থী নেতা মনে করেন, তারেক জিয়ার রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া উচিত। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি বিএনপিতে পরিবারতন্ত্রের অবসান চেয়েছিলেন। এরপর তাঁর বিএনপিতে থাকা বিস্ময়! তবে সেনাবাহিনীতে আলাদা শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে বিবেচিত জেনারেল মাহবুব। বিএনপি তাই চাইলেও তাঁকে ফেলতে পারবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির দুই নেতার মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, তারেক জিয়ার অপছন্দের তালিকায়। বিএনপির জনপ্রিয় এই নেতা নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তারেক জিয়াই তাঁকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে দেননি। এনিয়ে ক্ষুব্ধ নোমান পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়ার অনুরোধে তিনি দলে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। দলে বিপুল জনপ্রিয় হলেও তারেকের জন্যই তিনি বঞ্চিত, এমনটাই মনে করেন বিএনপির অনেক নেতা কর্মীই।

তারেক জিয়ার বিরাগভাজনদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে এই ক’জন শীর্ষ নেতার নাম বেশী আলোচিত হয় বিএনপিতে।