ভোলায় গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭ | আপডেট: ৭:২৫:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭
ভোলায় গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার

ভোলায় গৃহকর্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, শিশুটির সারা শরীরে খুনতির ছ্যাঁকা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সুরমা নামের নয় বছরের এক গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার প্রায় সারা শরীরে গরম খুনতির ছ্যাঁকার জখম রয়েছে। তা ছাড়া আছে বেত্রাঘাতের ক্ষত। মাথায় রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। সে এখন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তর সাকুচিয়ার এক স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী মিনারা বেগম এই নির্যাতন চালিয়েছেন। এ ঘটনায় মনপুরা থানায় স্কুলশিক্ষক সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশু সুরমার বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলায়।

গতকাল রোববার সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, অপুষ্টিতে ভোগ রোগা পটকা চেহারার সুরমা শুয়ে আছে। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। তার চিবুকে ক্ষতের চিহ্ন। পিঠজুড়ে ছ্যাঁকার জখম। কোনো কোনো স্থানে ঘা হয়ে গেছে। কোনো কোনোটি শুকিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৈয়বুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভর্তির সময় মেয়েটির অবস্থা গুরুতর ছিল। তাঁরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। চিকিৎসা চলছে, তবে তার অবস্থা এখনো বিপদমুক্ত হয়নি। শরীরে অনেক ক্ষত।

শিশুটির মা আনোয়ারা বেগম বলেন, তাঁদের বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ কেয়ামুল্যাহ গ্রামে। তাঁর স্বামী ফজলুল রহমান দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। পরে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর আনোয়ারা আবার বিয়ে করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁদের প্রতিবেশী দিলাওয়ার হোসেন তাঁর মেয়ে মিনারার বাড়িতে কাজের জন্য সুরমাকে নেন। কথা ছিল, সুরমাকে তাঁরা প্রতি মাসে ৮০০ টাকা বেতন দেবেন। তা ছাড়া খাওয়াবেন ও পড়াশোনা করাবেন, জামাকাপড় দেবেন। তিনি আরও বলেন, ওই বাড়িতে কাজে যাওয়ার পর থেকে সুরমার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়ের সঙ্গে এত দিন তাঁর দেখা হয়নি। তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি মেয়েকে এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছে। মেয়ে তাঁর না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সারা শরীরে খুনতির ছ্যাঁকা। দগদগে ঘা হয়েছে। তা পুঁজ জমে আছে। যন্ত্রণায় মেয়ে তাঁর ঘুমাতে পারে না। একজন স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী কী করে একটি শিশুকে এমন অমানবিক নির্যাতন করতে পারেন, তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না।

সুরমা বলে, গৃহকর্ত্রী তাকে কারণে অকারণে মারতেন। সে কাঁদলে আরও বেশি করে মারধর করা হতো। খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। চিৎকার করে কাঁদতে চাইলে মুখ চেপে ধরতেন। কোনো ওষুধপত্র দেওয়া হতো না। খাবারও কষ্ট দেওয়া হতো। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ হলে গৃহকর্ত্রী মিনারার বাবা-ভাই গোপনে তাকে তজুমদ্দিনে নিয়ে আসেন।

সুরমার মা আনোয়ারা বলেন, কয়েক দিন আগে খবর পেয়ে তিনি মিনারার বাবার বাড়িতে যান। সেখানে মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে তিনি মূর্ছা যান। পরে জ্ঞান ফিরে এলে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে তাঁকে হুঁশিয়ার করা হয়। কিন্তু তিনি হুমকি উপেক্ষা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুরমাকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেন। প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ওই দিনই সুরমাকে পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।

মনপুরা থানার ওসি শাহিন খান বলেন, সাইদুর মনপুরা উত্তর সাকুচিয়া ভোকেশনাল স্কুলের সহকারী শিক্ষক। গত শনিবার থেকে স্ত্রী মিনারাসহ তিনি পলাতক।