বরিশালে উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭ | আপডেট: ১২:১৬:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭
বরিশালে উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায় উপকূলের ওপর দিয়ে। এ সময় নিহত ও নিখোঁজ হাজারো মানুষ। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ। গবাদি পশু, জমির ফসল, বাড়ি-ঘরসহ ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়। এই ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূল। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ভয়াল সেই দিনটিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে এবং উপকূল উন্নয়ণ ও সংরক্ষণের জন্য বরিশালে প্রথমবারের মত উপকূল দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে বরিশাল অশি^নী কুমার হল প্রাঙ্গনে উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির আহবানে বাংলাদেশ মডেল ইয়ূথ পার্লামেন্ট ও ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, যুব প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেয়। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিকের বরিশাল জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন, শিক্ষাবিদ শাহ সাজেদা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কাজল ঘোষ, সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, নারীনেত্রী খালেদা ওহাব, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্নয়ক মেহের আফরোজ মিতা, বাংলাদেশ মডেল ইয়ূথ পার্লামেন্টের চেয়ারপার্সন ফিরোজ মোস্তফা ও ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের প্রধান সমন্নয়ক সোহানুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা ১২ নভেম্বরকে সরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে পালনসহ উপকূলীয় এলাকা এবং প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে উপকূল ও চর অঞ্চল উন্নয়ণ বোর্ড গঠনে সরকারের প্রতি আহবান জানান। ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের প্রধান সমন্নয়ক সোহানুর রহমান জানান, ‘বরিশালের উপকূলীয় এলাকা এবং প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিশু ও কিশোর-কিশোরী ও তাদের পরিবার প্রয়োজনীয় ন্যুনতম নাগরিক সেবা থেকে এমনিতেই বঞ্চিত এবং তার ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ, উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং অংশগ্রহণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাইক্লোনের মত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দুর্গম দ্বীপসমূহ এবং পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের অবস্থা আরো শোচনীয় করে তুলছে। এর ফলে মানুষের খাদ্য, পানি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তাকে যেমন ঝুঁকিপূর্ন করেছে তেমনি মানুষের স্থানচ্যুতি ও স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই উপকূলীয় এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ করে পরিবেশ-বান্ধব স্থায়ী বাধ নির্মাণ, নারী ও শিশুবান্ধব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ এবং শহরে জলবায়ু সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে’। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) চলতি বছরের ১৮ মে বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতি আবহাওয়ার ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতি ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।