গরম উপেক্ষা করে কেন্দ্রে নারীদের ভিড়

ইবাদাত হোসাইন ইবাদাত হোসাইন

খুলনা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১৮:পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৮
গরম উপেক্ষা করে কেন্দ্রে নারীদের ভিড়

চলছে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকাল হতেই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রগুলোতে যেতে শুরু করে ভোটাররা। মহানগরীর প্রায় সব কেন্দ্রেই সকাল আটটার পর দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। তবে এর মধ্যে চোখে পড়ার মতো ছিল নারী ভোটারের উপস্থিতি।

সরেজমিনে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এদের অনেকেই গরম উপেক্ষা সকালেই নিজ নিজ কেন্দ্রে ছুটে আসেন। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

নূরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রহিমা বেগম নামে এক নারী ভোটার ঢাকাটাইমসকে জানান, ভোট ভালোভাবি দিছি। সমস্যা হয় নাই। বাসার কাজ করতে হবে তাই সকালেই এসেছি।

আরেক নারী ভোটার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ভোট দেব বলে ভোরেই রান্না-বান্না শেষ করেছি। সকাল সকাল হাজির হয়েও দেখি অনেক নারী এসেছেন। দীর্ঘ লাইন। রোদ থাকলেও তেমন কিছু মনে হচ্ছে না।

নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র তালিমুল মিল্লাত মাদ্রাসা কেন্দ্র। দোতলা এই মাদ্রাসায় ওপরে পুরুষ এবং নিচতলায় নারীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে এ কেন্দ্রে ভোটাররা অনেকটা ধীরে সুস্থে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বুথের সামনে বারান্দায় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে ভেতরে প্রবেশের জন্য। তবে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।

এ কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটারদের স্লিপ দেখে তাদের ভেতরে প্রবেশ এবং নম্বর অনুযায়ী বুথের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া ভোটারদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ করার অনুরোধ করছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে গোটা খুলনা শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর রাস্তায় রাস্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)টহল দিচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশের সদস্য। নিশ্চিন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভোটাররাও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় বাছাই করছেন নিজেদের পছন্দের প্রার্থী।

নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৫ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছেন চার হাজার ৯৭২ জন। এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক রয়েছেন ২১৯ জন। এর মধ্যে ৪/৫ জন বিদেশি, ৩৫ জন নির্বাচন কমিশনের, ১৭৯ জন বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষক।

এবারই প্রথম খুলনা সিটিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের বছরে এ ভোট এমনিতেই বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। রাতের দিকেই জানা যাবে কে হচ্ছেন এ শহরের নগরপিতা।