বিজ্ঞান ও প্রকৃতির মাঝে মেলবন্ধনে হচ্ছে ‘জীন ব্যাংক’

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪০:অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৮
বিজ্ঞান ও প্রকৃতির মাঝে মেলবন্ধনে হচ্ছে ‘জীন ব্যাংক’

প্রযুক্তির প্রসার, শিল্পায়ন, পরিবেশের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণেই দেশ থেকে বহু ধরনের প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব বিলুপ্ত হচ্ছে। অনেক প্রজাতির পশু, পাখি, মাছ, ধান, ফল এখন শুধুই গল্প। আগামীতে যাতে আর দেশের কোনো ধরনের প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব বিলুপ্ত না হয় সে জন্য সরকার একটি জাতীয় জিন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নিয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হয়েছে।

জিন ব্যাংক থেকে জেনেটিক রিসোর্স ও এ সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে গবেষণা করবেন সরকারি ও বেসরকারি গবেষকরা। এর মাধ্যমে অধিক উৎপাদনশীল, পীড়নসহিষ্ণু, কীটপতঙ্গ ও রোগজীবাণু প্রতিরোধী, দ্রুত বর্ধনশীল নতুন নতুন জাত বা স্ট্রেইন উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে গবেষণাকাজে বেসরকারি খাতে এরই মধ্যে বেশ কিছু জিন ব্যাংক গড়ে উঠেছে। তবে এসব জিন ব্যাংকে সংরক্ষিত জেনেটিক উপাদানগুলোর কোনো ব্যাকআপ নেই। ফলে কোনো কারণে সংরক্ষিত সম্পদগুলো নষ্ট হয়ে গেলে তা পুনরায় সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ প্রেক্ষাপটেই জাতীয়ভাবে জিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি ও গণপূর্ত অধিদফতর প্রকল্পটি ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।

রাজধানী ঢাকার পাশে সাভারে স্থাপন করা হবে এই জিন ব্যাংক বা জেনেটিক সংরক্ষণাগার। প্রকল্প ব্যয়ের ৪৬০ কোটি টাকার পুরোটাই দেবে সরকার। প্রকল্পটির প্রস্তাবে যে পূর্ত কাজের কথা বলা হয়েছে তার সিংহভাগই সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য। প্রকল্পে মোট ১১টি ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মাত্র ১২তলা ভবনে প্রকল্পের মূল কাজ করার জন্য ল্যাবরেটরি ও অফিস করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ১০টি ভবনই প্রকল্পে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বসবাসের জন্য অত্যাধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

 

জেনেটিক সম্পদগুলোকে বলা হয় এই গ্রহের ‘প্রথম প্রাকৃতিক সম্পদ’। এ সকল জেনেটিক সম্পদগুলোর উপর ভিত্তি করে গবেষকরা বিভিন্ন উন্নত গুণগত মানসম্পন্ন এবং অধিক উৎপাদনশীল বিভিন্ন জাত বা ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করে থাকে। এই সম্পদ হারিয়ে গেলে মানবজাতি হারিয়ে ফেলে নতুন সামাজিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থার সাথে কৃষি অভিযোজনের সম্ভাব্য উপায়। তাই জীন ব্যাংক গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার।

 

পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা অর্জন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংক্রান্ত ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় জেনেটিক সম্পদের টেকসই পুনঃউৎপাদন ও ব্যবহার, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে এদের সঠিক ব্যবহার এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য সংরক্ষণ এখন সময়ের চাহিদা। তাই, সব মহল থেকেই সাধুবাদ পেয়েছে সরকার।