মালয়েশিয়ার জাতীয় নির্বাচন বুধবার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:২৪:পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০১৮

ঢাকা:

মালয়েশিয়ার ১৪তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বুধবার (৯ মে)। এ নির্বাচনে দেশটির বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন জোটকে সাবেক প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির সাধারণ জনগণ দুই জোটের হয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ মে) দেশটির স্থানীয় সময় রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গত ৬ এপ্রিল পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনটি ক্ষমতাসীন জোটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মাহাথির মোহাম্মদ যদি নির্বাচনে অংশ না নিতেন, তাহলে এ নির্বাচন একপেশে হতো বলে অনেকের ধারণা। তার সাবেক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনকে এ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে ২০০৩ সালে এ দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন মাহাথির। সেখান থেকে পদত্যাগের পর মাহাথির নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। সে দল সরকার বিরোধী জোটে যোগ দেয়।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি বলা হয়। তিনি ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল ইউএমএনও টানা পাঁচবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। টানা ২২ বছর পর ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন।

অপরদিকে স্টেট ফান্ড অর্থ-কেলেঙ্কারি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে নিয়ে তেমন সন্তুষ্ট নন মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি ৭০০ মিলিয়ন ডলার নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে রাজাক বলেছেন, এ অর্থ সৌদি সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

সবকিছু মিলিয়ে বেশ এক জটালো পরিবেশে আছে মালয়েশিয়ার এবারের নির্বাচন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ২২২টি সংসদীয় আসন এবং ৫৮৭টি প্রাদেশিক আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা এক কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ৬২৭ জন। পোলিং সেন্টার থাকবে আট হাজার ৮৯৮টি।