সবুজ পাহাড়ে কালো মেঘের ছায়া

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৯:০৮:পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০১৮
সবুজ পাহাড়ে কালো মেঘের ছায়া

বাংলার জনক,জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় রুপান্তর করতে। কিন্তু বিপদগ্রামীদের কবলে প্রাণ হারাল জাতীর প্রান পুরুষ,মহান মানুষটি ও তার পরিবার পরিজনরা।তিনি পাহাড়ে শান্তির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন।তাহার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা অশান্ত পাহাড়ে শান্তির জন্য কাজ করছেন এবং তিনিই পারবেন পার্বত্য এলাকায় শান্তি এনে দিতে,এ জন্য সকল সম্পদয়ের নাগরিকরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।সরকার ও জনগন একে অপরের যেমন মুদ্রার এ পিঠ অপর পিঠ।

 

আমরা যদি দেশটি কে একটি গাছের সাথে তুলনা করি,তা হলে পার্বত্য এলাকার কে সে গাছেই একটি সবুজ কচি ছারা। তাকে পরিচর্যা করে তুলতে সময় লাগে,অনেক বছর পর পূর্ণতা পায়।পাবর্ত্য এলাকায় পাহাড়ী-বাঙ্গালী ভাগে বিভক্ত করে দেখার অবকাশ নেই।বাঙ্গালীরা যেমন পাহাড়ে বসবাস করে পাশাপাশি বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে প্রায় ১১টি সম্প্রদায়ের লোকজন।সম্প্রীতির গড়ে তুলতে হলে বিভক্ত ধারা থেকে আমাদের রেরিয়ে আসতে হবে।

 

শান্তি পায়রা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে অশান্ত পাহাড়ে শান্তির অগ্রদুত হিসাবে কাজ শুরু করেন।এই এলাকার সকল সম্প্রদায়ের লোকজন সরকারী চাকুরী থেকে শুরু করে, সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ করে দিয়েছেন,যাতে শিক্ষায়-দিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারেন। অনেক শিক্ষিত যুবক উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভাল কাজ করছেন দেশের জন্য। কিন্তু পাহাড়ে একটি চক্র সরকারের উন্নয়ন কে বাধাগ্রস্ত করতে নীল নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য চক কষছেন।’’অতি লোভে তাঁতী নষ্ট’’ বাংলার একটি প্রবাদ রয়েছে।এত সুযোগ দেয়ার পর ও কিছু বিপদ গ্রামীরা ভিন্ন পথে পা’ বাড়িয়েছেন। তাতে ফলফলা অবশেষে শুণ্য হবে দোষকৃতিদের।

 

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুকৌশল ও মেধা এবং ভালবাসার বিনীময়ে শান্তির প্রতিষ্টা করেছেন।তবে পার্বত্য এলাকায় বিগত বিএনপি সরকার ও এরশাদ সরকারের অনেক অবদান ও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না।তবে শান্তি প্রতিষ্টায় আওয়ামীলীগ এগিয়ে রযেছেন।

 

পাহাড়ে মানুষ নামের অমানুষদের সাথে যুদ্ধ করে শত শত লোক অকালে প্রাণ হারিয়েছে।তবুও বাচার আশায় সাহসী এবং সহজ সরল মানুষরা তাদের ব্রত থেকে পিছ পা হয়নি। আজ পার্বত্য এলাকায় বন্য প্রাণী বিলুপ্ত ধারপ্রান্তে আর ম্যালেরিয়ায় মানুষ খুবই কম মরে বর্তমানে ।তবে আজ ও পাহাড় নিরবে কাদে তাই আমরা তাকে ঝার্ণা বলে থাকি।

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় যদি আমরা বলি তা হলে গত কয়েক দিন আগে…পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২ দশক পূর্তি অনুষ্ঠানের দুই দিন পর আবারো রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে । সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা। একটু পিছনে যদি ফিরে তাকাই তা হলে’ মনে পড়ে সেই অতিতের কথা ।তখন পাহাড়ে বসবাসরত মানুষেরা মশার সাথে,ম্যালেরিয়ার সাথে ,পোকা, মাকড়, বাঘ,ভালুক,শিয়াল,বন কুকুরের সাথে লড়াই করে ঠিকে রয়েছেন।পাহাড় ধসেও শত শত লোকের প্রান হানী ঘটেছে। পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাজার হাজার নিরহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন,অনেকে পালিয়ে চলে এসেছেন সমতলে।

 

গত কয়েকদিন আগের কথা (৫ জুন গেল মঙ্গলবার) একই দিনে রাঙামাটির নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলায় দুই জনকে গুলিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর বিলাইছড়িতে ও রাঙামাটি সদরে অপর ২ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আর কুপিয়ে আহত করা হয় বিলাইছড়ির আওয়ামীলীগ নেতা রাসেল মারমাও রাঙামাটির জেলা মহিলা আ:লীগের সহ-সভপতি ঝর্ণা খীসা। ঘটনায় জন্য দায়ী করা হচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে।
গত ৩ মে নানিয়ারচরে আততায়ীর গুলিতে নিহত নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার নিহত হলে ৪ মে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মাইক্রোচালক সজিব হাওলাদারসহ ৫জন সন্ত্রাসীদের গুপ্ত হামলায় নিহত হন। এছাড়া ১৬ এপ্রিল মহালছড়িতে অপহৃত ৩ বাঙ্গালী ব্যবসায়ী অপহৃত হন। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও অপহৃতদের উদ্ধারের দাবীতে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ৪৮ ঘন্টার এই হরতালের ডাক দেয়।

 

বৈরী আবাহাওয়া সত্বেও শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালকারীরা পিকেটিং করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ডাকা এই হরতালে পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলন সমর্থন দিয়েছে।
এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমধিকার আন্দোলনের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী-বাঙালী সকলেই এখন অবৈধ অস্ত্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যতক্ষন পর্যন্ত এ পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে না ততক্ষন পর্যন্ত এখানকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেনা।

 

সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা)আসনের এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন,পাহাড়ের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধ পরিকর এবং তারই ধারাবাহিকতায় চুক্তির একেকটি ধারা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং প্রক্রিয়াধীন। যেখানে সিংহভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, সেদিন সন্তু বাবু ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করলেন এবং বিভিন্ন সেমিনারে উস্কানিমুলক বক্তব্য রেখেছেন। সন্তু বাবু বললেন চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে অসহযোগ আন্দেলন চলবে এবং সেই সাথে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে।তিনি জেএসএস এর নেতৃত্বদানকারী এবং যিনি পাহাড়ের পাহাড়ী-বাঙালী সকলের অধিবাসী হয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু আমরা দেখছি তিনি এমন কিছু কথা বলছেন যা বাংলাদেশের সর্বাভৌমত্বকে হুমকি মনে হয়।এবং তিনি যেসব কথাগুলো বলেছেন এরপর থেকেই সেই কাজ গুলো শুরু হয়ে গেছে।তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদকে দমন করতে সরকার যেমন সক্রিয় আছে। তেমনি আমরা আশা করি পার্বত্যঞ্চল বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন কোন অংশ নয় কিংবা অন্য কোন রাষ্ট্র নয় পাহাড়ের সন্ত্রাস নির্মুলেও সরকার কাজ করে যাবে।

 

সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এই প্রসঙ্গে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা করা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবাধে চলাফেরা করাকে আমরা রাজনীতি মনে করিনা। তিনি বলেন, বিলাইছড়ি আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রাসেল মারমাকে বেদম মারলো এবং জুরাইছড়ির আওয়ামীলীগ নেতা অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা করলো। এগুলো অবৈধ অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, দীপংকর তালুকদার বলেন, কারা করেছে? যারা বিগত দিনে চিৎকার করে বলেছে আওয়ামীলীগকে তারা রাঙামাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করবে এবং ধ্বংস করবে। এবং তারাই এ কাজটি করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে অথবা দোষারোপ করে এবং জনসংহতি সমিতির কর্মীদের হয়রানী বা গ্রেফতার করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে জটিলতা এবং দীর্ঘদিনের যে অবস্থা বিভিন্নভাবে। আমরা বলে আসছি আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নানা কারনে নাজুক অবস্থায় উপনীত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়া না হওয়া নিয়ে এ ধরনের জটিলতা বিরাজ করছে।রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, হত্যাকান্ড টার্গেট কিলিং বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো আইন শৃংখলা পরিস্থিতিকে অবনতি যেন আর না হয় সে দিকে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

 

বাংলার মাটিতে যা ঘটে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা ঘটে না। বাংলাদেশেই সব ক’টি জেলায় সিরিজ বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এবার একক নয়, এবার সিরিজ পাহাড় ধস হলো। পাহাড় দেখিয়ে দিল আমরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের ওপর আঘাত হানতে পারি এবং সে আঘাত খুবই নির্মম। পাহাড় জানিয়ে দিল, মানুষের মতো আমরাও নিষ্ঠুর এবং আমরাও নরঘাতক।পাহাড়ি এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদদের যে দূরদর্শিতা থাকা দরকার, তা লক্ষ করা যায়নি গত চার দশকে। আশির দশক থেকে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণে ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়নি।

বাংলাদেশ ধনী দেশ হতে যাচেছ। সেই লক্ষ্যে সে ধাবিত ঊর্ধ্বশ্বাসে। বাংলায় এখন আর ছিঁচকে চোর নেই বললেই চলে। সিঁধেল চোরের প্রজাতিটিও বিলুপ্ত প্রায়। কিন্তু‘ জাতীয় সম্পদ চোরের বিভিন্ন প্রাতির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে ব্যাপকভাবে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচছ¡াস প্রভৃতি যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তার ব্যবস্থাপনায় আমরা অনেকটা সক্ষমতা অর্জন করেছি। সেনাবাহিনীর সদস্যরা জীবন দিয়ে ওই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণকাজ চালান। ঘূর্ণিঝড়, জলোচছ¡াস ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষের নেই, তা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা মানুষের সাধ্যের মধ্যে।

 

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের জন্যই ফের পার্বত্য অঞ্চলে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছে। পাহাড়িদের দুই সংগঠন জনসংহতি ও ইউপিডিএফের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জন্যই পর পর ৬ খুনের ঘটনা ঘটেছে। দুই সংগঠনের মধ্যে এ বিরোধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্তি’ গ্রুপগুলো পাহাড়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

পাহাড়ি সংগঠনের বিরোধে গত ৫ মাসে ১৮ জন খুন হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাহাড়ি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধে এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১ হাজারের বেশি নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। ২০১৬ সালের পর পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ফলে খুনোখুনি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ২০১৭ সালে ফের শুরু হয় খুনোখুনি। এক পক্ষের হামলায় অপর পক্ষের নেতাকর্মী খুন হতে থাকেন। সর্বশেষ গত দুই দিনের ব্যবধানে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতি। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের সংগঠন জনসংহতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতে ব্রাশফায়ার করে ওই সংগঠনের আরও ৫ নেতাকার্মীকে হত্যার ঘটনায় ফের পাহাড়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৬ খুনের ঘটনায় পাহাড়ি সংগঠনের পাশাপাশি বাঙালি সংগঠনের পক্ষ থেকেও হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। এ খুনের জন্য জনসংহতির প্রতিপক্ষ পাহাড়ি অধিবাসীদের আরেকটি সংগঠন ইউপিডিএফকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পাল্টা খুনের আশঙ্কা করা হচেছ।এখানে রয়েছে অর্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারমহড়া। বিশ্বাস অবিশ্বাসের কারণে ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে নিজ নিজ আয়ত্মে আনার অপকৌশল মাত্র।

 

সূত্র মতে, ১৯৯৭ সালে সরকার এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্ত লারমা) নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তার বিরোধিতায় গড়ে ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এর পরই দুই পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়। দুই দলের বিরোধে ২০১৬ পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি হামলায় খুন হয়েছেন এক হাজারের বেশি পাহাড়ি নেতাকর্মী। এক পর্যায়ে দুই পাহাড়ি সংগঠন নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে কিছুদিন খুনোখুনি বন্ধ থাকে। কিন্তু জেএসএস থেকে বেরিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল গড়ে ওঠে। দুই সংগঠন থেকে তৈরি হয় ৪ পাহাড়ি সংগঠন। এর পাশাপাশি গড়ে ওঠে বাঙালি পাহাড়ি ছাত্র সংসদ পরিষদ। এরপরও সেখানে হানাহানি বন্ধ হয়নি। পাহাড়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সম্পদ ভোগদখল, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয়ে পেশী শক্তি ব্যবহার নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের দুই সংগঠন জনসংহতি এবং ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব বিরোধের কারণে বছরের পর বছর পার্বত্য অঞ্চলে অস্ত্র ও গোলাবারুদের চোরাচালান গড়ে উঠে। এসব বিরোধের সুযোগ নিয়ে বিচিছন্নতাবাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আনাগোনা বেড়ে উঠে পাহাড়ি অঞ্চলে। এমন পরিস্তিতিতে নিত্য খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, গুমসহ বিভিন্ন অপরাধে অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়ি অঞ্চল। এমন পরিস্তিতে সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে জনসংহতির সঙ্গে আলোচনা করে অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে পরিস্তি মোকাবিলা হলেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এক সংগঠন থেকে ভেঙে পাহাড়িদের এখন ৪টি সংগঠন তৈরি হয়েছে। এর পর থেকে ফের পাহাড়ি বিরোধ শুর“ হয় পাহাড়ি নেতাদের মধ্যে।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনিরউজজামান রাঙ্গামাটি পরিদর্শনে এসে বলেন, নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা এবং আরও পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে পুলিশ। ৬ খুনের ঘটনায় জড়িতদের শীঘ্রই চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হবে। পাহাড়ে যারা খুনোখুনি করে শান্তি বিনষ্ট করছেন তাদের তালিকা তৈরি করা হচেছ। এ সন্ত্রাসী চক্রকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। অপরাধীরা যেখানেই থাকুক তাদের খুঁজে বের করা হবে। সবুজ পাহাড়ে কালো মেঘের ছায়া যেন না পড়ে, তা এখন থেকে সরকার ভাবতে হবে।