বিএন আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ও চতুর

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০৫:পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০১৮
বিএন আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ও চতুর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আর আগের মতো নেই। এখন তাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিদীপ্ত ও চতুর। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের পর এই রাজনৈতিক দলটি দেশে আন্দোলনের নামে যে ধরনের জ্বালাও পোড়াও ও ধ্বংসজজ্ঞ চালিয়েছিল এখন তারা সে ধরনের কর্মকান্ড থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এছাড়া গত বারের মতো ভুল না করে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বোকা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তবে এবার সবচেয়ে বেশি সঙ্কটময় সময়ে বিএনপির অবস্থান এবং তাদের নতুন ধারার রাজনৈতিক পথ চলা সত্যি বাহবা পাবার যোগ্যতা রাখে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত। রায় ঘোষণার বেশ আগে থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতারা হুশিয়ার উচ্চারণ করছিলেন খালেদা জিয়ার সাজা হলে সরকার পতনের আন্দোলনসহ সারাদেশে লাগাতার হরতাল, মানববন্ধনসহ জোড়ালো কর্মসূচি পালন করা হবে। তখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাসহ দেশের জনগণের একটি বড় অংশ ভাবছিলেন খালেদা জিয়ার সাজা হলে দেশে ৫ই জানুয়ারির মতো আবারো জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন করবে তারা। তবে তার কিছুই করেনি দলটি। গত তিনমাস ধরে দলের চেয়ারপারসন কারাগারে থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

বলা চলে বিএনপি বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক বয়সের সবচেয়ে সঙ্কটময় সময় পার করছে। তাই ভেবে চিন্তে পা ফেলছে দলটি। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে ভুল করেছিল সেই ভুল আর দ্বিতীয় বারের মতো করতে চায় না দলটি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই অনেক আগে থেকেই এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সব প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। যদিও দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকারের দাবি করা হচ্ছে। তারপরেও মনে করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হলেও তাতে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। এর আগে নির্বাচন বর্জন করায় সংসদে কথা বলার মতো কেউই ছিলো না তাদের।

রাজপথের আন্দোলনের চেয়ে এবার কূটনীতিক তৎপরতা জোড়দার করেছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যু নিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে এবং বিদেশিদের সমর্থন পেতে বিএনপি এসব তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে দলের শীর্ষ নেতারা। দেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কূটনৈতিকদের অবহিত করছেন। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারলে বিএনপির চাওয়া পূরণ হবে বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

বর্তমানে বিএনপি আন্দোলনের চেয়ে আইনি লড়াইয়ের ওপরও বেশ জোর দিচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তার সবগুলোই আইনিভাবে মোকাবেলা করার মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন তারা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়াইয়ের জন্য বেশ কয়েকবার তার আইনজীবীরা বৈঠক করেন। সেই সাথে তার আইনজীবীরা আদালতে মামলাটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত লড়াই অব্যহত রেখেছেন। দুঃসময়েও বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নিরবে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি। গত কয়েকমাসে যার একটা বিস্তর প্রভাব লক্ষ্য কার গেছে। যেখানে দলটি পর পর দুইবার ক্ষমতায় না আসতে পেরে অনেকটা নেতিয়ে পড়েছিল। সেখানে এখন সারাদেশে ধীরে ধীরে এর নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে, যোগ দিচ্ছে দলীয় নানা কর্মসূচিতে। বিশেষ করে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর থেকেই সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা উদ্যমী ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারের স্বার্থে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের সিনিয়র নেতারা তুলে ধরছেন।

সর্বোপরি বলা যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন রাজনীতির মাঠে ঠান্ডা মাথায় খেলছেন। নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এবং সব সমস্য সমাধান করে ক্ষমতায় আসার জন্য তারা এখন অনেকটাই চতুর।