কুয়াশায় আচ্ছন্ন “ধূসর কুয়াশা”

এ আল মামুন এ আল মামুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৭ | আপডেট: ১:১৩:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৭
কুয়াশায় আচ্ছন্ন “ধূসর কুয়াশা”

দীর্ঘদিন ধরেই সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে উত্তম আকাশ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধূসর কুয়াশা’। এ বছরের গত জুলাই মাসে ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। এরপর সেন্সর বোর্ড কতৃপক্ষ ছবিটি দেখে কিছু সংশোধন এর পরামর্শ দেয় , সংশোধন কপি জমা দিলে আলাপ-আলোচনার পর ছবিটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সেন্সর বোর্ডকর্তারা। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ছাড়পত্র পায়নি ছবিটি। উল্টো ছবিটি নিষিদ্ধ করেছে তারা। প্রশ্ন হলো যে ছবি নিষিদ্ধ করা হবে সে ছবি কেন কয়েকদিন আগে ছেড়ে দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন কতৃপক্ষ।

এ বিষয়ে পরিচালক উত্তম আকাশ বলেন, ‘আমার এই ছবিটি গত জুলাই মাসে সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়। আমি সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলি। কেন দৃশ্য কাটা যাবে না, তা লিখিত ও মৌখিকভাবে তাঁদের বোঝাতে সক্ষম হই। তাঁরাও বিষয়টি মেনে নেন। তখন তাঁরা বলেছিলেন, ছবিটি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এখনো ছবিটি সেন্সরে আটকে আছে। মাঝে তিন মাস কেটে গেল, এখন তারা সিন্ধান্ত দিয়েছেন যে ছবিটি প্রর্দশনের অযোগ্য। আমি বলবো একটি ছবির সাথে অনেকের স্বপ্ন জড়িত থাকে। তাই তাদের বলবো যেন ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব সেন্সর ছাড়পত্রের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা না হলে আমরা আইনী প্রক্রিয়া যাবো। এত টাকা খরচ করে ছবি বানিয়ে কোন প্রযোজক চাইবে না তার ছবি প্রর্দশিত না হউক।

সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এ বিষয়ে বলেন, “আমি সেন্সর বোর্ডের সদস্য, আবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতিও। তাই আমি পরিচালকদেরও প্রতিনিধিত্ব করি। ‘ধূসর কুয়াশা’ ছবিটি নিয়ে আমি বোর্ডে কথা বলেছি। এই নিয়ে আগামী বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আর আমাদের মিটিংয়ে যে কথা হয়, তা আমরা বাইরে বলতে পারি না। এটা বোর্ডের নিয়ম। তবে একজন পরিচালক হিসেবে, পরিচালকদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চেষ্টা করি যেন কোনো ছবি বিনা কারণে আটকে না থাকে।

অভিনেতা মুন্না বলেন, ছবিতে কােনা অশ্লীল দৃশ্য বা এমন কোনা আপত্তিকর দৃশ্য নেই। তারপরও ছবিটি ছাড়পত্র না দিয়ে উল্টাে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ছবিটি ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না বা কেন নিষিদ্ধ করা হলো। আমি সেন্সরবোর্ডের মাননীয় সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি চিঠি পেয়ে ছবির সংশোধন কপি জমা দেই। তিনজনের একটি কমিটি ছবিটি দেখেন। এরপর ছবিটি দেখার পর তিনটি কারণ দেখিয়ে ছবির ছাড়পত্র না দিয়ে ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমি বর্তমানে আপীল বোর্ডের নিকট আপিল করেছি। আর যে তিনটি কারণ দেখিয়ে ছবিটি আটকানো হয়েছে তা আমার ছবিতে নেই বলে মনে করি আমি। আমি আপীল বোর্ডের ফলাফল ইতিবাচক না পেলে মাননীয় হাইকোর্টের শরনাপন্ন হব। আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তার উদার দৃষ্টি আবার চলচ্চিত্র শিল্প সরব হচ্ছে। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সব রকমের সহায়ক ভূমিকা নিয়েছেন বলেন এখন অনেক ভালো ভালো গল্পের ছবি আসছে। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সব রকমের সুযোগ-সুবিধা দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর এ সময় সেন্সর বোর্ডের এসব বাড়তি হয়রানি কিছুটা নিয়ম মাফিক শিথিল হলেই নতুন নতুন প্রযোজক আসবে। আবার আমাদের সিনেমার সোনালী দিন ফিরবে। একটি ছবি নির্মাণ করার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয় পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীদের। এখন চলচ্চিত্রে প্রযোজকের সংখ্যাও কমে গেছে। এমন সময়ে এই ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র না হওয়ায় ‘ধূসর কুয়াশা’ ছবির প্রযোজক নতুন ছবি শুরু করার কথা আগে ভাবলেও সেই ভাবনা তিনি পিছিয়ে দিয়েছেন। হিসাম মাল্টিমিডিয়া এর ব্যানারে আরো ৪টি সিনেমা হবার কথা রয়েছে , কিন্তু প্রথম ছবি বানিয়ে সেন্সর পেতে গিয়ে যদি একজন প্রযোজক কে হিমশিম খেতে হয়। তাহলে নতুন নতুন ছবিতে প্রযোজকরা লগ্নি করতে ভয় পাবে।

হিসাম মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে যে ৪ টি ছবি হবার কথা রয়েছে। যার প্রযোজক হিসাবে থাকতেন মেরীন ইঞ্জিনিয়াররা , ‘ধূসর কুয়াশা’ ছবির ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতায় তারা নতুন সিনেমা শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন, আর এই অবস্থা চলতে থাকলে নতুন প্রযোজকরা আর সিনেমা বানাতে আগ্রহী হবে না , এবং এটা সিনেমা শিল্পের জন্যে ও অনেক ক্ষতি কারন হবে। এরকম হলে আমাদের চলচ্চিত্রে নবীন যারা আসছেন তারা আশাহত হবেন। এত টাকা লগ্নি করে যদি ছবি মুক্তি দিতে এতো ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয় তাহলে তারা আস্তে আস্তে এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা করুন। এই অবস্থায় নতুনদের আগ্রহী করার জন্য সেন্সর বোর্ডের নিয়ম-নীতি ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নেয়া দরকার।