খালেদা জিয়ার দুর্ণীতি মামলার রায় নিয়ে আনুষ্টানিক প্রতিক্রিয়া..

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১২:অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৮
খালেদা জিয়ার দুর্ণীতি মামলার রায় নিয়ে আনুষ্টানিক প্রতিক্রিয়া..

ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার এর করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা সহ আরো বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া। সম্প্রতি গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ডাকা সংবাদ সম্মেলনে খালেদার রায়ের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তিনি জানান। খালেদা জিয়া রায়ের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ পেলেন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

 

সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেলে শাস্তি ,এটা আদালতও দেয়, আল্লাহর তরফ হতেও দেয়,আমাদের তো কিছু করার নাই’।

 

তিনি আরো বলেন, ‘রায়টা তো আমি দিইনি, রায়টা দিয়েছে কোর্ট।মামলাটা করেছে, ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার। ফখরুদ্দীনকে তারাই তৎকালীন বিএনপি সরকার তাকে গর্ভনর করেছিল।আর নয়জনকে ডিঙ্গিয়ে মইন উ আহম্মদকে সেনাপ্রধান করেছিল এবং তাদের নিজস্ব লোক ছিল ইয়াজউদ্দীন ।খালেদা জিয়ার মামলাটা তারা(ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন সরকার) দিয়েছে’।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন,এই মামলাটা ১০ বছর চলেছে। এই মামলায় তিন বার জজ পরিবর্তন হয়েছে, সময় চেয়েছে ১০৯ বার। বহু টালবাহানা আপনারা দেখেছেন। ২৬১ দিনের মতো তারিখ পড়ল। আপিল বিভাগে ২২ বার রিট করা হয়েছিল। এত কিছুর পর তিনি মাত্র ৪৩ দিন কোর্টে হাজির হয়েছিলেন।

 

খালেদা জিয়ার নামে মামলার ব্যাপারে তিনি আরও বলেন,‘আর তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে যে মামলা, আমাদের সরকার তো তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি।বরং আমার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের মতো মামলা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। শুধু আমি নই; আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি তখন ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে ছিলেন, আমরা সবাই কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলার আসামি’।

 

খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির গঠনতন্ত্রের দুর্বলতার দিকেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির একটি গঠনতন্ত্র আছে, ওটার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি। বিএনপিতে সব ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে, আমাদের গঠনতন্ত্রে তা নেই।

 

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে কেউ তাদের দলে থাকতে পারবে না, তারা সেটা সংশোধন করে নিল। এটা ঠিক চেয়ারম্যান না থাকলে এক নম্বর ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান হবেন চেয়ারম্যান। কিন্তু তিনিও আবার ফেরারী আসামি। আমার প্রশ্ন বিএনপিতে কি এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত। একটা লোক কি খুঁজে পাওয়া গেল না,তাদের দল থেকে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার মত। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে যখন জেলে নিয়ে গেল আমি জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করলাম। আমি আমার বোনকেও করিনি, ছেলেকেও করিনি।

 

 

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক জনসভায় বলেন ,মানুষ পুড়িয়ে মারলে, এতিমের টাকা লুটপাট করে খেলে তার সাজা এভাবেই হয়। লজ্জা থাকলে খালেদা জিয়া আর দুর্নীতি করবেন না।প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয় আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে লুটপাট ও মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়।

 

এ সময় দেশে উন্নায়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, আপনারা ওয়াদা করেন আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন।
সম্প্রতিকালে,আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন,এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে খালেদা জিয়া কারাবরণ করছেন। তাকে মুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। মুক্ত করতে হলে একমাত্র আইনিভাবে লড়াই করে মুক্ত করতে হবে।
হানিফ,আরো বলেন,আইনি লডাই ছাড়া কোনো ভাবেই মুক্ত করা সম্ভব নয়। আন্দোলন নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও জনগণকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে খালেদা জিয়াকে জেলে থেকে মুক্ত করা যাবে না।

 

অন্যদিকে বিএনপি দায়িত্বশীলরা বলেন,তাদের দাবী আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল নানা ধরনের ছক কষছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয়ার পর দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দল খালেদা জিয়াবিহীন একটি নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন, বিএনপি নেতারা। অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এ ধরনের নির্বাচনী প্রস্ততি বিএনপির রয়েছে।