সুখী জীবন পাওয়ার দশ উপায়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০১৮ | আপডেট: ৭:১৩:পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০১৮
সুখী জীবন পাওয়ার দশ উপায়
সুখ হচ্ছে বেঁচে থাকার প্রেরণা৷ সুখী মানুষ বেশিদিন বাঁচেন৷ আশাবাদী এবং ইতিবাচক মানসিকতা আমাদের হৃদরোগ থেকে বাঁচায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়৷ এখানে থাকছে সুখী জীবন পাওয়ার দশ উপায়৷
সম্পর্ক গড়ুন: জীবনে সুখ পেতে সম্পর্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ যেসব মানুষের শক্ত এবং বিস্তৃত সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে, তারা সুখী, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং বেশিদিন বাঁচেন৷ পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভালোবাসা দেয়, অর্থাৎ আপনার নিজের গুরুত্ব অনুধাবনে আপনাকে সহায়তা করে৷ সুতরাং সম্পর্ক ধরে রাখা আর নতুন সম্পর্ক গড়া সুখী হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ৷
অন্যের জন্য করুন: সুখী হতে হলে অন্যের সেবা করাও জরুরি৷ কাউকে সহায়তা করলে শুধু যে সে উপকৃত হয় তাই নয়, আপনাকেও তা সুখী এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করবে৷ কাউকে সহায়তার মাধ্যমে তার সঙ্গে আপনার সম্পর্কটাও মজবুত করে নিতে পারেন৷ আর ‘অন্যকে দেয়া’ বলতে শুধু অর্থ বোঝায় না, কাউকে সময় দেয়া, বুদ্ধি-পরামর্শ এবং ইতিবাচক অনুপ্রেরণা দেয়াও এক ধরনের সহায়তা৷
স্বাস্থ্যের যত্ন নিন: আমাদের দেহ এবং মন একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত৷ তাই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে মনও উৎফুল্ল থাকে৷ শরীরচর্চা অবসাদ দূর করতে সহায়ক৷ তার মানে এই নয় যে, প্রতিদিন আপনার ম্যারাথনে অংশ নিতে হবে৷ নিত্যদিন করা যায় এমন কিছুও বেছে নিতে পারেন, পারেন মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরতে যেতে৷ আর পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি৷
লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনে এগোন: ভবিষ্যত সম্পর্কে ভালো অনুভব করাটা আমাদের সুখী রাখে৷ আমাদের এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত, যা পূরণ করতে আমাদের মধ্যে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা থাকবে৷ তবে এমন লক্ষ্যের পেছনে ছুটবেন না, যা আসলে পূরণ করা অসাধ্য৷ সেরকম কিছু করলে বরং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়বেন, যা অর্থহীন৷
আশপাশটা খেয়াল করুন: কখনো মনে হয়েছে যে, চারপাশটা আরো বেশি সজীব? হ্যাঁ, সেটাই৷ আপনি হয়ত আশেপাশের অনেক কিছুর দিকে খেয়াল করছেন না৷ আরো মনোযোগী এবং সচেতন হতে আশপাশে কী ঘটছে সেদিকেও মনোযোগ দিন৷ সম্পর্কের মধ্যে নতুন কিছু করা যায় কি না দেখুন, কিংবা বাসা থেকে অফিসে হেঁটে আসার সময় চারপাশের প্রকৃতির দিকে তাকান৷ এসব একঘেয়েমী থেকে মুক্তি দেবে৷
ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হোন: ইতিবাচক অনুভূতি শুধু ক্ষণস্থায়ী সুফলই আনে না, দীর্ঘমেয়াদেও তা শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ যদিও আমাদের জীবনে উত্থান-পতন আছে, তবে যে কোনো পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকটা চিন্তা করলে সেখান থেকে ভালো কিছু নেয়া সম্ভব হতে পারে৷
নতুন কিছু শিখুন: নতুন কিছু শেখার মানসিকতা আমাদের শরীর এবং মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ এর ফলে আমাদের নতুন নতুন ধারণা তৈরির পথ সুগম হয়৷ উৎসাহী মনোবৃত্তি ধরে রাখতেও সহায়ক এই চেষ্টা৷ গান শেখা, নতুন কোনো ক্লাবে যোগদান কিংবা নতুন কোনো খেলা শুরুও নতুন কিছু শেখার মধ্যেই পড়ে৷
শক্ত হোন: আমাদের জীবনে শুধু যে ইতিবাচক ঘটনাই ঘটে, তা নয়৷ অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক সময় অনাকাঙ্খিত, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনারও শিকার হই আমরা, যার অনেক কিছু হয়ত আমাদের পক্ষে রোখা সম্ভব হয় না৷ অনেক সময় সমস্যা তৈরিতে আমাদের হাত না থাকলেও সেই সমস্যা কিভাবে মোকাবিলা করবেন সেটা আপনি নির্ধারণ করতে পারেন৷ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত রাখুন, ভেঙ্গে পড়বেন না৷
নিজের প্রতি আস্থা রাখুন: জীবনে কেউই নিখুঁত নয়৷ তা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের ভেতরটা অন্যদের বাহিরের সঙ্গে তুলনা করি৷ নিজের ত্রুটিগুলো নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগলে কিন্তু আপনি যা পেয়েছেন তা উপভোগের সময়টাও চলে যায়৷ বরং আমরা যেমন, তেমনটা গ্রহণ করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেলে মঙ্গল৷ এটা অন্যদেরও তাদের খুঁতসহ গ্রহণ করতে আমাদের উৎসাহ দেবে৷
জীবনের ‘অর্থ এবং উদ্দেশ্য’ ঠিক করে নিন: আপনার জীবনের অর্থ এবং উদ্দেশ্য কী সেটা আপনারই ঠিক করে নিতে হবে৷ আপনার ধর্ম পরিচয়, অভিভাবকত্ব কিংবা চাকুরি এক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে৷ সুতরাং ভাবুন এবং নিজের জীবনের উদ্দেশ্যটা ঠিক করে নিন৷ জীবন একটাই, সেটা উপভোগের দ্বিতীয় সুযোগ মিলবে না কিন্তু! দ্রষ্টব্য: অ্যাকশনফরহ্যাপিনেস ডটঅর্গ ওয়েবসাইট থেকে পরামর্শগুলো নেয়া হয়েছে৷- সংবাদমাধ্যম