একজন ছাত্রলীগ কর্মীর চাওয়া

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২৪:পূর্বাহ্ণ, মে ১, ২০১৮
একজন ছাত্রলীগ কর্মীর চাওয়া

আপনারা যারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হবেন তাদের কাছে কিছু অগ্রীম দাবী জানাই। দাবীগুলো হলো-

১। যতো দ্রুত সম্ভব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবেন এবং হল কমিটিগুলো দিয়ে দিবেন।

২। যে সকল ছেলে-মেয়ে ছাত্রলীগের আদর্শকে ধারণ করে, দুরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতা দিয়ে তাদের নেতা বানাবেন। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা কোন বিষয় নয়।

৩। সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের বিশেষ ফোন নম্বর থাকবে যেটা অভিযোগ বক্স হিসেবে কাজ করবে। ছাত্রলীগের যে কোন নেতা-কর্মী সম্পর্কে সত্য প্রমান সাপেক্ষে যে কেউ আপনাকে যেন তাদের অভিযোগের কথা বলতে পারে।

৪। প্রতি সপ্তাহে বিশেষ করে ছুটির দিনে সাপ্তাহিক মিছিল থাকবে এবং মিছিল শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মত বিনিময় সভা হবে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মতামত দিবে যে তাঁরা কেমন ছাত্রলীগ চায়।

৫। নারী নেতৃত্ব আসুক বা না আসুক প্রতিমাসে প্রতিটি মেয়েদের হলে মতবিনিময় সভা করতে হবে এবং ছাত্রী বোনদের কথাগুলো শুনতে হবে। সর্বোপরি ছাত্রলীগ পরিচালিত হবে নেতা-কর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে।

৬। যে কোন ক্যাম্পাসে যে কোন শিক্ষার্থী যদি অসুস্থ হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারে, ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রতিটি ক্লাসরুমে গিয়ে সাহায্য তুলে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

৭। ছাত্রলীগের নিজস্ব ভার্চুয়াল ব্লাড ব্যাংক থাকবে প্রতিটি ইউনিটে। যার মাধ্যমে যদি লক্ষ ব্যাগ রক্তও প্রয়োজন হয় তা সহজেই ব্যবস্থা করা যাবে।

৮। ছাত্রলীগের নিজস্ব ফান্ড থাকবে। প্রতিটি ইউনিটের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী যদি এই ফান্ডে সপ্তাহে ১ টাকাও জমা দেয় দেখবেন মাস শেষে তা বড় অঙ্কের টাকা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবস্থাপনাতে অবশ্যই সুস্পষ্টতা থাকবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এই অর্থ সারা দেশের নেতা কর্মীরা যদি কখনো কেউ অসুস্থ হয়, তাঁর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে ছাত্রলীগের ফান্ড আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তত্ত্বাবধায়ন থাকবে।

৯। কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধায়নে প্রতিটি বড় ইউনিটে আইসিটি সেল থাকবে। সেখানে ভিডিও মেকার থাকবে, পোস্টার মেকার থাকবে। এমন কিছু ছেলেদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে যারা আইসিটিতে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত। তাদের কাজ মিছিল মিটিং নয়। তাদের কাজ হবে শুধু শেখ হাসিনা’র সকারের উন্নয়ন কাজ প্রতিদিন এক দুই ঘন্টা তাঁর সুবিধামত সময়ে অনলাইনে প্রচার করা। এই সকল আইটি সেলের যতো লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার তা আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ অবশ্যই ব্যবস্থা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

১০। নেতারা মধুর ক্যান্টিনে আসবে সকাল ৮ টার আগে। তখন দেখবেন দিন বড় হয়ে গিয়েছে এবং বেশি বেশি কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যাদের ক্লাস থাকবে তাঁরা ক্লাসে যাবে এবং সুবিধামতন সময়ে ক্লাস করে মধুতে আসবে রাজনৈতিক আড্ডায়। কারা কখন মধুতে আসছে, কার ডেডিকেশন কি, কার কার্যক্রম কি তার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করতে হবে। সভা-সমাবেশগুলো করার চেষ্টা করতে হবে ছুটির দিনে। এমন কোন জায়গায় সভা সমাবেশ করা যাবে না, যেখানে সভা সমাবেশের ফলে যানযটের সৃষ্টি হয়। জরুরী রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন বিষয়।

১১। আপনি যতো বড় নেতা হন না কেন সব সময় মনে রাখতে হবে, পদ আপনার দায়িত্ব, ক্ষমতা নয়। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বেশি বেশি মিশতে হবে, তাদের কথাগুলো শুনতে হবে, তারা কেমন ছাত্রলীগ চায় সেভাবে ছাত্রলীগকে সাজাতে হবে, এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব ইচ্ছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

১২। ছাত্রলীগকে যতো বেশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে নিয়ে যেতে পারবেন দেখবেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দোহাই দিয়ে কেউই কোন সুযোগ নিতে পারবে না। ছাত্রলীগই হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনা’র ভ্যানগার্ড। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের মাঝে কোন তৃতীয় পক্ষ থাকবে না।

১৩। ছাত্রলীগের নেতারা মানুষ, রোবট না। তাদের ভুল থাকতেই পারে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ভুলটা যেন আদর্শগত না হয়। আর কোন অবস্থাতেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের সমালোচনা করবে না। যেহেতু মতবিনিময়ের সুযোগ রয়েছে তাই সমালোচনা করতে হলে সেখানে করতে হবে এবং অবশ্যই সেই সমালোচনা যেন গঠনমূলক হয় এবং সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভুলটা সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন। খেয়াল রাখতে হবে সমালোচনা করছেন ছাত্রলীগকে ছোট করতে নয়, আরো সু-সংগঠিত করতে। তাই সমালোচনার জন্য সমালোচনা না করে, গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে মার্জিত ভাষায়। সমালোচনার ভাষা যেন কোন ভাবেই সমালোচিত না হয়ে যায়।

একান্ত নিজস্ব ভাবনা, ভুল হলে ক্ষমা করবেন।

লেখকঃ আসিফ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

  • বাংলা ইনসাইডার