শ্রীপুর ভোলা খেয়াঘাট থেকে গঙ্গাপুর রুটের ড্রেজিং শুরু আজ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৭ | আপডেট: ৩:৪৭:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৭
শ্রীপুর ভোলা খেয়াঘাট থেকে গঙ্গাপুর রুটের ড্রেজিং শুরু আজ

বরিশাল: নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে এনে জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছে সরকার। এতে চলাচল যেমন সহজ ও নিরাপদ হবে তেমনি পণ্য পরিবহনেও আসবে গতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃতপ্রায় অভ্যন্তরীণ নৌ-পথসমূহের নাব্য উন্নয়ন ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌরুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরইমধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাস্তবায়নের কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে। ২৪টি নৌ-রুটের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর-ইচুলী-হাজিগঞ্জ রুটের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে ৫০ কিলোমিটার নৌপথে ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর আওতাধীন শ্রীপুর ভোলা খেয়াঘাট-গংগাপুর রুটের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের কাজ শনিবার (১১ নভেম্বর) উদ্বোধন করা হচ্ছে। যেখানে ২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮ কিলোমিটার নৌপথে (লাহারহাট-ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ভোলা পর্যন্ত) ২৮০ ফুট প্রশস্ততা এবং ১২ ফুট গভীরতায় খনন করা হবে। মোট ১১ দশমিক ৭৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের ফলে সারাবছর ধরে চার মিটার গভীরতা বিশিষ্ট নৌ-পথ হবে এটি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী নৌ-পথের ডিজাইন কাজ সম্পন্ন করে সে অনুযায়ী ড্রেজিং কাজ শুরু হচ্ছে। এ নৌপথ খনন হলে ভোলার সঙ্গে বরিশালের ও রাজধানীর সঙ্গে সারাবছর বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে নৌপথে সরাসরি এবং সহজলভ্য যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা বজায় থাকবে।

ফলে নৌ-পথে যাত্রী থেকে শুরু করে পণ্যপরিবহনকারীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌ-পথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় বাকি রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে, বরিশাল-ঝালকাঠি-বরগুনা-পাথরঘাট, ভৈরব বাজার-লিপসা-ছাতক-সিলেট, মোংলা ঘষিয়াখালী, নোয়াপাড়া-খুলনা-গাজীরহাট-বরদিয়া-মানিকদা, দিলালপুর-ঘোড়ডিঙ্গা-চাপড়ঘাট-নিকলি-আটপাড়া-নেত্রোকোনা, পাগলাজোর-মোহনগঞ্জ, মিরপুর-সাভার-জাবরা, সৈয়দপুর-বান্দুরা, হাজরাপুর-জাবরা-ঘিয়র, বরিশাল-পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ, পাবনা-নাটোর-পঞ্চগর, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, চিত্রী-নবীনগর-হোমনা, দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর, ভৈরব-কাটিয়াদী, নরসিংদী বাঞ্চারামপুর-হোমনা,মনুমুখ (মৌলভীবাজার)-কুশিয়ারা মুখ,লাওযাঘর-দুলভৃপুর, চৌকিঘাটা-কালীগংগা, হাসনাবাদ-টর্কী-ফসিলাতলা, চাঁদপুর-চরপ্রকাশ-হিজলা বরিশাল, ডালারচর-বালিয়াকান্দি-কালিয়ানী। যেখানে এক হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাধারণ ও দুর্যোগ এলাকাসহ মোট ৯৯৭ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, দেশের যেসব নৌ রুট বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে সেই রুটগুলো সচল করতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ১৯৬২-৬৭ সালের দিকে এক জরিপে বাংলাদেশে নৌপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নদীপথের সংখ্যা কমে আসলেও দেশের বর্তমান নৌপথ সচল রাখতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। নদী খননে যে পরিমাণ ড্রেজারের প্রয়োজন তার সংকট রয়েছে এখনও। তাই পর্যায়ক্রমে কাজ হচ্ছে।

এদিকে আজ শনিবার ‘শ্রীপুর-ভোলা-গংগাপুর’ নৌপথের ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ। উদ্বোধনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুক্রবার দিনগত রাতে নৌ-মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বরিশাল সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান। ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং কার্যক্রম উদ্বোধনের আগে বরিশাল নদীবন্দর ও বিআইডব্লিউটিসি’র নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করার কথা রয়েছে মন্ত্রীর।