কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সাত ভূমিহীন পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮
কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সাত ভূমিহীন পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ইনারা বেগম, হাওয়া বেগম, বিধবা খাদিজা বেগম, পারুল, মাহমুদা, শান্তনা ও তুলি-এ সাতটি ভুমিহীন পরিবারের সকল সদস্যের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নিতান্ত দরিদ্র এসব পরিবারের দিন চলে বিভিন্ন ধরনের হাইলা-কামলা ঝিএর কাজ করে। সরকার এদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং চাষাবাদ করে দুবেলা-দু’মুঠো খাবারের যোগান নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে আরও ৩০ বছর আগে। বড় বালিয়াতলী গ্রামের এসব দরিদ্র মানুষের জমি মাপজোক করে দেয়া হয়েছে।

 

দু’টি পরিবার ছোট্ট ঘরও করেছেন। বাকিরা ফি-বছর আবাদ করেন। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল সরকারি দলের পরিচয় ও প্রভাব দেখিয়ে ধান কেটে নেয়। আবার শুকনো মৌসুমে লোনা পানির প্লাবণে ভাসিয়ে দেয়। বর্তমানে এসব পরিবারের কৃষি জমি লোনা পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি নিজের জমিতে যেন না যেতে পারে এজন্য এই দরিদ্র নারী-পুরুষদের নামে তাঁদেরই জমিতে ঘের দাবি করে মাছ লুটে নেয়ার একটি মামলা করা হয়েছে।

 

এসব পরিবারের নারী সদস্যরা এখন আর জমির দখল টেকানোর লড়াই করতে করতে কোমর সোজা করতে করতে পারছে না। যখন যে সরকারের লোকজন ক্ষমতায় থাকে তাদের ছত্রছায়ায় চলে এমন দখল সন্ত্রাস। লোনা পানির প্লাবণ। কোন উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব পরিবারের সদস্যরা কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলণ করেছেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইনারা বেগম। তিনি জানান, চারটি বন্দোবস্ত কেসে পাওয়া প্রায় ছয় একর জমির দখল সরকার বুঝিয়ে দিলেও প্রভাবশালীরা জবরদখল করে ধান কাটে। এখন লোনা পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। এসব নারীদের অভিযোগ বিএনপির সময় রাজা ও আলম ধান নিত। এখন ২০১৩ সাল থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড.সাইফুল ইসলাম সোহাগসহ তার বাবা খালেক মিয়া, তাদের সহযোগী খলিল, মাকিত, রিপন, খোকনসহ একটি চক্র তাঁদের জমিজমা দখলে মরিয়া হয়ে গেছে।

 

উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সার্ভেয়ারসহ সবাই ওই চক্রের হোতা হিসেবে কাজ করে আসছে বলে তাদের অভিযোগ। সরকারের লোক হয়ে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকা দখলদারদের পক্ষে। এসব পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, অসহায় এসব মানুষের অভিযোগ সত্য।
যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এর সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তার রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার জন্য এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ওই জমি তাঁর লিজ নেয়া। ওই জমিতে ওই মহিলাদের কোন ন্যায্য দাবি নেই। এর আগে মামলা করেছে, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
উপজেলা ভূমি প্রশাসনের তদন্তেও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। যার সকল কাগজসহ প্রমাণাদি রয়েছে। জনাব, সোহাগ বলেন, এটি তাঁর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।