শিক্ষা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে গাজীপুরের প্রাইভেট স্কুলগুলো

মোঃ রবিউল করিম মোঃ রবিউল করিম

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮
শিক্ষা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে গাজীপুরের প্রাইভেট স্কুলগুলো

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রাইভেট স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে দূর্নীতি, শিক্ষা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এইসকল প্রতিষ্ঠান। ক্লাস পার্টি, সাপ্তাহিক, অর্ধ মাসিক, মাসিক, ত্রৈমাসিকসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ফ্রী বাবদ লক্ষাধিক অর্থ বাণিজ্যের মহোৎসবে মেতে রয়েছে।

কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বাৎসরিক তিনটি পরীক্ষার মধ্যে দুটি পরীক্ষা নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর কোন তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামত টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এ পরীক্ষা গুলো নিয়ে থাকে।

এসব অনিয়ম বহু বছর ধরেই চলছে গাজীপুরের প্রাইভেট স্কুলগুলোতে।গাজীপুরের শাহীন ক্যাডেট একাডেমীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন এক অভিভাবক। মুখ খোলার সাহস নেই কোন অভিভাবকদের। অবশেষে মো.মোশারফ হোসেন নামে একজন সাহসী অভিভাবক তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সব অনিয়মের কথা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গত মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যাতে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরো জানা যায়, বিদ্যালয়ের যে পরিমাণ আসন সংখ্যা রয়েছে তাঁর চার গুণ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ বছর প্রায় ১ হাজার ৮’শত শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়। যাদের মাসিক বেতন ৮’শত থেকে ১ হাজার ৮’শত টাকা পর্যন্ত। শুধু এ অর্থেও রাখব বোয়ালদের পেট ভরে না। পেট ভরাতে এবার শুরু অন্য অযুহাত। নাম তার ক্লাস পার্টি। যার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় ৪’শত টাকা। যা সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ ২০হাজার টাকারমত।

এতো টাকার একাংশও খচর হয় না তাদের এই কথিত অনুষ্ঠানে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত সেসন ফ্রী নেয়া হয়। যা সকল শিক্ষার্থীদের টাকা যোগ করলে বছরে প্রায় কোটি টাকার উপরে। ভর্তি ফ্রী নিয়ে আরো লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য হয় এই প্রতিষ্ঠানটিতে। রয়েছে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা। লক্কর ঝক্কর গাড়ী দিয়ে যাদের যাত্রা শুরু। কিন্তু ভাড়া গুণতে হয় দিগুণ। তার সাথে চালক রয়েছে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্করা।

আছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লাইব্রেরী ও স্টেশনারী দোকান। যেখান থেকে বাধ্যতা মূলক সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী ক্রয় করতে হয়। এ ক্ষাত থেকে বছরে কয়েক লক্ষাধিক টাকা আয় হয় তাদের। এতো টাকা উপার্জন করেও কোন শিক্ষার্থী যদি প্রতিমাসে বেতন ফী পরিশোধ না করতে পারে গেইটের বাইরে তাঁর স্থান।
শুধু মাওনাতেই নয় সারা শহর এমন প্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কোন কথা বলতে রাজি হননা প্রতিষ্ঠান পরিচালকগন।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আকতার জানান, বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।