দশমিনায় জাতীয় পুস্টি সপ্তাহ পালন, সতেরজন নিয়ে র‍্যালী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৮
দশমিনায় জাতীয় পুস্টি সপ্তাহ পালন, সতেরজন নিয়ে র‍্যালী
ফয়েজ আহমেদ,দশমিনা প্রতিনিধি।।
এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ” খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন” এপ্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে,
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে আজ ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীঃ তারিখে  পর্যন্ত জাতীয় পুস্টি সপ্তাহ যথাযোগ্য মর্যায় পালন করবেন সারা দেশ। দশমিনায় যার প্রথম দিনটি পালন করা হয় দায়সারা ভাবে। অথচ এ দিবসটি একটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ন দিবস।
কারন,আজও বাংলাদেশে হাজার হাজার শিশু পুষ্টিহীনতার ছোবলে পড়ে চিকিৎসাধীন রয়েছ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করিয়াছে দেশ। কিন্তু সেই বিবেচনায় সাফল্য আসে নাই মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর মতে, বাংলাদেশে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা এখন ২ কোটি ৬০ লক্ষ। এক দশক আগে ২০০৫-০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৪৩ লক্ষ। যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় পুষ্টিহীন মানুষের এই সংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাত যত্ সামান্য, তথাপি এই পরিস্থিতি দেশের সার্বিক উন্নতির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। অথচ এই জনগুরুত্বপুর্ন দিবস গুলোকে যেনতেন ভাবে পালন না করে,ব্যাপক ভাবে ঢাক ঢোল পিটিয়ে, বিশেষজ্ঞের ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এর জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরী বলে মনে করেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনকার পুষ্টি চাহিদা পূরণে কমপক্ষে তিন হাজার কিলো ক্যালরি শক্তি উত্পাদনকারী খাদ্য গ্রহণ আবশ্যক। এই জন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধসহ নানান ফলমূল ও শাক-সবজির মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। শুধু বিশেষ কোনো খাবার হইতে এই পুষ্টি চাহিদা পূরণ আদৌ সম্ভব নহে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যশক্তির প্রায় ৮০ শতাংশের যোগান আসে ভাত ও আলুজাতীয় খাবার হইতে, যাহা কোনোভাবেই একজন মানুষের প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণের পক্ষে যথেষ্ট নহে। উপরন্তু ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে রহিয়াছে এই ধরনের খাবারের প্রতি বিশেষ ঝোঁকও। তাহা ছাড়া প্রাত্যহিক জীবনেও আমরা খুব কমই বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার গ্রহণের প্রতি আগ্রহ  দেখাইয়া থাকি।  যদিও দারিদ্র্যকে এইক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয় অন্যতম একটি অন্তরায় হিসাবে, কিন্তু বাস্তবতা আমাদেরকে প্রদর্শন করে ভিন্ন চিত্র। সহজলভ্য ও সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের প্রতি অনীহা যেন আমাদেরকে সেই কথারই জানান দেয়। হইতে পারে খাবারের পুষ্টিমান সম্পর্কিত অজ্ঞতাও ইহার নেপথ্য কারণ। উদাহরণ হিসাবে বলা  যায়, নদীমাতৃক এই দেশে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণ মাছ। তাহা সত্ত্বেও কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের মাছ খাইবার পরিমাণ যথেস্ট বলা যায়না। তাইতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত হারে কমিতেছে না পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা।
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ পুষ্টিহীন। তাই পুষ্টিহীনতার বিষয়টিকে খাটো করিয়া দেখিবার কোনো অবকাশ নাই। তাহা ছাড়া জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করিতেও পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পুষ্টিহীনতার কারণে হ্রাস পায় কর্মশক্তি ও কর্মোদ্যম। জন্মগ্রহণ করে খর্বকায় প্রতিবন্ধী শিশু। বিঘ্নিত হয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি। এ প্রেক্ষাপটে পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অপুষ্টি রোধে সঠিক নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করিতে হইবে। পুষ্টিসম্মত খাদ্য গ্রহণে গড়িয়া তুলিতে হইবে জাতীয়ভিত্তিক সচেতনতা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিতে পারে। এ মর্মে দশমিনা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়েও তার  কোন বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয় নাই।